সবাইকে কেন গবেষক হতে হবে?

‘ঠ্যাং ছিঁড়িয়া দিলে আরশোলা কানে শুনিতে পায় না’। হুট করে কেউ যদি এমন কথা আপনার সামনে বলে বসে এবং পাশাপাশি নিজেকে গবেষক দাবি করে কেমন লাগবে? আপনি ভাবতে পারেন এ কেমন গবেষণা। যা-ই হোক, কাজকর্ম না থাকলেও অন্তত এ ধরনের গবেষণা কেন করতে হবে? সত্যিই তো তাই! কথাগুলো শুনে আমি নিজেও হতচকিত হয়ে গিয়েছিলাম। হোমপেইজ স্ক্রল করতে গিয়ে সেদিন চোখে পড়ল একসময় বিতর্কিত হয়ে ওঠা ব্লগার এবং লেখক ত্রিভুজ আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাস। বাক্যটি অদ্ভুত লাগতে সেখানে প্রশ্ন করেছিলাম, উত্তর পেলাম বেশ ব্যাখ্যাসহ। তিনি লিখলেন, ‘একবার এক গবেষক আরশোলার একটা ঠ্যাং ছিঁড়ে দিয়ে বললেন, আরশোলা, দৌড়া তো! আরশোলা বেচারা এক ঠ্যাং হারানোর বেদনা নিয়ে পড়িমরি করে দৌড়! তারপর গবেষক আরশোলাটাকে ধরে এনে আরেকটা ঠ্যাং ছিঁড়ে দিয়ে বললেন— দৌড়া! আরশোলা আবার দৌড় দিল। তারপর ওই গবেষক আরশোলার বাকি ঠ্যাংগুলো ছিঁড়ে দিয়ে— আরশোলা, এবার আবার দৌড়া! আরশোলা এবার চুপচাপ পড়ে রইল। এর পরদিন সকালে ওই গবেষক ফলাফল হিসেবে লিখলেন, ‘সকল ঠ্যাং ছিঁড়িয়া দিলে আরশোলা কানে শুনিতে পায় না’। অনেক হতাশার অভিব্যক্তি নিয়ে কথাগুলো ফুর্তিচ্ছলে বলা যায়, তবে মূল পরিস্থিতি হিসাব করতে গেলে দেখা যায়, ভয়াবহতার বিপত্সীমা অতিক্রম করে গেছে আজ থেকে অনেক অনেক আগে। অন্তত সাম্প্রতিক সময়গুলোতে কথিত গবেষণার নামে যে ছেলেখেলা হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন গবেষক মনের খেদ নিয়ে বলেই বসেছেন, ‘বাংলাদেশে কয়েকটি জায়গা থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক চুরি করলি উহা গবেষণা বলিয়া পরিগণিত হইবে। অন্যদিকে কেহ যদি সূত্র উল্লেখ না করিয়া এক স্থান হইতে চুরি করেন তিনি চোর বলিয়া পরিগণিত হইবেন’। সবক্ষেত্রে সাধুভাষা ব্যবহারকারী এ লেখকের অনেক লেখা নিয়েও যেখানে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সেখানে তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রাপ্তিই প্রমাণ করে আমরা কতটা দৈন্যদশা অতিক্রম করছি গবেষণার ক্ষেত্রে।

এদিকে কুম্ভিলকবৃত্তি নিয়ে কথা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। ইংরেজিতে বহুল ব্যবহূত প্ল্যাগারিজ কিংবা কারো কারো উচ্চারণে প্লেজারিজম শব্দটিকে অমন কঠিন বাংলা করার প্রয়োজন নেই। এটাকে এক অর্থে নকলবাজি হিসেবে মেনে নেয়া যেতেই পারে। বাংলা একাডেমির অভিধানে যে কঠিন শব্দবন্ধ ‘কুম্ভিলকবৃত্তিকে’ ঠাঁই দেয়া হয়েছে এর কুপ্রভাব যে তার থেকেও ঢের বেশি। আর এ প্রভাব থেকে খোদ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম, তিমির হননের কবি জীবনানন্দ দাশ কেউই মুক্ত নন। বাংলাদেশের সবচেয়ে নন্দিত সায়েন্স ফিকশন লেখকের বিরুদ্ধে ঢের অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাকি ইংরেজি সায়েন্স ফিকশনগুলো সরাসরি অনুবাদ করেন; কিন্তু মূল লেখকের নাম সেখানে উল্লেখ করেন না। দেশের একজন নন্দিত চিন্তাবিদের অনেক বিখ্যাত একটি বই বের হওয়ার পর সমালোচকরা দাবি করেছেন, সেই বইয়ের এক চ্যাপ্টারের অনেকাংশ নাকি বিশ্বনন্দিত লেখক ‘প্রফেসর অব টেররখ্যাত’ এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাইদের ‘কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম’ থেকে ঝেড়ে দেয়া।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিশেল ফুঁকোর নিবন্ধ থেকে পাতার পর পাতা নকল করার অভিযোগ এনে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। এ চিঠিতে নকলের অভিযোগ আনা হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি তথা অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের নামে। এ চিঠির ভাষ্য ধরে বলতে গেলে ‘উপরোক্ত দুজন শিক্ষক ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুঁকোর একটি লেখার কিছু অংশ নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। দার্শনিক ফুঁকোর বিখ্যাত সেই নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে এটি প্রকাশ করা হয়েছিল আজ থেকে বহু বহুদিন আগে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, আমরা যারা প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস কিংবা নৃবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান থেকেও পাঠ নিই; আমাদের বৈষয়িক লেখাপড়ার অংশ হিসেবেই অবশ্যপাঠ্য নিবন্ধ এটি।

অপ্রাসঙ্গিক অনেক আলোচনার মধ্য দিয়ে বিষয়টিকে ঘোলাটে করে তোলার একটা প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে সম্প্রতি। বিশেষত সবার বলার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, একমাত্র ওই দুই শিক্ষক এ কাজ করেছেন আমরা যাঁরা শিক্ষকতা, লেখালেখি কিংবা গবেষণায় জড়িত, আমরা সবাই এর চেয়ে পুরোপুরি মুক্ত। যাহোক, ধূসর স্মৃতিচারণ নতুন করে ফিরে এলে বলা যায়— ‘আমাদের তত্ত্বচিন্তাবিষয়ক কোর্সটি পড়াতেন মাসউদ ইমরান মান্নু স্যার। তিনি অন্য যেকোনো কোর্সের তুলনায় এ কোর্সটিকে দুর্বোধ্য আর কঠিন করে তুলেছিলেন। অন্যভাবে বলতে গেলে এ কোর্সটিতে চিন্তার খোরাক ছিল, অনেকের জন্য চিন্তা করার সুযোগও ছিল। বলা বাহুল্য, এ ধরনের তত্ত্বচিন্তা ও তত্সংশ্লিষ্ট আলোচনা আমাদের কারো জন্য যেমন তুমুল আনন্দের উপলক্ষ, অনেকে এখানে বিরক্তির শেষ সীমাতেও উপনীত হতেন। শিক্ষার্থী হিসেবে সাবজেক্টিভিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে জেরবার করে ছাড়ছিলাম পর পর দুই ক্লাসে। স্যার বাধ্য হয়ে এ নিবন্ধটি পড়ার জন্য পরামর্শ দিলেন। আমরা কেউ কেউ এ নিবন্ধটি নিজ আগ্রহ নিয়ে প্রায় পুরোটা পড়েও ফেলেছি তখন।’ মিশেল ফুঁকোর বহুল আলোচিত এ প্রবন্ধটি এত দিন পর আলোচনায় আসবে তত্ত্বচিন্তা নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের জন্য বিষয়টি বেশ আনন্দের হওয়ার কথা। উপরন্তু আমরা যখন শুনতে পাচ্ছি এ চিরচেনা নিবন্ধ থেকেই এক-দুই লাইন নয়, পাতার পর পাতা কম্পিউটার মাউস দিয়ে টেনে ধরে কপি-পেস্ট করা হয়েছে, সেটা অবশ্যই সুখকর নয়।

এ ধরনের দুর্ঘটনার বলি হয়ে দু-একজন শিক্ষকের পদ থেকে অবনমিত হবেন, কেউ কেউ চাকরিচ্যুত হবেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর থেকে মুক্তি মিলবে কি মিলবে না, এমন প্রশ্ন রয়েই যাবে। দোষীকে নিয়ে মেতে থাকলে আর যা-ই হোক, অন্তত সমাধান বের করা বেশ কঠিন হয়ে যায়। সবাই দোষারোপ আর শাস্তি নিয়ে ভাবছেন, কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছেন যে, সবাইকেই গবেষক হতে হবে কেন? কারণ গবেষক বাদেও শিক্ষক হওয়া যায়। আমরা বিভিন্ন ধরনের শিক্ষক পাই বিশ্বের নানা দেশে। এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককেই যে গবেষক হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বিশেষ করে একটি অনলাইন যেখানে বলছে শিক্ষক মূলত নয়টি বিশেষ ধরনের হতে পারেন। সেখানে ক্লাব ফোকাসড (Club-Focused), পারসোনাল লাইফ অবসেসড (Personal Life-Obsessed), বয়োবৃদ্ধ (Extremely Old), অলস (Lazy), প্রশিক্ষক (Coach), ক্ল্যু লেস (Clueless), সুপার স্ট্রিক্ট (Super-Strict), অতি চ্যালেঞ্জিং (Too-Challenging) কিংবা হাস্যরসিক (Funny) শিক্ষকের কথা বলা হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলেও সত্য, সেখানে বলা হয়নি শিক্ষককে অবশ্যই গবেষক হতে হবে। সবচেয়ে মজার বিষয়— অভিধানগুলোতে শিক্ষকের সংজ্ঞা বলতে যা লেখা হয়েছে, সেখানে কোথাও বলা হয়নি শিক্ষককে অবশ্যই গবেষক হতে হবে। উপরন্তু বলা হয়েছে যিনি শিক্ষাদান করবেন, তিনি শিক্ষক আর যিনি নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর জ্ঞান আহরণের জন্য বৈজ্ঞানিক ও বিধিবদ্ধ পদ্ধতিতে কাজ করবেন, তিনি গবেষক।

বিশ্বের নানা দেশে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তির পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুই ভাগে বণ্টন করে ফেলা হয় তাদের দায়িত্ব। একটি বিশেষ শ্রেণীর শিক্ষক গবেষণাকর্মে যুক্ত থেকে নিত্যনতুন জ্ঞান উত্পাদনে যুক্ত থাকেন। এর বাইরে অন্য শিক্ষকদের কাজ থাকে শ্রেণীকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা। একজন শিক্ষকের উপস্থাপন সক্ষমতা তেমন ভালো না-ও হতে পারে। তবে তিনি গবেষক হিসেবে অনন্য এবং স্বমহিমায় উজ্জ্বল হতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেও তাকে আর শ্রেণীকক্ষের পাঠদানে যুক্ত হতে হয় না। পক্ষান্তরে অপেক্ষাকৃত কম গবেষণা ও বৈষয়িক সক্ষমতার অনেক শিক্ষকের উপস্থাপন দক্ষতা তার থেকে বহুজ্ঞানী একজন শিক্ষকের চেয়েও উন্নত হতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি শিক্ষক হিসেবে শুধু শ্রেণীকক্ষের পাঠদানে যুক্ত থাকেন। তিনি দিনের পর দিন নিজের পাঠদান সক্ষমতারই ধারাবাহিক উন্নয়ন ঘটাতে চেষ্টা করেন। ঠিক সেদিকেই তাঁর দৃষ্টি থাকে, যেদিক থেকে উন্নত পাঠদান সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের উপকৃত হবে। অবাক করার বিষয় হলেও সত্য, বাংলাদেশের কাউকে শিক্ষক হলে তাকে অনিবার্যভাবে গবেষক হতে হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কারো যোগদানের পর অনিবার্যভাবে তাকে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, দুটো সমস্যা অনেকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে গবেষণায় পুরোপুরি যুক্ত হয়ে পড়েন, ফলে তার পক্ষে শ্রেণীকক্ষে উপযুক্ত পাঠদান সম্ভব হয় না। অন্যদিকে কেউ কেউ শ্রেণীকক্ষের পাঠদানে অনেক সক্ষম হলেও গবেষণার কিছুই করতে পারেন না। এর বাইরে আরেক বিশেষ শ্রেণীর শিক্ষকও যুক্ত হতে দেখা যায় একমাত্র মোসাহেবি যাদের মূল সক্ষমতা, যেখানে শিক্ষাদান কিংবা গবেষণা কোনোটাই গুরুত্ব পায়নি; অবশ্য সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।

পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যখন একজন গবেষক শিক্ষার্থীদের ওপর জোর করে তার জ্ঞানের ভার চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে তার সমস্যা হোক বা না হোক, ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থী। অন্যদিকে যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েও গবেষক হয়ে উঠতে পারেননি, তাদের সামনে একমাত্র পথ খোলা থাকে অন্য কারো গবেষণাকে নিজের মতো করে আত্তীকরণ। আর এক্ষেত্রেই ঘটছে যত বিপত্তি। বিশেষ করে সম্প্রতি অভিযুক্ত শিক্ষকদ্বয়ের একজন নন্দিত মিডিয়াকর্মী। তার উন্নত বাচনভঙ্গি এবং উপস্থাপনার সক্ষমতা প্রমাণ করে— তিনি পাঠদানকারী হিসেবে যথেষ্ট সক্ষম ও যোগ্য। কিন্তু বিপত্তি তৈরি হয়েছে তার গবেষণা করতে গিয়ে। এক্ষেত্রে তিনি মিডিয়াকর্মী হিসেবে ক্যারিয়ার ধরে রাখার পাশাপাশি শিক্ষক পরিচয়ও ধরে রেখেছেন। পক্ষান্তরে পদোন্নতির শর্ত পূরণ করতে গিয়ে দ্বারস্থ হয়েছেন মিশেল ফুঁকোর। কিন্তু বাংলাদেশে শুরু থেকেই যদি শিক্ষকদের দুটি ভাগ থাকত। সেখানে যদি এমন কোনো শর্ত থাকত যে, গবেষক শিক্ষকরা চাইলে ক্ষেত্রবিশেষে ক্লাস করাতে পারবেন এবং তার জন্য উপযুক্ত সম্মান ও সম্মানী দুটোরই ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে যারা শুধু পাঠদানকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করবেন, তাদের যা-ই হোক, অন্তত প্রতিটি কর্মদিবসে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে কোনো গবেষণার প্রয়োজন ছিল না, শ্রেণীকক্ষে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা যেত তাদের। বিশেষত, পাঠদানকারী শিক্ষকদের প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের যেমন উপকার করত, তেমনি তারা বাড়তি আয়ের জন্য অন্য কোথাও চাকরির সুযোগ পেতেন না।

ব্যক্তি আক্রমণের বদলে সমস্যাগ্রস্ত সিস্টেম নিয়ে কথা বলার সময় হয়েছে। বিশেষ করে পাঠদানকারী শিক্ষকের ক্ষেত্রে যদি তার চাকরির শর্ত হিসেবে প্রতিদিন কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যেত, তিনি একাধারে দুদিক থেকে উপকৃত হতেন। প্রথমত. কোনো বেসরকারি টেলিভিশনে বসে অলস সময় পার করার সুযোগও তার থাকত না, পক্ষান্তরে বাধ্যতামূলক গবেষণার নামান্তরে তাকে মিশেল ফুঁকো, নোয়াম চমস্কি কিংবা এডওয়ার্ড সাইদের লেখা থেকে চুরি করতে হতো না। মৌলিক গবেষণা থেকে আমাদের পশ্চাত্পদতা দূর করার পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষের পাঠদানকে শিক্ষার্থীবান্ধব করার জন্য আমাদের এখনই এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। নচেৎ শ্রেণীকক্ষের পাঠদান বাদ দিয়ে দুষ্কৃতিকারী শিক্ষকরা গিয়ে বাইরের নানা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে খণ্ডকালীন চাকরি করবেন। বিভাগের শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের ক্লাস থেকে যেমন বঞ্চিত হবেন, তেমনি পাঠদানের নামে গবেষকরা তাদের সামনে উপস্থিত হবেন যন্ত্রণার নামান্তর হয়ে। এ যুগপথ যন্ত্রণার শাপমুক্তির জন্য এখনই আমাদের উচিত উচ্চশিক্ষাকে অন্তত দুভাগে ভাগ করে ফেলা। তার ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন ভালো পড়াতে পারেন, এমন শিক্ষকের ক্লাস পাবেন। তেমনি গবেষকরা পাঠদানের নামে ক্লাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ক্ষুদ্রজ্ঞানে বিকাশমান মস্তিষ্কের ওপর অনর্থন চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরতি দিতে বাধ্য হবেন। সবমিলে এ সামান্য একটু সংস্কারে একাধারে উন্নত হবে আমাদের শিক্ষাখাত, উপকৃত হবে প্রিয় স্বদেশ আর একই সঙ্গে চৌর্যবৃত্তির যে নষ্ট সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকেও মুক্তি মেলা সম্ভব আমাদের।

(Visited 33 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *