করোনার সঙ্গে বেঁচে থাকার প্রস্তুতি

আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন, সোশ্যাল ডিসট্যান্স আর লক ডাউনের মতো শব্দগুলোর সঙ্গে একটা পর্যায়ে আমাদের তেমন পরিচয় ছিল না।সময়ের আবর্তে সর্বনাশা চাইনিজ ভাইরাস কিংবা তথাকথিত কোভিড-19 করোনার সংক্রমণের আপদে-বিপদে আমরা কমবেশি চিনেছি শব্দগুলো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে সাধারণ মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়ার পর করোনা ভাইরাসের দ্রুত সরে যাওয়ার লক্ষ্মণ নাই। বরঞ্চ স্থায়ী ভাইরাসের মতো আমাদের শরীরে যুগান্তের প্রণতি নিয়ে বাসা বাঁধার অপেক্ষায় আছে এই ভয়াল ভাইরাস। রুবেলা, ভেরিওলা কিংবা এইচআইভি যেমন টিকে গেছে। আমরা যেমন এগুলোর সাথে থাকতে শিখে গেছি সেভাবে হয়তো সর্বনাশা চাইনিজ করোনাকে সঙ্গী করেই বাঁচার চেষ্টা চালাতে হবে আমাদের।

ফলে দৈনিক পত্রিকাগুলো হাঁকছে নতুন শ্লোগান, যার সামনে সব ম্লান হয়ে গিয়ে মুখে মুখে ঘুরছে “Learning to Live With Corona”। ভ্যাক্সিন আবিষ্কারে ব্যর্থ বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানকে ভেংচি কাটা যাজক-পুরোহিত-হুজুর, আবেগী গবেষক কিংবা বিবেকহীন সরকার প্রধানেরা যার যার অবস্থান থেকে সুর তুলেছেন স্ব স্ব তানপুরায়। আমাদের ভ্যাক্সিন নাই, চিকিৎসা নাই, প্রার্থনা করা বাদে পথ খোলা নাই তাই আমাদের করোনাকে সঙ্গী করেই বাঁচতে শিখতে হবে। বাংলাদেশ সরকার লক ডাউন তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের নানা দেশের নেতারা আকার ইঙ্গিতে ‘আর কতদিন’ বলে হা হুতাশ করে করোনার মৃত্যু হুতাশন উপেক্ষা করে পা বাড়িয়েছেন সেই লক্ষ্যের দিকেই। করোনাকে সঙ্গে করেই একটা নতুন, ভয়াল ও অস্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থাকে মেনে নিতে হতে পারে বিশ্ববাসীকে। আমরা পরিস্থিতির ভয়াবহতা, বিস্তৃতি, সময়কাল ও তাণ্ডব দেখে বলতেই পারি এই চাইনিজ করোনাভাইরাস পা বাড়িয়েছে প্যানডেমিক থেকে এনডেমিকের দিকে।

মহামারীর সঙ্গে সম্পর্ক  যেমন সংক্রমণের, তেমনি স্থায়ীত্ব এবং ক্ষতির প্রকৃতি তাকে প্যান্ডেমিক থেকে এন্ডেমিক বলে পরিচয় করে দেয়। স্থায়ী অসুখ তথা এন্ডেমিক হয়ে গেলে ভাইরাসটিবছরের পর বছর বিরাজ করে ভ্যাকসিন না দেওয়া মানুষকে সারা বছর বা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় আক্রান্ত করে। পৃথিবীতে ভাইরাস সংক্রমণকে প্রতিহত করার তিনটি ধাপে পরাজিত হলে তবে সেটা একটি ধাপে গিয়ে স্থায়ী হয়ে যায়।তারপর মানুষের শরীরে বিরাজ করার ফলে দাপ্তরিকভাবে স্বীকৃতি পায় এন্ডেমিক হিসেবে। নিয়ন্ত্রণ, প্রতিহতকরণ ও নিরোধের যে তিনটি ধাপ সেখানকার ব্যর্থতাই মহামারীকে এন্ডেমিকে পরিণত করে।

আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন, সোশ্যাল ডিসট্যান্স আর লক ডাউনের পাশাপাশি হাত ধোয়া কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে এত হাহাকার চিৎকারে কাজ হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অসহায়ের মতো আকাশপানে চেয়ে বলছে চাইনিজ করোনাকে সঙ্গী করেই আমাদের বাঁচতে শেখা লাগবে। কিন্তু কীভাবে বাঁচতে হবে প্রশ্ন করলে আঙ্গুল চুষতে থাকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে কোনো উত্তর দিতে ব্যর্থ।বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যেমন বিপদাপন্ন তেমনি প্রায় প্রতি পদক্ষেপে ব্যর্থ গবেষকরা এখনও তাদের আশা ছেড়ে দিতে পারেননি। রাত দিন পরিশ্রম করে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করে যাওয়া মানুষগুলো সব বিপদ উপেক্ষা করে জানিয়েছেন তারা এ ব্যাপারে বেশ আশাবাদী।  তবে করোনাকে সঙ্গী করে বাঁচতে শেখার পরামর্শটা তাদেরই।

লক ডাউনের নামে সবকিছু আটকে থাকলে ঝুঁকিতে পড়ে যান স্বল্প আয়ের প্রান্তিক মানুষ। তাদের অনাহার-অর্ধাহারের আকুতির পাশে যুক্ত হয়েছে লোভী ব্যবসায়ীদের নানা চাপ। ফলে বাংলাদেশে এখন কোনো প্রকার লক ডাউন নেই বলা যেতেই পারে। কারণ চারদিকে সীমিত পরিসরে প্রায় সব কাজই চলছে। মুদি দোকান থেকে আড়ত, শপিং মল থেকে গরু ছাগলের হাট কিংবা বিউটি পার্লার থেকে কলিকাতা হার্বাল কখনো লক ডাউন দেওয়া হয়েছে এমনটামনে হয়নি। রাষ্ট্রীয় অবস্থা শোচনীয় দেখে ছুটি দেয়া হয়েছিলো। দীর্ঘদিন হাটি হাটি পা পা করে সেই ছুটি শেষ হতে যাচ্ছে। আর গুঞ্জন উঠেছে এই ছুটির পর পরই আস্তে আস্তে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

যদি প্রশ্ন করা হয়, লক ডাউন শেষের পৃথিবী কেমন হবে? কেউ কেউ নানাবিধ ভয় দেখিয়ে চোখ রাঙাচ্ছেন। কেউ কেউ শোনাচ্ছেন আশার কথা। অনেকে দাবি করছেন সামাজিক দূরত্ব মানুষের কাছে স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ধীরে ধীরে সহনীয় হয়ে উঠবে। রেলওয়েতে ভ্রমণের জন্য টিকেট কাটার লাইন, বাসের সিটে, লঞ্চের কেবিন, ব্যাঙ্কে টাকা উত্তোলন, উপসনালয়ের প্রার্থণা, বাজারঘাট এমনকি সিনেমা হলের ভিতরেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হবে হয়তো। প্রতিদিনের পরিধেয় মাস্ক ও গ্লাভস হয়ে উঠতে পারে পোশাকের মতোই সহনীয় কোনো উপকরণ। আর সেভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার আমাদের যাপিত জীবনের অংশ হয়ে যেতে পারে বল মত দিয়েছেন অনেকে।

‘ফেইলিওর ইন সেলস’ শীর্ষক নন্দিত গ্রন্থের লেখক মো. আব্দুল হামিদ লিখেছেন ‘ওসব ছাড়াও…জীবন সুন্দর!’। তার বর্ণনায় দেখি ‘সত্যিই তো, মেমসাহেবদের কতদিন হয় বিউটি পার্লারে যাওয়া হয় না। বিখ্যাত সব স্পা অ্যান্ড পার্লারে নাম না জানা ব্র্যান্ডের মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী দিয়ে (এক্ষেত্রে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহারে পারসোনা ও ফারজানা শাকিল’স মেকওভারকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা’ ভিডিওটি দ্রষ্টব্য) এক্সটেরিয়র চুনকাম করা হয় না! ম্যাজম্যাজ করা শরীরটা চাঙ্গা করা হচ্ছে না! অনেক সাহেবেরই প্রায় ছয় সপ্তাহ হলো সেলুনে আধশোয়া হয়ে আয়েশ করে শেভ করা, চুল ছাঁটা আর সব শেষে গা-টা বানিয়ে নেয়া হয় না! স্বাভাবিক সময় হলে এটা মেনে নেয়া যেত? অসম্ভব, কিছুতেই না। আর এভাবে চলতে থাকলে কত প্রতিষ্ঠানের কর্মী-মালিকদেরই যে (আত্মহত্যা না হলেও) দেউলিয়া হওয়ার দশা হবে, তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে।’

পরিবর্তনটা আরও স্পষ্ট হয়েছে ঈদের বাজারে। এগুলো থেকে মনে হচ্ছে মানুষ পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখছে। আপনাদের হয়তো মনে আছে, কয়েক বছর আগে এমন ঈদগুলোয় ‘পাখি’ ও ‘কিরণমালা’ ড্রেস কিনে না দেয়ায় বেশ ক’টি আত্মহত্যার খবর মিডিয়ায় এসেছিল! পাখি ড্রেস কিনে না দেয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদের খবরও পড়েছিলাম। স্বাভাবিক সময়ে যদি বলা হতো—এবার ঈদে নতুন কোন পোশাক কেনা হচ্ছে না, আপনার পরিবারের সদস্যরা তো বটেই, এমনকি কাজের মেয়েটার হুংকারে বাসায় টেকা মুশকিল হতো। কিন্তু এ বছর সরকার সদয় হলেও দোকান মালিকদের ‘অসহযোগিতায়’ বুঝি নতুন ড্রেস ছাড়াই ঈদ করতে হবে! চাল-ডাল-ওষুধের মতো অনলাইনে ঈদের ড্রেস কেনার সুযোগ না থাকাটা খুবই অন্যায়, তাই না? কয়েক লাখ টাকা দামের লেহেঙ্গার ক্রেতা সোনামণি আর শখের বসে কলকাতায় শপিংয়ে যাওয়া ভাইয়া-আপুদের এবারের ঈদ যে কী নিদারুণ কষ্টে কাটবে, সমব্যথী ছাড়া তা বোঝা সত্যিই কঠিন!

কিছু কিছু শহরের দূষিত বাতাসের কারণে মাস্ক মানুষের নিত্যসঙ্গী ছিল। এবার শুধু বাড়বে তার ব্যবহারের পরিসর। একইভাবে সবখানে হাত বাড়ালেই দেখা মিলবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান কিংবা ডিটারজেন্টের। বাইক রাইডারের হেলমেট কিংবা কার ড্রাইভারের সিটবেল্টের মতো এই মাস্ক পরাও হয়তো বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে গিয়ে না আবার মোহিনী চৌধুরীর লিরিকে অনুপ ঘোষালের গান গাইতে হয় একটু বিকৃত সুরে, অন্যরকম করে- ‘করোনার তাণ্ডবে হাত ধোয়া মুখোশ পরা ভুলে কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে আইইডিসিআরে’।

আব্দুল হামিদ আরও লিখেছেন ‘করোনা না এলে জাতি জানতেই পারত না যে বাংলার ঘরে ঘরে কত্তো ভালো সব ‘নাপিত’ রয়েছে! একপর্যায়ে আমার সন্দেহ হলো—কার বউ কত ভালো চুল কাটতে পারে তার বুঝি (অনলাইন) রিয়েলিটি শো চলছে। কারণ শুধু ছবি দিয়ে অনেকেরই মন ভরছে না, ভিডিওসহ হাজির হচ্ছেন! আর যারা বেলতলা যাওয়ার প্রস্তুতি পর্বে জাতিকে জানান দিয়েছেন, তাদের কথা না হয় না-ই বললাম।’

কতদিন হয়ে গেল বেরসিক পুলিশের জন্য দুনিয়ার জটিল সব বিষয় সমাধান করা যাচ্ছে না। বাঙালি গলির মোড়ে চায়ের দোকানে বসতে না পারলে চীনই যে গোটা দুনিয়ায় ছড়ি ঘোরানোর জন্য নভেল করোনাভাইরাস ছেড়েছে, সুলতান সুলেমানের মতো মৃত্যুর পর কে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা বোঝার জন্যই কিম জন উন কয়েক দিন মরার ভান করে পড়েছিলেন, বরিস জনসন ভুল পলিসি গ্রহণের দায়ে ইমপিচমেন্টের হাত থেকে বাঁচতেই আইসিইউতে শুয়েছিলেন, ট্রাম্প যে ইনজেকশন প্রস্তাব করেছে, তা অন্তত ট্রায়াল হওয়া দরকার ছিল…এমন বিষয়গুলো সুরাহা হবে কেমনে?

তাছাড়া সিরিয়ার তিন বছরের মেয়েটা যে মৃত্যুর আগে ‘আল্লাহকে সব বলে দেয়া’র কথা ঘোষণা করেছিল, তার অভিযোগের ভিত্তিতে নাকি সাত মাস লকডাউনে থাকা কাশ্মীরি তরুণীর প্রার্থনায় (সৃষ্টিকর্তা যেন বিশ্ববাসীকে লকডাউন করে বোঝান যে তারা কতটা কষ্টে আছে) করোনা ধরাধামে এসেছে…মানবতার বৃহত্তর স্বার্থে এ বিষয়গুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও চায়ের কাপে ঝড় ওঠা অতীব জরুরি! কিন্তু পাষাণ করোনা ‘গরিবের এই পার্লামেন্ট’ বন্ধ করে দিয়ে আমাদের যে কত বড় ক্ষতি করছে, সে কি তা জানে?

যাই হোক গরীবের পার্লামেন্ট, ধনীদের আডডা আর তরুণদের খেলা ধুলা সবকিছুকে ভুলে গিয়ে শুধু জীবনটা বেঁচে যাওয়াকেই মূখ্য মনে করতে হচ্ছে এখন। তবে এই পরিস্থিতি শেষ হলে প্রথম বদলটা ঘটতে পারে লেনদেন ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে। অনলাইননির্ভর বিভিন্ন ডিজিটাল অর্থনৈতিক লেনদেন এবং মোবাইল ব্যাংকিং বৃদ্ধি পাবে নানা দিক থেকে। প্রায় সবাই প্রাণের ভয়ে জমায়েত এড়িয়ে চলবে। স্টেশন, যানবাহন, লোক সমাগম, বাজার-ঘাট ও ব্যাঙ্কে তারা যতটা পারে কম যাতায়াতের চেষ্টা করবে। কারেন্সি  হিসেবে টাকা ও মুদ্রার ব্যবহার প্রায় সবাই যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবে।

ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ধারণাটি জনপ্রিয় হয়ে যেতে পারে। পক্ষান্তরে অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষাকে সহায়ক নয় প্রধান পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করতে হতে পারে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পদ্ধতি দেখা যেতে পারে বিস্তৃত পরিসরের রদবদল। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে। তারা বলছে শিশুরা একে অপরকে স্পর্শ করতে পারবে না, এমনকি টিফিনের সময়ে একে অপরের সাথে খেলতেও পারবে না। শিশু কিশোরদের দেখা হওয়ামাত্র পরস্পর জড়িয়ে ধরা, করমর্দন করা কিংবা উচ্ছসিত হয়ে হাই ফাইভও দিতে পারবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইন এডুকেশন জনপ্রিয় হয়ে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবার  উপস্থিতির হারও কমে যাবে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিটা টেবিলে স্বাভাবিকভাবে দুই-তিন জন করে শিক্ষার্থী বসালেও করোনা শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রতি টেবিলে বসবে একজন করে।

যাতায়াত ও পরিবহন খাতের বদল হবে দৃশ্যমান। মানুষ গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করবে সব সময়।  ছোট ছোট যানবাহন নিয়ে সবাই চলতে গেলে দূষণ হবে মাত্রাছাড়া। অন্যদিকে একটি বাইক কিংবা স্কুটার তো বটেই কার নিয়েও জটিলতা একই। তবে সহজ ভাষায় বললে পরিবহন সেক্টরেও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে। অনলাইন ভিত্তিক টিকিটের বিক্রিবাট্টা বেড়ে যাবে। অন্যদিকে বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ন্ত্রণ কিংবা মাস্ক বাধ্যতামূলক আইন হতে পারে। তবে  স্থলপথ, নৌপথ, বিমানপথ সব ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ব বেড়ে যাবে। ক্ষেত্র বিশেষে স্থানিক পরিসরে থার্মাল স্ক্রিনিং শুরু হতে পারে।

শ্রমিকের রক্ত চুষে খাওয়া নীলকরদের যে একুশ শতকের ভার্সন তারা শিল্পকে আর নিজের হাতের মুঠোয় রাখতে পারবে না। কথায় কথায় হুমকি ধামকি দিয়ে জামালপুর, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ থেকে মানুষকে হাটিয়ে মারার বদলে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করাকে গুরুত্ব দেয়া হবে। আদতে বেশিরভাগ শিল্প কারখানাও অনেকটাই বদলে  যেতে বাধ্য । অন্যদিকে সরকার হয়ত স্ব স্ব স্বাস্থ্য ও সেবাখাতের পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দিতে পারে যেখানে পরীক্ষণ অনেক বৃদ্ধি পাবে।

ড. মো. আদনান আরিফ সালিম
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
(Visited 15 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *