Home ইতিহাস কোয়েলহোর কলমে মাতা হারির ফিরে আসা

কোয়েলহোর কলমে মাতা হারির ফিরে আসা

মরতে হয়েছিল মাতা হারিকে। ফরাসি সৈন্যদের হাতে প্রাণ দেয়ার আগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে জার্মানদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির। একজন নন্দিত নর্তকী এ দেশ থেকে সে দেশ ঘুরে বেড়াবেন, সেটাই স্বাভাবিক। যেমন এখনকার দিনে ম্যাডোনা থেকে শুরু করে শাকিরা, জেনিফার লোপেজ, টেইলর সুইফট কিংবা সেলেনা গোমেজ পর্যন্ত ভৌগোলিক সীমার ধার না ধেরে বিশ্বের সব প্রান্তে প্রায় সমান জনপ্রিয়। মাতা হারির জন্মটা বোধহয় বড্ড অসময়ে। সর্বৈব জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে কোথায় তার ওই যুগের ম্যাডোনা কিংবা শাকিরা হওয়ার কথা, সেখানে সেটাই সহাস্যে তার প্রাণদানের উপলক্ষ হবে কে জানত। আর বলতে গেলে গুপ্তচরবৃত্তির দায়টা স্বীকার-অস্বীকারের দোলাচলে শেষ হয়ে যায় বিচার। সেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ পর্যন্ত পায়নি সে। ফরাসি সৈন্যদের অভিযোগ থেকে যা জানা গেছে, সে হিসেবে রুমে পাওয়া বিশেষ কালিই কাল হয়। যদিও মাতা হারি ওই কালিকে তার মেকআপের অংশ বলে দাবি করেছে।

একটা মিসরীয় প্রবাদে পড়েছিলাম, ‘মৃতের নাম বারবার নিলে সে বেঁচে ফেরে বর্তমানে।’ বর্ণিত সে প্রবাদ যে উপাখ্যানই তুলে ধরুক, সেটা ভিন্নকথা। অন্তত ইতিহাস বিশেষ সময়ের সাক্ষী দেয়, যাকে কেউ কেউ ক্ষোভ থেকে বলেন বিজয়ীর বিজয়গাথা ভিন্ন কিছু নয়। আর তাই তো মাতা হারির হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস থেকে কল্পকথা-গল্পগাথায়ই স্পষ্ট হয়েছে বেশ ভালোভাবে। ব্রাজিলের লেখক পাওলো কোয়েলহো যখন তার জনপ্রিয় উপন্যাস ‘দ্য স্পাই’ লেখার জন্য কলম হাতে নিয়েছেন, কী চিন্তা ঘুরপাক খেয়েছে তার মনে, কে রেখেছে সে খবর। তবে তার উপন্যাসের শুরুটাই হয়েছে মাতা হারির হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে। বলতে গেলে মৃত্যুর ঘটনাকে উপলক্ষ করে জনপ্রিয় এ লেখকের বিষাদবর্ণনেই ইতিহাস থেকে মাতা হারির পুনর্জীবন লাভ। তবে এর বছর নয়েক আগে ইয়ানিক মার্ফিও বেশ যত্ন করে লিখেছিলেন আরেকটি উপন্যাস ‘সাইনড মাতা হারি’। হয়তো তিনি জনপ্রিয়তার দিক থেকে পাওলো কোয়েলহোর চেয়ে পিছিয়ে থাকায় বইটি নানা ভাষায় অনূদিত হয়ে বিশ্বজোড়া খ্যাতি বয়ে আনতে পারেনি। যা-ই হোক, ইতিহাস প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থী হিসেবে কোর্স কারিকুলামের বাইরেও দেশ-বিদেশের নানা বই পড়তে হয়েছে। পরে বৈষয়িক লেখালেখি শুরু করলে আরও বিস্তৃত হয় পাঠাভ্যাসের পরিসর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্বের অধ্যাপক একেএম শাহনাওয়াজ স্যারের সহলেখক হিসেবে দুই খণ্ডে ‘আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস’ লেখার কাজে যখন হাত দিয়েছিলাম, বুঝে উঠতে পারিনি এত কিছু পড়তে হবে। এত সময় সেখানে ব্যয় করতে হবে। দ্বিতীয় খণ্ডের কাজ এগিয়ে চলার এক পর্বে কয়েকজন আকৃষ্ট করার ব্যক্তিত্ব পাওয়া যায়। এর মধ্যে ‘বেন ক্লাউটিং’, ‘মাতা হারি’, ‘ফ্লোরা স্যান্ডেস’, ‘গ্যাব্রিলো প্রিন্সিপ’ ‘ডরোথি লরেন্স’ ‘মারিয়া বোস্কারেভা’ প্রমুখ সম্পর্কে বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়েছিলাম।

প্রচলিত ইতিহাসে ঠুনকো ঘটনাগুলো হরহামেশা হারিয়ে যায় নিতান্ত বেখেয়ালে। বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে বিচারের নামে ঠাণ্ডা মাথায় মাতা হারির হত্যাকাণ্ড হয়তো এভাবেই চাপা পড়ে যেত কালের গর্ভে। তবে একজন কথিত দুর্ধর্ষ স্পাই আর বিশ্বনন্দিত জাভানিজ নর্তকী মাতা হারিকে সময় মনে রেখেছে নানা কারণে। বাচনিক ইতিহাস কিংবা গল্প-উপন্যাস তো বটেই, তাকে নিয়ে হয়েছে বেশকিছু চলচ্চিত্র, যেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অনেক নন্দিত অভিনেত্রী। ১৯৮৫ সালের দিকে পরিচালক কার্টিস হ্যারিংটন জোয়েল জিস্কিনের গল্পকে রূপ দিয়েছিলেন ‘মাতা হারি’ নামের চলচ্চিত্রে। সেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন ওলন্দাজ অভিনেত্রী সিলভিয়া ক্রিস্টেল, ল্যাডক্সের নামে অলিভার তোবিয়াস আর কার্ল ফন বেয়ার্লিং চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে কিস্ট্রোফার ক্যাজেনভকে। সময় হিসেবে চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে বেশ ভালোই সাড়া জাগাতে পেরেছিল। এর পর ব্রিটিশ চলচ্চিত্রকার সোফি ফিয়েনেস একই নামে চলচ্চিত্র বানানো শুরু করেছিলেন ২০১৫ সালের দিকে। সেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করার কথা মেক্সিকোর লাস্যময়ী সালমা হায়েকের। তবে এত কথকতার আড়ালে ঠিক অতটা আলোচনায় আসেনি মাতা হারির নামটা। ঠিক যতটা আলোচনার পাদপ্রদীপে এসেছে ব্রাজিলের লেখক পাওলো কোয়েলহোর উপন্যাস ‘দ্য স্পাই’ প্রকাশের পর।

বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে যাঁরা ইংরেজির বাইরে লাতিন ও আফ্রিকার সাহিত্য নিয়ে এক-আধটু খোঁজখবর রাখেন, কিংবা যাঁরা অনুবাদ সাহিত্যের অনুরাগী, তাঁদের চোখে ‘পাওলো কোয়েলহো’ আর ‘আলকেমিস্ট’ সমার্থক। এর পর ধীরে ধীরে ‘ইলেভেন মিনিটস’, ‘আলেফ’, ‘ব্রাইডা’, ‘পোর্তেবেল্লোর ডাইনি’, ‘দ্য ডেভিল অ্যান্ড মিস প্রাইম’, ‘ভেরোনিকা ডিসাইডস টু ডাই’, ‘উইনার স্ট্যান্ডস অ্যালোন’, ‘ম্যানস্ক্রিপ্ট ফাউন্ড ইন আক্রা’, ‘অ্যাডাল্ট্রি’, ‘দ্য ফিফথ মাউন্টেন’, ‘মাকতুব’, ‘দ্য জহির’ কিংবা ‘বাই দ্য রিভার পিয়েদ্রা আই স্যাট ডাউন অ্যান্ড ওয়েপ্ট’-এর সঙ্গে পরিচিত হয় পাঠক। সম্প্রতি বলিউড নায়ক শাহরুখ খান তার মুখের সামনে পাওলো কোয়েলহোর একটি বই ধরে ছবি তুলে সেটা পোস্ট করেন তার টুইটারে। শাহরুখ খানের পোস্ট করা ছবির এ বইটি ‘দ্য স্পাই’। বলতে গেলে চলতি দশকে ‘মাতা হারি’ নতুন করে আলোচনায় এসেছে এ বইটি প্রকাশের পর থেকেই।

মালয় শব্দ থেকে তার নাম ‘মাতা হারি’। ‘মাতা’ বলতে সেখানে চোখকে বোঝানো হয়েছে এবং ‘হারি’ আর কিছুই নয়, দিবালোক তথা সূর্যের প্রতিচ্ছবি। এদিক থেকে নামের অর্থে মেয়েটির প্রতিরূপ হয় ‘সূর্যের চোখ’। আর কেউ চাইলে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘ময়ূরাক্ষী’র আদলে ‘অরুণাক্ষী’ বলতেও বাধা কোথায়? মার্গারিতা গ্রিতুইদা জেলে পারিবারিক নামের মাতা হারি পেশার দিক থেকে প্রতিভাময়ী ওলন্দাজ নর্তকী। তবে তার এ পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যায় গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টা। প্রথম মহাযুদ্ধ চলাকালীন এ অভিযোগেই ফরাসি ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে প্রাণ দিতে হয়েছিল তাকে। তবে আজ অবধি মাতা হারির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি ফরাসিরা। বিশেষ করে ফ্রান্স সরকার আজও কেন মাতা হারির মৃত্যু-সম্পর্কিত নথিপত্র প্রকাশ করতে চায় না, সেটা অনেক বড় প্রশ্ন। আশৈশব মাতা হারির জীবন বিশ্লেষণ করলে তাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে একজন নৃত্যশিল্পী বলেই মনে হয়। আরেকটু স্পষ্ট করে বললে এখনকার শাকিরা কিংবা ম্যাডোনার চেয়ে ভিন্ন কিছু হওয়ার কথা নয় তার জীবন। তবে নারীবাদীরা অহেতুক বিতর্ক তুলে পুরুষতান্ত্রিকতা, সমাজ আর ইতিহাসকে যেভাবে মুখস্থ ধিক্কার দিতে অভ্যস্ত, তার সঙ্গে মাতা হারির জীবনকে মেলানোর সুযোগ নেই। একজন নৃত্যশিল্পী মাতা হারিকে যতটা রহস্যময় বলে উপস্থাপন করা হয়, আসলে ততটা রহস্যময় নয় তার জীবন। এক্ষেত্রে যুদ্ধকালীন হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করতেই ফরাসিরা মাতা হারির উত্থান-পতনে পরিপূর্ণ বিচিত্র জীবনকে আরও রহস্যময় ও ঐন্দ্রজালিক করে তুলেছিল।

আজ থেকে প্রায় সার্ধশত বছরের ইতিহাস। ১৮৭৬ সালের ৭ আগস্ট। হল্যান্ডের লিউওয়াডেন শহরে জন্ম নেয় মার্গারিতা গ্রিতুইদা জেলে, যাকে আমরা মাতা হারি নামে চিনেছি। জাভা দ্বীপের অধিবাসী মা আর ওলন্দাজ বাবার সন্তান হিসেবে মার্গারিতার চোখে-মুখে প্রকাশ পায় অন্য রকম এক লাবণ্য। তখনকার ইন্দোনেশিয়া ছিল ওলন্দাজ উপনিবেশ, যা এত দূরের ভৌগোলিক ব্যবধান কমিয়ে এনে মার্গারিতার মা-বাবাকে এক করেছিল অভিন্ন ছাদের নিচে। মার্গারিতার টুপি ব্যবসায়ী বাবার আর্থিক অবস্থা বেশ সচ্ছল ছিল। শৈশবে ভালো স্কুলে পড়ার সুযোগও হয়েছিল তার। আর সেখানেই নাচ-গানে অদ্বিতীয়া শিল্পমনা মার্গারিতার বেড়ে ওঠা। অনেক শিল্প বিশ্লেষকের লেখা পড়তে গিয়ে দেখেছি, তারা বলতে চাইছেন শৈশব থেকে আয়ত্তে আনা মার্গারিতার শৈল্পিক মন বেশ ভালোভাবেই প্রভাব বিস্তার করেছিল পরবর্তীকালে নৃত্যশিল্পী হিসেবে বিকশিত জীবনে।

আনলাকি থার্টিন। হরহামেশা এই কথাটা বলতে শোনা যায় অনেককেই। তবে ১৩ বছরের মার্গারিতা তার মা-বাবার সংসারে যে বিপর্যয় নেমে আসতে দেখেছে, তার তুলনা চলে কার সঙ্গে? এ জঘন্য সময়টাতে তার বাবা দেউলিয়া হয়ে যায়। আর্থিক অনটনে ভাঙন ধরে তাদের সুখের সংসারে। হঠাত্ কোত্থেকে যেন একটা অভিভাবক জুটে যায়। তারই সাহায্য নিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায় কিশোরী মার্গারিতা। কিন্তু বিধি বাম। সুযোগ পেয়ে একদিন তার স্কুলের হেডমাস্টারই পাশবিক লালসা চরিতার্থ করে তার ওপর। কিশোরী মার্গারিতার ওপর ঘটে যাওয়া সে যৌন নির্যাতনের পর তার লেখাপড়া আর শেষ হয়নি।

উত্থান-পতনে বিরহ-বিবাগী পাঁচটি বছর কেটে যায় বেশ অবহেলায়। বেড়ে গিয়ে তখন মার্গারিতার বয়স আঠারোর কোটায়। লাস্যময়ী মার্গারিতার নিটোল সৌন্দর্যে চোখ পড়ে অনেক বুভুক্ষু শরীরী প্রেমিকের। তারা চারপাশে ভিড় জমানো শুরু করতেই সে বুঝে যায়, ভয়ানক পৃথিবীটায় বড্ড একা লাগছে তার। একটা সময় এসে সে তার অভিভাবককেও অবিশ্বাস করতে শুরু করে। বিজ্ঞাপন চোখে পড়ার পর সাড়া দেয় সে। সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার। ওলন্দাজ সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ক্যাম্পবেল ম্যাকলয়েড তার থেকে বছর বিশেকের বড়। এতে কী এসে যায়, শেষ পর্যন্ত ১৮৯৫ সালের ১১ জুলাই বিয়েটা হয়েই যায় তাদের। চার মাসের মাথায় স্বামীর সঙ্গে হানিমুনে সেই জাভা। এর পর মার্গারিতার গর্ভে জন্ম নেয় এক ছেলে ও একটি মেয়ে।

উপমহাদেশের বেশির ভাগ চলচ্চিত্রের গল্প যেমনটা হয়। ঠিক বিয়ের পর থেকে দেখানো হয় ‘অতঃপর তারা সুখে-শান্তিতে বাস করতে থাকল’। সেভাবে ভাবতে গেলে স্বামী-সন্তান নিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে সুখী থাকার কথা ছিল তার। তবে একটা নির্মম দুর্ঘটনায় থমকে দাঁড়ায় তার জীবন। মার্গারিতার সন্তান দুটিকে লালন-পালনের দায়িত্ব বর্তেছিল এক সেবিকার ওপর। ওই সেবিকার প্রেমিক হয়তো ভেবেছিল, তার প্রেয়সী তাকে যে সময় দেয়ার কথা তা অনর্থ ব্যয় করছে দুই পিচ্চিকাচ্চার ওপর। ক্ষিপ্ত হয়ে সে অবুঝ শিশু দুটিকে বিষ খাইয়ে দেয়। বিধির নির্মম খেলায় ছেলেটি মারা গেলেও শেষ পর্যন্ত ধুঁকতে ধুঁকতে বেঁচে ওঠে মেয়েটি। এর পর থেকে আর শান্তির দেখা মেলেনি তাদের সংসারে। সবখানে অসহনীয় নিনাদ করে ওঠে এক ভাঙনের প্রতিধ্বনি। ছেলে হারিয়ে হতবিহ্বল মার্গারিতা লক্ষ করে, তার স্বামী কীভাবে লাগামহীন মাদকতায় নিজেকে সঁপে দিয়ে জীবন থেকে মুক্তি চাইছে। দিনের বেশির ভাগ সময় মদ গিলে বেহুঁশ স্বামীর সঙ্গে সংসার করা কতটা কঠিন সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝেছিল সে। তার পর মার্গারিতা আর ক্যাম্পবেলের সংসারটা ভেঙে যায় ১৯০৬ সালে। তবে দুর্ঘটনা জয় করে বেঁচে থাকা মেয়েটিকে আর কাছে পাওয়া হয়নি তার, যেটা অবশ্য অন্য এক গল্প।

স্বামী-সন্তানহারা মার্গারিতা অসহ্য পৃথিবীতে আবার একা। নির্মম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সে নিজেকে পুরোপুরি বদলে নিতে চেয়েছিল। আর এজন্যই তার নাম বদলে মাতা হারি রাখতে দেখা যায়। জাভা-ওলন্দাজ রক্তের স্রোত শরীরে বইছে যার, তাকে নতুন করে চিনে নেয়ার হয়তো ঢের বাকি ছিল বিশ্বের। জাভা থেকে শেখা নাচ, শিল্পে দেদার আগ্রহ আর নতুনত্ব তাকে পথ দেখায়। শৈশবে শেখা নাচ আর সময়ের আবর্তে অর্জিত উত্কর্ষ তাকে নেদারল্যান্ডস তথা আমস্টারডামের সীমারেখা ছাড়িয়ে এনে দেয় এক বৈশ্বিক পরিচিতি। নৃত্যের ছন্দ তুলে সদলবলে বার্লিন থেকে প্যারিস ছুটে চলা হয়ে যায় তার নিত্যদিনের রুটিন। রাজসিক ছন্দের নৃত্য প্রতিভার সঙ্গে অদ্ভুতুড়ে নাম মাতা হারিও হয়তো আপ্লুত করেছিল তখনকার ইউরোপকে। আর হয়তো সব মিলিয়ে এত রহস্যের সূত্রপাত সেখানেই অন্তর্নিহিত।

এখনকার যুগে যেমন রুশ টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভার ভক্তকুল যতটা তার খেলা থেকে আপ্লুত, তার থেকে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে তার ফিজিক্যাল মুভমেন্ট দেখে। তেমনি তখনকার দিনের নৃত্যশিল্পী মাতা হারির নৃত্যভঙ্গিমা আর পোশাক-অলঙ্কার প্রাচ্য নাকি পাশ্চাত্যের, সেটা নিয়ে চিন্তা করার হয়তো সময় ছিল না দর্শকের। নানা অলঙ্কারে বিভূষিত মুকুট, ঝালরের মতো কিম্ভুতকিমাকার নেকাব আর সারং-সারিন্দা বাজিয়েছে অন্যভাবে। অনেকটাই যৌন আবেদন সৃষ্টি করা নৃত্যভঙ্গিমা মাতা হারির উপস্থাপনায় যুক্ত করেছিল ভিন্ন এক আঙ্গিক। আর সেজন্য দেখা যায় আমস্টারডাম, প্যারিস কিংবা বার্লিন— সবখানেই শিল্প থেকে শরীর বড় হয়ে ওঠে মাতা হারির। বার্লিন থেকে প্যারিস একই চিত্র, দেখা গেছে লাস্যময়ী মাতা হারির বেশির ভাগ শরীরসর্বস্ব প্রেমিক আর কেউ নয়, একেকজন ধনী ব্যবসায়ী।

সেই লিকলিকে শরীরের শ্বাসকষ্ট রোগী গ্যাব্রিলো প্রিন্সিপ। ১৯১৪ সালের ২৮ জুন একটা মরচে ধরা লক্কড়মার্কা পিস্তল থেকে তার ছোড়া দুই গুলি। এতে আর্চডিউক ফার্দিনান্দ আর তার স্ত্রীর ভবলীলা সাঙ্গ হওয়ার জের ধরে বেধে যায় প্রথম মহাযুদ্ধ। ক্রমশ বদলে যাওয়া ইউরোপের রাজনৈতিক প্রতিবেশ প্রভাব ফেলে তখনকার আন্তর্জাতিক নৃত্যশিল্পী মাতা হারির জীবনেও। তবে অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ থাকা হল্যান্ডের নাগরিক মাতা হারির মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দেবে এই মহাযুদ্ধ, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও আঁচ করা যায়নি। একজন শিল্পী হিসেবে যুদ্ধের দামামা অবজ্ঞা করে ইউরোপের যেকোনো দেশের সীমান্ত অতিক্রম তেমন কষ্টসাধ্য ছিল না তার পক্ষে। এ সময়টাতে তার নাচের দল নিয়ে সে জার্মানি থেকে ফ্রান্সে যাতায়াত করেছে বেশ কয়েকবার। তার শরীরসর্বস্ব প্রেমিকদের দু-একজন জাঁদরেল জার্মান সেনা কর্মকর্তা থাকাটাও তাই বিচিত্র ছিল না।

আজ একজন নৃত্যশিল্পী মাতা হারিকে যেভাবে ক্লিওপেট্রা কিংবা জেজিবেলের মতো রহস্য নারী হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তার মূল সুরটা হয়তো অন্যখানে নিহিত। সে সময় তার নিয়মিত বিরতিতে বার্লিনের পথে পা রাখার বিষয়টিকে ফরাসি গোয়েন্দা বিভাগ সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে। সে ফরাসি না হওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এ সন্দেহের জের ধরেই ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হতে হয়েছিল তাকে। তাকে জার্মান গুপ্তচর হিসেবে অভিযুক্ত করে চার্জ গঠিত হয়। লোক দেখানো বিচার করে যে রায় আসে, সেখানে মাতা হারির মৃতুদণ্ড অবধারিত হয়। আর গুপ্তচরবৃত্তির গুরুদায়িত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে ১৯১৭ সালের ১৫ অক্টোবর ফায়ারিং স্কোয়াডে এ দণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

একটি ফরাসি সামরিক ঘাঁটির অন্ধপ্রকোষ্ঠ থেকে মাতা হারির জীবনের শেষ দিনটির বর্ণনা দিয়ে গেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক হেনরি ওয়ালেস। খুব সম্ভবত তার সে বর্ণনা থেকেই পাওলো কোয়েলহো খুঁজে নিয়েছেন উপন্যাস লেখার রসদ। হেনরি ওয়ালেস কিংবা পাওলো কোয়েলহো কে কী বললেন, তাতে কী এসে যায়। সেই মিসরীয় প্রবাদের সূত্রে ইতিহাস আরেকবার জীবন্ত হয়ে উঠল ঔপন্যাসিকের কলমে। নতুন করে সবাই গল্পে গল্পে ফিরে গেছে মাতা হারির জীবনের শেষ দিনটিতে। প্রহসনের বিচার শেষে মাতা হারিকে যেদিন রাখা হয়েছিল প্যারিসের সেইন্ট লাজা কারাগারে। ভোর রাতের একটু আগে সেই ফাদার আর্বাউ তার সঙ্গে দুজন নান নিয়ে হাজির হন। এদিকে ক্যাপ্টেন বাওচাদো একজন আইনজীবীসহ তাদের নিয়ে ঢুকেছেন ঘুমন্ত মাতা হারির সেলটিতে। অনিন্দ্যসুন্দর ওলন্দাজ নর্তকীকে লৌহমানবী হিসেবেই বর্ণনা করেছেন সাংবাদিক হেনরি ওয়ালেস। আর পাওলো কোয়েলহোর উপন্যাস ঠিক যেন তারই প্রতিচ্ছবি।

অঘটনঘটনপটিয়সী সেদিনের ঘটনার ঘনঘটা কীভাবে এগিয়েছে, সেটা কিছুটা হলেও আঁচ করে নেয়া যায় পাওলো কোয়েলহোর সাম্প্রতিক উপন্যাস ‘দ্য স্পাই’-এর প্রথম কয়েক পাতায়, বিষাদবর্ণনের আলেখ্যে। ফরাসি সৈন্যদের কাছ থেকে চেয়ে নেয়া কালি-কলম আর কাগজের সদ্ব্যবহারে সেই কারা সেলেই বিছানার কিনারে বসে খসখস একটা চিঠি লিখতে খুব বেশি সময় লাগেনি তার। দ্রুতলয়ে কাজ শেষ করে চিঠিটা আইনজীবী মেইতে ক্লুনেটের হাতে তুলে দিয়েই অগস্ত্য যাত্রার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে তাকে। কোয়েলহোর বর্ণনার সারাংশ করলে ‘চট করে উঠে সে কালো মোজা পরে নেয়। তার পর একজোড়া হাইহিল পায়ে গলিয়ে রেশমি ফিতা দিয়ে পরিপাটি করে বাঁধতেও ভুল হয়নি তার। এর পর উঠে দাঁড়িয়ে কোনার হুক থেকে ঝুলতে থাকা মেঝে পর্যন্ত লম্বা কোটটা নিয়ে গায়ে পরে থাকা কিমানোর ওপর চাপায় সে। এর হাতা আর কলার থেকে বেরিয়ে আছে পশুর লোম, যা খুব সম্ভবত খেঁকশিয়ালের হবে। তার অবিন্যস্ত দিঘল কালো চুল পরিপাটি করতেও নজর এড়ায়নি। সুন্দর করে আঁচড়ে নিয়ে মোহনীয় আবেশে ঘাড়ের ওপর দিয়ে চুলগুলো সে মেলে দেয়। এর পর ফেল্টের হ্যাটটা মাথায় চড়ানোর পর হাতে চামড়ার দস্তানা পরে জানান দেয় সে তৈরি।’ এ প্রস্তুতি তার মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগের।

মাতা হারির জীবন যেখানে শেষ, পাওলো কোয়েলহোর ‘দ্য স্পাই’-এর গল্প সেখান থেকেই শুরু। এর পর বিচিত্র ভঙ্গিমার বর্ণনায় এগিয়েছে কাহিনী। পুরো উপন্যাসের পাঠ শেষ করলে নানা সাসপেন্স থেকে শুরু করে প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ-বেদনা আর জীবনধর্মী নানা বিষয় খুঁজে নেয়া যায়। জাভা অঞ্চলের ভাষায় মাতা হারির নামের অর্থ হতে পারে অরুণাক্ষী। তবে সেদিন সূর্যোদয় দেখা হয়নি তার। যদি কোনো সাহিত্যিক নিছক কাব্যিকতায় ভর করে বলে বসেন ‘সেদিন অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী হতে পারেনি মাতা হারি নামের মেয়েটি’। সেটা ভুল নয় প্রমাণ করতেই ঘাতক ফরাসি সৈন্যদের গাড়ি তাকে নিয়ে ঘুমন্ত প্যারিস নগরী অতিক্রম করে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে। সূর্য ওঠার আগেই তারা প্যারিসের উপকণ্ঠে পুরনো এক দুর্গের কাছে পৌঁছে। ‘ক্যসার্নে দ্য ভিন্সে’ থেকে আমস্টারডাম কতটা পথ, সে হিসাব মেলাবে কে? দুর্গের কাছে এসে গাড়ি থামার পর নেমে আসে মাতা হারি; দেখতে পায় সৈন্যরা সারিবদ্ধভাবে রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ বাস্তবায়ন করতে উপস্থিত ফরাসি সেনা কর্মকর্তা নড়েচড়ে ওঠে। মাতা হারির চোখ বেঁধে নেয়ার জন্য এক টুকরো সাদা কাপড় আনা হলে সে অস্বীকৃতি জানায়।

পাওলো কোয়েলহো লিখেছেন, রাইফেল হাতে দাঁড়ানো সৈন্যদের দিকে কীভাবে আগুনঝরা শান্ত চোখে তাকিয়ে ছিল মেয়েটি। তার পর ফরাসি কর্মকর্তার হাতের তরবারি শাঁ করে ধনুকের মতো বাতাস কেটে সোজা হয়। নির্দেশ পেতেই সারিবদ্ধ অবস্থান থেকে সরে অর্ধচন্দ্রাকারে দাঁড়ানো বারোজন সৈন্যের বন্দুক কাঁধে উঠে যায়। তারা সোজা রাইফেল তাক করার পরও একচুল নড়েনি মেয়েটি। এর পর সৈন্যদের বন্দুক আগুনবৃষ্টি করে। তাদের হাতের রাইফেল যতটা ছন্দময় গতিতে নিচে নেমে আসে, তার থেকে ঢের ছান্দিক ছিল মাতা হারির পতন। অন্য সবাই যেভাবে গুলি খেয়ে মরে পড়ে থাকে, সে ওভাবে মরেনি। গুলি খাওয়ার পর সে সামনে কিংবা পেছনে ছিটকে পড়েনি। সে ওপরে কিংবা দুই পাশে তার হাত ছড়িয়ে দিয়ে মরেনি। বলতে গেলে জীবনের অসহ্য যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে নিজের ওপরেই ভেঙে পড়ে দুই পা ভাঁজ করে। পশমের ওই কোটের মধ্যেই হাঁটু ভাঁজ করে বসে পড়ে সে। গতিহীন নিস্তেজ অবস্থায় তার শরীর যখন ঢলে পড়ে, মনে হয় স্বর্গপানে চেয়ে আছে তার দুই চোখ। এর পর হোলস্টার থেকে পিস্তল খুলে নিয়ে তার নিস্তেজ শরীর লক্ষ্য করে এগিয়ে যায় আরেক সৈন্য। কপাল সোজা একটা বুলেট ঢুকিয়ে দিয়ে বেশ দাম্ভিকতার সঙ্গে ঘোষণা করে ‘মাতা হারি মারা গেছে’।

মাতা হারির মাতাল স্বামী ক্যাম্পবেল ম্যাকলয়েড তার জীবনকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়ে পরোক্ষভাবে তার মৃত্যুর পেছনে কতটা দায়ী ছিল সেটা অন্য গল্প। কোয়েলহোর গল্পে সবাই হয়তো নতুন করে চিনে নিতে পেরেছে মাতা হারিকে। তবে এ গল্পে বর্ণনার অভিলাষে বারবার মুণ্ডপাত করা হয়েছে প্রেম-ভালোবাসাকে। স্বামী-সংসার থেকে দূরে থাকা মাতা হারি তার মেয়েটিকেও আইনগতভাবে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। স্কুল যাওয়ার পথে তাকে অপহরণের চেষ্টায়ও সফল হয়নি সে। হয়তো এমন বিষাদের ঘনঘটায় দৃষ্টি দিয়েই কোয়েলহোর কলমে বিম্বিত মাতা হারির জীবনের গল্প প্রতিক্ষেত্রে বিয়োগান্তক। এজন্যই কি তিনি বলতে চাইলেন— ‘কখনই প্রেমে পড়তে নেই। প্রেম-ভালোবাসা এক বিষের নামান্তর। একবার কেউ প্রেমে পড়লে জীবনের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারায় সে। প্রেমবিষের বিবক্ষয়ে তার হূদয় ও মন তখন হয়ে ওঠে অন্য কারো সম্পত্তি। আর এজন্যই অস্তিত্ব হারানোর শঙ্কায় পড়ে তার সবকিছু। তাই তো সে সব ধরনের ভয়কে জয় করে শুধু একান্ত আপন কারো জন্য সবকিছু সঁপে দিয়ে বসে থাকে। ভালোবাসা এমনই সর্বনাশা হতাশার নামান্তর, যা জগতের সব সুখের লেশমাত্র আঁচড়ে নেয়; বিপরীতে একরত্তি সুখ সম্ভাবনা জাগাতে চায় প্রিয়পাত্রের কাছে।’ এত কথকতার মাঝেও বলতে ভুল হয়নি কোয়েলহোর, ‘ভালোবাসা আর যা-ই হোক, বিশ্বাসের খেলা; যার মুখশ্রী এক দুর্বোধ্যতার মুখোশে আবৃত। এজন্যই মানুষ প্রেমে পড়ার পর প্রতিটি মুহূর্ত পার করে আবেগ-অনুভূতির খেলায়, যেখানে বাস্তবতা বুঝে নিতে পারলে যা-ই হোক অন্তত জাদুময়তা থাকে না।’ উপন্যাস এগিয়ে যায় লেখার ছন্দে, লেখকের আগ্রহ-অনাগ্রহকে উপজীব্য করে। এখানে হয়ত তার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে আমলে রেখেই কোয়েলহো শেষ করেছেন ‘দ্য স্পাই’ এর কাহিনী। তবে সব কথার শেষ কথা ইতিহাসের মাতা হারি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এ উপন্যাসের সূত্র ধরে; সেটাই বা কম কীসে?

Dr. Md. Adnan Arif Salimhttp://salimaurnab.com/
জন্ম ১৯৮৯ সালের ১ নভেম্বর কুষ্টিয়াতে। পাবনার পাকশীতে পৈত্রিক নিবাস। পিতা মরহুম আরিফ যুবায়ের এবং মা সেলিনা সুলতানা। বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পাবনা জেলার পাকশীর নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ২০০৭ সালে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১১ সালে স্নাতক সম্মানে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। এর পরের বছর ঐ একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরের পাঠ শেষ করেন। স্কুল পর্যায় থেকে নানা ধরণের লেখালিখি ও অনুবাদ কর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নন্দিত ইতিহাস গবেষক অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজের গবেষণা সহকারী হিসেবে প্রথম ইতিহাস বিষয়ক লেখা শুরু করেন। পরবর্তীকালে এই একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি গবেষণা শেষ করেন। পাশাপাশি লিখেছেন বেশ কয়েকটি বৈষয়িক গ্রন্থ। একক কিংবা সহলেখক হিসেবে তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহাসিক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতিসত্তার বিকাশ, আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস (১৪৫৩-১৭৭৯ খ্রি.) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস (১৭৮৯-১৯৪৫ খ্রি.), গুপ্তগোষ্ঠী ফ্রিম্যাসনারির কথা, গুপ্তগোষ্ঠী ইলুমিনাতি, বাংলাদেশের সমাজতত্ত্ব, প্রত্নচর্চায় বাংলাদেশ, জেরুজালেম, তাজমহলের গল্প, হালাকু খান, শের শাহ, পিরামিড প্রভৃতি। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার ইতিহাসচর্চায় ভূগোল শীর্ষক গ্রন্থটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!

Must Read

তোমরা যারা ডেথ রেস খেলো

১. কিছুদিন আগে আমার সাথে দুইজন ছাত্রী দেখা করতে এসেছে। রাগে দুঃখে ক্ষোভে তাদের হাউমাউ করে কাঁদার মত অবস্থা, কিন্তু বড় হয়ে গেছে বলে সেটি...

কোথাও কেউ নেই

গ্রামবাংলার একটি জনপ্রিয় প্রবচন হচ্ছে, ‘মানুষের ভাগ্য আর লুঙ্গি বড়ই অদ্ভুত, এর কোনটা কখন খুলে যায় বলা কঠিন।’ ভাগ্য খোলা আসলে অনেক বড় কিছু,...

যে ‘দিদি’ এবং ‘ভাই’ আমাদের ভাবায়

জয়দেবপুর রেল জংশন থেকে সেই সুনামগঞ্জ কতটা পথ! সড়ক যোগাযোগের কথা বাদ দেয়া যাক। সরাসরি রেলপথেও সেখানে যাওয়ার সুযোগ কম। তবু শয়নে-স্বপনে নয়, যাপিত...

বাংলার মধ্যযুগ চর্চার পথিকৃৎ

আজ বাংলার ইতিহাসের কিংবদন্তী গবেষক, প্রখ্যাত লেখক, মধ্যযুগের বাংলার মুদ্রা ও শিলালিপি বিশেষজ্ঞ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল করিমের মৃত্যুদিবস। শুরুতেই...

বালিশ উত্তোলনের ইতিহাস

কি শুনে হাসি পায়! বালিশ উত্তোলনেও আমাদের আছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমার অনেক প্রিয় লেখকদের একজন Simu Naser। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে নতুন চাকরিতে...