প্রতিবাদীরা পরাজিত নয়

আমার অনেক কষ্ট লাগে, আবার করুণাও হয় ঐসব সিনিয়র প্রফেসর মহোদয়ের জন্য। উনারা একহাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধ্বংস করছেন, অন্যহাতে বিষেদগার করছেন এখানে লেখাপড়া হয় না। তারা নির্লজ্জের মত বলে বেড়াচ্ছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন শিক্ষার্থীদের কোয়ালিটি আগের মত নাই, সেখানকার শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে না, কিছু জানে না। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম দেশটাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

কিন্তু ধর্মাবতার! আপনারা শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সময় যোগ্যদের বদলে নিজেদের চামচাকে বেছে নিবেন। আপনারা ক্লাস না নিয়ে টাকার লোভে গিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে থাকবেন। যে সময়টা আপনাদের গবেষণা করা কিংবা অন্য কারো গবেষণায় হেল্প করার কথা তখন গিয়ে কিছু উপরির লোভে বসে থাকবেন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে। আজব ব্যপার, শিক্ষার্থীরা কি সুপারম্যান, ব্যাটম্যান নাকি আলাদিনের চেরাগের দৈত্য! তারা কিভাবে লেখাপড়া করবে?

মানুষের লজ্জাশরমের মাথা খাওয়া দেখে আসছি সেই শৈশব থেকে। কিছু শিক্ষকের মত লাজশরমহীনতা আমি এলাকার পকেটমারদেরও দেখি নি। আমি রাত জেগে লেখাপড়া করি শৈশব থেকে। আমাদের এলাকার সুনীল কামারের ছেলে অনীল রাতে মুরগি চুরি করত। ও একদিন আমার কাছে হাতে নাতে ধরা পড়লো। তাকে বুঝিয়ে বলার পর দ্বিতীয় দিন আর এই কাজ করে নাই। এবার বাড়িতে গেলে অনেক দূর থেকে দৌড়ে এল। বলল ভাইয়া আমি একটা ওয়ার্কশপে কাজ করছি, আমার আর আগের ঐসব করতে হয় না।

পক্ষান্তরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগের ঢাকার ছেলেখ্যাত জনৈক শিক্ষক তিনি বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩১০-২০ দিন অনুপস্থিত থাকেন। তারপরে বিনা প্রস্তুতিতে ক্লাসে ঢুকে আবোল তাবোল বকেন। এই ভদ্রলোক মূর্তিতত্ত্ব ক্লাস নিতে গিয়ে আউল ফাউল বকছিলেন যার মধ্যে একটা কথা ছিল তোমরা লেখাপড়া করোনা কিচ্ছু জানোনা। আমি স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমায় দাড়িয়ে গিয়েছিলাম। বললাম স্যার আপনার কথা উইথড্র করেন। আমরা জানি কিংবা জানি না সেটা পরের ব্যাপার। আর কারও কথা না জানি, আমি নিজের উপর বিশ্বাস রেখে বলছি আপনার থেকে বেশি লেখাপড়া আমি করি।

উনি ক্ষেপে গেলেন। একের পর উদ্ভট প্রশ্ন করতে শুরু করেন। আমি এর প্রায় সবগুলোর উত্তর দিয়ে দেয়াতে উনি আরও রেগে গেলেন। এরপর তিনি রুমে গিয়ে তার চামচাদের বলেছিলেন আমি থাকলে ঐ বেয়াদপ জাহাঙ্গীরনগরের বারান্দায়ও পা রাখতে পারবে না। যাই হোক তিনি সেখানে থেমে থাকলে হতো। বেহায়াদের নির্লজ্জতার কোনো সীমারেখা থাকে না। উনিও ঠিক তেমনি। আমার সামনে উপযুক্ত জবাব শোনার ভয়ে কিছু বলতে না পেরে তিনি বেছে নিয়েছিলেন আমার প্রিয় ছোট ভাইদের। যারা আমার সঙ্গে গবেষণা করেছে তাদের ধরে ধরে উনি নম্বর কম দিয়েছেন, পরে বেহায়ার মত স্বীকারও করেছেন।

ভাবতে ঘেন্না হয় এই ধরণের শিক্ষকের সংখা এখন অনেক বেশি। তারা নিজেরা ক্লাস নেবে না, উল্টো শিক্ষার্থীদের দুষবে তোমরা কিচ্ছু জানো না কেউ লেখা পড়া করেনা। দেশটা উচ্ছন্নে গেল। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এই দ্বিচরিতা কেমনে সহ্য করা যায়। আমি আগেই বলেছি ১০০ দিগম্বরের মাঝে একজন বস্তাবৃত মানুষ থাকলে তাকেই অদ্ভুত লাগে। সবাই এসব সয়ে নিয়েছি। আমাদের মত যারা প্রতিবাদ করে তারা এখন বিদপাপন্ন নয়, বিপন্ন এবং বিলুপ্তি প্রজাতি। তবুও বলছি অপরাধীদের প্রতিহত করতে না পারেন যে যার অবস্থান থেকে অন্তত প্রতিবাদ করুন। নাহলে তারা অন্যয়কে ন্যায় মনে করবে যা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে আরও দ্রুত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।

সুপ্রিয় প্রতিবাদপ্রিয় সাহসী শিক্ষার্থী, অন্যায় দেখে রুখে দাঁড়ানোর ফলে সাময়িক অসুবিধা সবার জীবনেই আসতে পারে। এরজন্য মানুষের স্বপ্ন কিংবা সংগ্রাম থেমে থাকে না। কথিত ঐ ঢাকার ছেলে এবং খুব সম্ভবত তার সমমনা কিছু উচ্ছিষ্টভোগীর কারণে আমি হয়ত নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করতে পারিনি। এক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ বার আবেদন করেও শিক্ষক হওয়া থেকে ব্যর্থ হয়েছি। এতে কিছু এসে যায়নি। বরং আমার স্থলে যারা নিয়োগ পেয়েছেন আর তাদের অনৈতিকভাবে নিয়োগদাতা যারা তারা কেউ আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস রাখে না।

স্কুল থেকে কলেজ তারপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা অন্যায় করেছে রুখে দিতে না পারি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছি তাদের বিরুদ্ধে। জনৈক আবদুল হাই বাট্টু স্কুলে থাকতে তার প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন দিতো। তার শত্রু ছিল আমার বন্ধু Sohel আর এদিকে মহাশত্রু আমি। সবাই মনে করে আমার ব্যাচ শুধু না এখন পর্যন্ত আমার স্কুলে যতজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল তাদের মধ্যে সোহেল ইংরেজিতে সেরা ছিল। আমি সোহেলের লেভেলের না হলেও অন্তত লিটারেচারে এগিয়ে ছিলাম। এই প্রশ্নফাঁসকারী দুর্বৃত্ত আমাকে হুমকি দিয়েছিল ইংরেজিতে ফেল করানোর। আমি বলেছিলাম এক সাবজেক্টে ফেল করলেও কারও প্রমোশন আটকে থাকবে না, উপরের ক্লাসে উঠবে।

কলেজে গিয়েও প্রাইভেট পড়িনি। জনৈক পরিতোষ স্যারের ছেলে পরিমল সে হুমকি দিয়েছিল গণিত ব্যবহারিক খাতায় সাক্ষর হবে না। কোনো পাত্তা না দিয়ে অন্য শিক্ষককে দিয়ে সাক্ষর করিয়ে কথা জমা দিয়েছিলাম। খুব ভাল না করি ফেল করলে আজ এখানে আসতে পারতাম না। পর্দার আড়ালে অনেক কথা বলা দুর্বৃত্তদের স্বভাব। তাদের এত কথা কানে তুললে পৃথিবীর সাংস্কৃতিক উন্মেষ তো বটেই সূর্যের চারপাশে যে ঘূর্ণন ওটাও হয়ত থেমে যাবে। তাই সাময়িক ক্ষয়ক্ষতি আমলে না নিয়ে লড়াই চলুক দেশ, মাটি, মানুষ ও মানবতার স্বার্থে, কেউ না জানুক দেখবেন সময় ঠিকই আপনাকে মনে রাখবে।

Related posts

Leave a Comment

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!