Home গবেষণা রিচার্ড ইটন ও বাংলার মধ্যযুগের কাঠামোবদ্ধ ইতিহাস

রিচার্ড ইটন ও বাংলার মধ্যযুগের কাঠামোবদ্ধ ইতিহাস

পশ্চিমা ইতিহাস গবেষক প্রাজ্ঞজন রিচার্ড ম্যাক্সওয়েল ইটন প্রসঙ্গে কিছু বলার আগে উল্লেখ করতে হয় বাংলাদেশে যে কোনওরকম গবেষণায় বিপদজনক দিক হচ্ছে তিনটা-
১. বই কিনে সেলফে সাজিয়ে রাখা
২. বই না পড়ে নাম মুখস্থের পর অনর্থক পণ্ডিতি করা
৩. একটা বই পড়ে উক্ত লেখককে পীর ভেবে সবাইকে হেয় করা।
প্রসঙ্গত বলা ভালো, ইটন সাহেবের ক্ষেত্রে ঘটেছে তৃতীয়টি। নির্লজ্জ্ব আত্মপ্রচার কিংবা বাস্তব সত্য কোনটা বলা দুষ্কর তবে স্বীকার করে নিতে হচ্ছে বাংলার মধ্যযুগে একটি বিষয় নিয়েই আমি আমার পিএইচডি গবেষণা শেষ করেছি। কাগজে-কলমে মাত্র বছর পাঁচেক গবেষণার বয়স হয়ে থাকতে পারে। পরে এই কাজ আমি মন ও মননে শুরু করেছি সেই ২০০৯ সাল থেকে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ধীরে ধীরে সেকেন্ড ইয়ারের মধ্যভাগেই বিষয়টিকে আত্মস্থ করার সংকল্পে মগ্ন হই। প্রয়াত আইয়ুব খান স্যার বলেছিলেন প্রাচীন নয় বাংলার মধ্যযুগকে গবেষণাক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিতে হবে। সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা, ব্রাহ্মী এবং খরোষ্ঠি স্ক্রিপ্ট শিখে নেয়া তো বটেই দেবনাগরি স্ক্রিপ্টে ক্লাস লেকচার পর্যন্ত অবলীলায় উঠিয়ে নেয়ার সক্ষমতা অর্জন করেও থেমে যাই শুধু স্যারের নির্দেশে। শ্রদ্ধাভাজন আইয়ুব খান স্যার বড্ড অসময়ে চলে গেলেও তাঁর সম্মান রাখতে চেষ্টা করেছি যতটুকু পারি। বলা বাহুল্য তিনিই আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বজনশ্রদ্ধেয় অধ্যাপক একেএম শাহনাওয়াজ স্যারের সঙ্গে।

যশস্বী ইতিহাস গবেষক আবদুল করিম স্যার, সুখময় মুখোপাধ্যায়, নলিনীকান্ত ভট্টশালী, দীনেশচন্দ্র সরকার, শামসুদ্দিন আহমদ স্যার, চিন্ময় দত্ত, আহমেদ হাসান দানী, আবদুল মমিন চৌধুরী, জাফর হাসান, সৈয়দ আবদুল লতিফ, শুশীলা মণ্ডল, যদুনাথ সরকার থেকে ইয়াকুব আলী স্যার তাঁদের যার বই যেখানে পেয়েছি পড়েছি এবং সংগ্রহে রাখার চেষ্টা নিয়েছি। একটা পর্যায়ে রিচার্ড ইটনের নামটা কানে আসে। তখন ভারত তথা বিশ্বজুড়ে সাবঅলটার্ন গ্রুপের জয় জয়াকার। গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের কঠিন প্রশ্ন “Can the Subaltern Speak? কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনেকে সাবঅলটার্ন স্টাডিজের পুরোধারা আছেন তাই ইতিহাস আছে এমনটা ভাবতে শুরু করেছেন। এক অর্থে তার সমান্তরালে ধুমকেতুর মত আবির্ভাব রিচার্ড ইটনের।

সবার প্রতিক্রিয়ার বিপরীতক্রমে আমি ভেবেছিলাম আমার বাংলার ইতিহাস সেটা মধ্যযুগ হোক আর প্রাচীন যুগ। আমি ইতিহাসকে দেখতে চাই প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক সুত্রানুসঙ্গ থেকে। আমাকে বাইরে থেকে এসে কেউ কাঠামো বেঁধে দেবে তার উপর পুতুল নাচের মত নাচতে হবে এটা অবিশ্বাস্য, অসহ্য এবং নজির বিহীন। তাই প্রথম দিকে আবদুল করিম স্যার, ইয়াকুব স্যার কিংবা দানি স্যারদের গবেষণার উপরে রিচার্ড ইটন আমার কাছে তেমন তেমন গুরুত্ব পাননি। শেষ পর্যন্ত এইডসের প্রতিরোধী বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত বাঁচতে হলে জানতে হবে এমন অবস্থা দাঁড়ায়। ইতিহাস-প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থী তথা গবেষক হয়ে বাঁচতে বাংলার জমিনে বাঁচতে হলে তাকে রিচার্ড ইটন জানতে হবে এমনি ধারণা প্রতিষ্ঠার মুখে বাধ্য হই তাকে পাঠ করায়। সেখানে কিছু বিষয় নিয়ে অদ্ভুত কিছু প্রশ্ন আমার মনে এসে ভিড় করেছে।

প্রথমেই খেয়াল করেছি,  নামটা The rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760।  আমার কাছে বেখাপ্পা লাগে বইটির নাম। প্রথমেই ভাবলাম ইটন সাহেব আসলে বেঙ্গল পেলেন কোথা থেকে। তিনি নিজ অবস্থান থেকে বর্ণনা করতে পারেন, তাই বলে ১২০৪। অসম্ভব, অন্তত তিনি ইতিহাস-প্রত্নতত্ত্বের সূত্রাশ্রয়ী হলে এটা দুঃস্বপ্নেও অন্তত পাওয়ার কথা না। পরে মনে পড়লো শাহনাওয়াজ স্যারের উক্তিটা। স্যার তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন ‘বখতিয়ার জয় করেছিলেন নদীয়া। তবে প্রাক্তন বঙ্গ-ভারতীয় ইতিহাসে একটা চল রয়েছে বখতিয়ারের বাংলা বিজয় নিয়ে’। এমনি কোনো সূত্র সামনে রেখে গবেষণা করতে গিয়ে হয়ত সে সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পারেননি ইটন সাহেব।

বইয়ের পাঠ শুরু করতেই বুঝি গলদ তো গোড়াতেই। তিনি শুরুটা করছেন রমেশচন্দ্র মজুমদারের সূত্রাশ্রয়ী হয়ে। সেখানে তিনি বলছেন— [Sometime in 1243–44, residents of Lakhnauti, a city in northwestern Bengal, told a visiting historian of the dramatic events that had taken place there forty years earlier. At that time, the visitor was informed, a band of several hundred Turkish cavalry had ridden swiftly down the Gangetic Plain in the direction of the Bengal delta. Led by a daring officer named Muhammad Bakhtiyar, the men overran venerable Buddhist monasteries in neighboring Bihar before turning their attention to the northwestern portion of the delta, then ruled by a mild and generous Hindu monarch.]

রমেশচন্দ্র মজুমদার স্যার এভাবে বাংলার মধ্যযুগের শুরুটা বর্ণনা করেছিলেন, হঠাৎ আমার স্পষ্ট মনে পড়ে যায়। সেখানে তিনি স্পষ্টত নদীয়া না বলে ভুলক্রমে কিংবা তথ্য অপ্রতুলতায় বলে বসেছেন বাংলার কথা। যাই হোক নাম নিয়ে এই জটিলতা এড়িয়ে আরেকটু সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করি। রেনেসাঁ উত্তর কালের জ্ঞানকাণ্ডে ঐতিহ্য অন্বেষণ শুধু নয় অতীত অধ্যয়নেও ইতিহাস থেকে প্রত্নতত্ত্ব হয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বহুগুণে। অবাক হয়ে লক্ষ করি এই বিদেশী ভদ্রলোক তাণ্ডবের সঙ্গে জ্ঞান বিতরণ করে গেলেও বেশিরভাগ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে উপেক্ষা করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা তিনি হাজির করেছেন যেখানে নিজের প্রয়োজন সেখানেই। অন্তত বখতিয়ার খলজীর সেই বিখ্যাত অশ্বরোহী প্রতিকৃতি অঙ্কিত মুদ্রাটি হাজির করতে হয়েছে তাঁকে।

আমাদের বলে রাখা ভালো চার্লস র‍্যান্ডের তোলা ছবিটা বর্তমানে স্মিথসোনিয়ান জাদুঘরের রক্ষিত। রিচার্ড ইর্টন সহজেই ঐ ছবিটা বইতে দিয়েছেন। তবে এই মুদ্রার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা হাজির হয়েছিলো ১৯৭৩ এবং ১৯৭৬ সালে। যথাক্রমে নিকোলাস লৌউইক, পরমেশ্বরী লাল গুপ্ত এবং জিএস ফরিদের বর্ণনাতে। এখানে এই মুদ্রাকে লৌউইক বাংলার মুদ্রা বলতে চাইলেও পরমেশ্বরী লাল গুপ্ত বলেছেন দিল্লীর মুদ্রা আর ফরিদ এটাকে আলিমর্দান খলজী বলে চালিয়ে দিয়েছেন। তবে ইটন নামমাত্র মুদ্রাটি উল্লেখ করলেও মুখস্থ বর্ণনা দিয়েছেন মিনহাজ ই সিরাজ থেকে। একেবারে কোট আনকোর্ট লিখেছেন […..he left the city of Nudiah in desolation, and the place which is (now) Lakhnauti he made the seat of government. He brought the different parts of the territory under his sway, and instituted therein, in every part, the reading of the khutbah, and the coining of money; and, through his raiseworthy endeavours, and those of his Amirs, masjids [mosques], colleges, and monasteries (for Dervishes), were founded in those parts. ……..]

ভদ্রলোক এখানে কার অনুবাদ থেকে মিনহাজ উদ্ধৃত করেছেন সেটা প্রশ্ন নয় আমাদের মনে চিন্তা জাগে তিনি নির্মোহ ব্যাখ্যা দিতে চাইছেন সেই মিনহাজের বর্ণনা থেকে যিনি কিনা বাংলার জমিনে পা রেখেছেন আরও ৪০ বছর পর। পান্তাভাতে ঘি এর মত ইর্টন সাহেব আকৃতিগত মিল থাকাতে পর পর উদাহরণ টানলেন আলিমর্দান এবং ইলতুতমিশের। ঘটনা একই; সেই কুমিরের মুখস্থ রচনার মত খাঁজকাটা খাঁজকাটা। কিন্তু এই তিনটা প্রেক্ষিতে বাংলার শাসন ব্যবস্থা যে ভিন্ন ছিলো সেটা ভদ্রলোকের নিজেরও জানা থাকার কথা। তিনি সুকৌশলে কেনো এটা এড়িয়ে গেলেন। বিশেষ করে সুলতান ইলতুতমিশের মুদ্রা ছিলো আত্মপরিচয়ের দলিল। অন্যদিকে বখতিয়ারের স্মারক মুদ্রা যেটি কিনা মোহাম্মদ ঘোরির পক্ষে জারি করা হয় তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ছিলো ভিন্ন। তিনি এই মুদ্রা যে সম্প্রদায়ের কাছে জারি করেছেন তারা হিন্দু কি মুসলিম তার চাইতে বড় ছিলো তিনি বিজয়ী আর এরা বিজিত। এখানে এমন ভাষায় তিনি মুদ্রা জারি করতে চেয়েছেন যাতে তার বিজয়ের মহিমা আরও প্রাঞ্জল হয়। আর তিনি নিজের কিংবা প্রভুর নাম নিজস্ব ভাষাতে লিখলেও সেখানে শুধুমাত্র গৌড় বিজয় কথাটা কেনো সংস্কৃতে তথা দেবনাগরী স্ক্রিপ্টে লিখতে গেলেন। কথা একটাই, যাতে স্থানীয় ভাষা জানা মানুষও এটা পড়ে বুঝতে পারে গৌড় অধিকৃত হয়েছে, যা আর তাদের হাতে নেই।

মধ্যযুগে বাংলার ইতিহাস রচনার অমর দলিল আবদুল করিম স্যারের বিখ্যাত Corpus of The Muslim Coins of Bengal. গ্রন্থের ধারাবাহিক আবর্তনে তিনি সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ, তার মেয়ে সুলতান জালালুদ্দিন রাজিয়া, তারপর সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ তারপর বর্ণনানুক্রমে এসেছে গিয়াস উদদীন বলবন আর সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের কথা। বাংলার ইতিহাসের ধারানুক্রম হলে এটাই হওয়ার কথা ছিলো। অজ্ঞাত কারণে এই মার্কিন ভদ্রলোক বখতিয়ার-আলি মর্দানের ঘোড়ায় চড়া মুদ্রা দেখে মনে হয় ভয় পেয়ে গেলেন, কষে একটা দৌড় লাগালেন। দৌড়ে গিয়ে থামলেন পাণ্ডুয়ার মিনারের গোড়ায়। সেখানে নাকি আযান শোনা যাচ্ছে ফলে আরেকটা দৌড় দিয়ে তিনি পৌঁছে গেলেন ত্রিবেণীর জাফর খানের সমাধির কাছে। বলতে গেলে এখানে তিনি বাংলার ইতিহাসকেও সুকৌশলে সমাহিত করেছেন। আর এ সমাধি থেকেই গজিয়ে গেছে এক অনুল্লেখিত সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ।

দীর্ঘক্ষণ দৌড়ে ক্লান্ত ইটন সাহেব অনেকটা হাঁফাতে হাঁফাতে লিখলেন [….Zafar Khan, the lion of lions, has appeared By conquering the towns of India in every expedition, and by restoring the decayed charitable institutions. And he has destroyed the obdurate among infidels with his sword and spear, and lavished the treasures of his wealth in (helping) the miserable. ]

ভদ্রলোককে ধন্যবাদ দিতে হয় তিনি এক্ষেত্রে আবার উল্লেখ করেছেন শামসুদ্দিন আহমেদের সূত্র, সেই ইন্সক্রিপশন্স অব বেঙ্গল। তিনি কারো সূত্রের ধার না ধেরে নিজেই দাঁতমুখ খিঁচে দুকলম লিখে বসলেন […..Zafar Khan’s claims to have destroyed “the obdurate among infidels” gains some credence from the mosque’s inscription tablet, itself carved from materials of old ruined Hindu temples, while the mutilated figures of Hindu deities are found in the stone used in the monument proper.[19] Near Zafar Khan’s mosque stands another structure, built in 1313, which is said to be his tomb; its doorways were similarly reused from an earlier pre-Islamic monument, and embedded randomly on its exterior base are sculpted panels bearing Vaishnava subject matter.]

মুদ্রা ও শিলালিপির দুস্তর সুত্র থাকার পরেও ভদ্রলোকের হঠাৎ খেয়াল হয়ে যায় তিনি আশ্রয় করেন চৈনিক বৃত্তান্তকে। বেশ মজা করে তিনি লিখে বসেন [….In 1236 a Tibetan Buddhist pilgrim recorded being accosted by two Turkish soldiers on a ferryboat while crossing the Ganges in Bihar. When the soldiers demanded gold of him, the pilgrim audaciously replied that he would report them to the local raja, a threat that so provoked the Turks’ wrath as nearly to cost him his life.

আমি শুরু থেকেই একটা কথা বলার দুঃশাহস দেখিয়ে আসছি। আমার-আপনার দাদার বাড়িতে কোনো মেহমান বেড়াতে গেলে ফিরে এসে তিনি গল্প বলতেই পারেন। আমি-আপনি ভদ্রলোক হলে অবশ্যই তাঁর কাছ থেকে গল্প শুনবো, তবে তাঁর চোখে দেখে আসা বর্ণনা শুনে নিজের দাদাবাড়িকে তার মত করে দেখাটা কি আক্কেলবোধ সম্পন্ন মানুষের কাজ হবে, নাকি বেয়াক্কেলের কাজ হবে। শুরুতেই রিচার্ড ইটনকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি বলতে চাই আমার বাংলাদেশ, আমার বাংলার ইতিহাস, এখানে খোদ আমারই গবেষণার বিষয়বস্তু বাংলার মধ্যযুগ। আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ হয়ে আপনাকে শুধুমাত্র হর্ষকলরবে ধন্যবাদ দিতে পারি। তবে অবশ্যই আপনার চোখে আমার বাংলার মধ্যযুগকে দেখতে রাজি নই। বাস্তবে আমি নিজের মত করেও দেখতে চাই না। আমি বাংলার মধ্যযুগকে যাচাই করে দেখতে চাই ইতিহাস আলেখ্যে, প্রত্নসূত্রের উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে।

যদি কেউ আগ্রহী হন তবে Corpus of the Arabic And Persian Inscriptions Of Bengal কিংবা Corpus of the Muslim Coins of Bengal গ্রন্থের ক্যাটালগ ও বর্ণনা মেলালে ইটন সাহেব বর্ণিত সবকটি যুক্তির উপযুক্ত জবাব মিলবে। বিশেষ করে ইটন সাহেবের বর্ণনা মতে সুলতানরা স্থানীয়দের উপরে গায়ের জোর দেখাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি বেমালুম ভুলে গেছেন স্বাধীন সুলতানী বাংলার বাস্তবতাকে। শাহ-ই-বাঙ্গালাহ শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ কিংবা আলাউদ্দিন হুসেন শাহ তো বটেই সেই ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ পর্যন্ত নামে ছিলেন মুসলমান। তবে কাজে হয়ে উঠেছিলেন একজন স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ডের অধিকর্তা। জাফর খান গাজির সমাধি থেকে মুখস্থ বুলি আওড়াতে গিয়ে ইটন সাহেব কি যাচাই করে দেখতে ভুলে গেছেন স্বাধীন বাংলার সুলতানরা আসলে কাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন? আচ্ছা দিল্লীর সুলতানরা কি হিন্দু ছিলো নাকি মুসলিম ছিলো। আর এদিকে যাদের ক্ষেপিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা জাহির করার কথা ইটন সাহেব বলছেন তাদের সংখ্যা দখলদার মুসলমানদের চেয়ে কম নাকি বেশি ছিলো ? এক্ষেত্রে চাচা আপন জান বাঁচা (স্বাধীন সুলতানী বাংলা বাঁচা) প্রশ্নে একটা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ প্রতিষ্ঠা কি সময়ের দাবি হয়ে যায়নি তাদের জন্য ?

বাংলার স্বাধীন সুলতানদের জন্য দিল্লী ছিল সবথেকে বড় আতঙ্কের নাম। আদি থেকে অন্ত সেই ইসলাম চিশতী পর্যন্ত যতবার আক্রমণ শানিয়েছে দিল্লী বাহিনী প্রতিক্ষেত্রে স্থানীয়দের ঐক্যের কাছে হার মেনেছে তারা। এক্ষেত্রে ইর্টন বর্ণিত মন্দির ভাঙ্গচুর কাহিনী কিংবা জাফর খানের মত গাজীগিরি ফলাতে গেলে স্থানীয় হিন্দুগোষ্ঠী নয় বরং দিল্লীর সুলতানদের কাছেই কচুকাটা হতে হত সুলতানি বাংলার সেনানীদের। হয়ত চট্টগ্রামে বসে কোন এক অন্ধকক্ষে আবদুল করিম স্যার Corpus of the Arabic And Persian Inscriptions Of Bengal কিংবা Corpus of the Muslim Coins of Bengal গ্রন্থদ্বয় লিখেছেন। আলিশান প্রাসাদে বসে ইটন সাহেবের এই গ্রন্থদুটি চোখে পড়ার কথা না। তিনি নিজেই তো উল্লেখ করেছেন শামসুদ্দিন আহমেদের কথা। সেখানে বাংলার সুলতানদের পদবীগুলো একটু বিশ্লেষণ করলেই তো এতো দুশ্চিন্তার প্রয়োজন ছিলো না। তিনি বুঝে যেতেন কোনটা লাউ কোনটা কদু আর কোনটা ঝুনা নারকেল ?

বিক্ষিপ্তভাবে দৌড়াদৌড়ির এক পর্যায়ে ভদ্রলোককে একটু বিশ্রাম নিতে দেখা যায় পাণ্ডুয়ার আদিনা মসজিদের দোরগোড়ায়। সিকান্দার শাহ নির্মিত এই মসজিদ প্রসঙ্গে ইর্টনের কারনামা বোঝার আগে তার পূর্বসূরীর প্রসঙ্গ আলোচিত হোক। শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তাঁর মুদ্রায় লিখেছেন [… আল সুলতানুল আদিল শামসুদ্দুনিয়া ওয়াদ্দিন আবুল মুজাফফর ইলিয়াস শাহ আল সুলতান….. সিকান্দার আল থানি ইয়ামিন আর খালিফাতি নাসির আমিরুল মুমেনিন…] তিনি জোর খাটানোর ক্ষেত্রে একটা বিষয়েই জোর দিয়েছেন সেটা [ইলিয়াস শাহ আল সুলতান] এই সুলতানি ধরে রাখতে মুলতানি নয় বাংলার মাটির পরম মমতার প্রয়োজন ছিলো তাঁর। তিনি অন্তত যাই হোক প্রাণান্তকরণে চাইবেন হিন্দু-মুসলিম সবকিছুর উর্ধ্বে থাক বাংলার পরিচয়টা। এখানে উটকো উপাদান হিসেবে কি সব বাদশাহ কা তখত, নির্মাণ উপকরণও আরও কি সব আবোল তাবোল বর্ণনা এসেছে। এগুলো বাদ দিলে তিনি নিজের খেয়ালখুশি বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় সাহিত্যিক সূত্রগুলোকে ঘূণাক্ষরেও স্মরণে আনেন নি।

যাকগে ইটন সাহেব হয়ত শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের সেই স্বয়ম্ভুনাথের মন্দির আক্রমণের গল্পই জানতেন না। এইটা জানলে তিনি মনের খায়েশ মিটিয়ে আরও কয়েক পাতা লিখে বসতেন। যাকগে সেটা অন্যগল্প। আসলে বাংলা তথা ভারতের অনেক স্থানে মন্দিরের বেদি কিংবা ব্যাংকের ভল্ট দুটো যে অনেকটা একই রকম এটা ইটন সাহেবদের খেয়ালে নাও আসতে পারে। সেটা অন্য প্রশ্ন হওয়ায় বাদ দেই। এই গ্রন্থের সমালোচনা নিয়ে আর লেখার ইচ্ছে নাই। পর পর কয়েকটা বক্তব্য শুনে তীব্র বিরক্তি থাকলেও সেগুলো আর না বলি আকেলমান্দ গবেষকদের জন্য ইশারাই অনেক কিছু। তবে কেউ যদি এরপরও বাইরের কারও থেকে নিজের বাড়ির গল্প শুনে বাহ বাহ করে আমি তাদের দলে নেই। তবে রীতি মেনে আগত মেহমানকে ধন্যবাদ দিয়ে তবেই কানে তুলো গুঁজবো সেটা নিশ্চিত করে বলে দিলাম।

ধন্যবাদ ইটনকে তিনি বাংলার মুদ্রা ও শিলালিপি তেমনভাবে খতিয়ে না দেখেও একটা সত্য স্বীকার করেছেন। তিনি মেনে নিয়েছেন বাংলায় মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ ভৌগোলিক ও ভূ-পরিবৈশিক পরিবর্তন। আর তিনি যেহেতু সরকারি ভূমি-বণ্টনের দলিলকে মূল উপজীব্য ভেবে গবেষণা সামনে এগিয়ে নিয়েছেন সেখানে একটি বিষয়ে নির্মোহ বিশ্লেষণ আসা স্বাভাবিক যেটা এসেছে। নতুন নতুন উর্বর ভূখণ্ড তৈরির পাশাপাশি সমৃদ্ধ নগর বিরান হওয়ায় বদলেছে বাংলার ইতিহাস। পাশাপাশি লোভাতুর মোগলদের চোখে ধর্ম কোনো ব্যাপারই ছিলো না। তারা উর্বর এবং সমৃদ্ধ বাংলার দখল নিতে চেয়েছিলো এই সত্যটাও কিঞ্চিত হলে বুঝতে পেরেছেন রিচার্ড ইর্টন, এজন্য তাঁর ধন্যবাদ প্রাপ্য। তবে বেলা শেষে প্রশ্ন থেকেই যায় তিনি আবদুল করিম স্যার, ইয়াকুব আলি স্যার কিংবা সুখোময় মুখোপাধ্যায়ের কোনো টেক্টটই সেভাবে অনুসন্ধিতসু বিশ্লেষণী চোখে দেখেন নি, নাকি দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে গেছেন? আর এ দুটো কোনো একটা সত্যি হলে এই গ্রন্থটিকে অসম্পূর্ণ প্রমাণ করা যায়।

পীর দরবেশ আর কথিত জঙ্গনামার যে ইতিকথা ইটন সাহেব ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে চাইছেন তার জন্য ব্যবহৃত সূত্রগুলোও দুর্বল। অন্তত লিপি মুদ্রা বাদ দেয়া যাক বৃন্দাবনদাসের চৈতন্যভাগবত (১৫৭৩), জয়ানন্দের চৈতন্যমঙ্গল (১৬শ শতকের শেষভাগ), লোচনদাসের (১৫২৩-১৫৮৯) চৈতন্যমঙ্গল, কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত (১৬১৫),নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর, নিত্যানন্দ দাসের প্রেমবিলাস ও ঈশান নাগরের অদ্বৈতপ্রকাশ (১৫৬৮-৬৯) গ্রন্থগুলির কোনো ইংরেজি অনুবাদের সূত্রও ইটন সাহেব উল্লেখ করেন নাই। এগুলোই প্রমাণ করে ইটন সাহেব এতোক্ষণ আমাদের দাদাবাড়ির যে বর্ণনা দিয়েছেন সেটার আগে তিনি বাড়ির ভেতরেই ঢুকতে পারেন নাই। ফলে সেটা বাইরে থেকে দেয়া বর্ণনা। তিনি যেহেতু ভিতরেই ঢুকতে পারেন নি, কিংবা ঢোকার ইচ্ছেই হয়ত তাঁর ছিলো না। তাঁর সুন্দর বর্ণনাকে আমরা একটা উপন্যাস কিংবা গল্প হিসেবেই ধরে নেই, আর ইতিহাসটা চলুক তার নিজস্ব গতিপথে অন্তত উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ আর প্রত্নসূত্রকে উপজীব্য করে।

আমি প্রশ্ন তুলতে চাই বাংলায় ইসলামের সঙ্গে দিল্লির পার্থক্য অনেক। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে তার তুলনা করা নিতান্তই বোকামি। খেয়াল করলে দেখা যাবে রাজধানী এবং ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে দূরের স্থানগুলোতে ইসলামের প্রভাব এখানে বেশি। সম্প্রতি বাংলায় ইসলাম প্রচারে সাফল্য শীর্ষক একটি বই লিখেছেন আকবর আলি খান। এগ্রন্থে বাংলায় ইসলাম প্রচার ও মুসলমানদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে নানা মুনির নানা মতের বিশ্লেষণের একটি প্রয়াস লক্ষ করা গেছে। তিনি বাংলা ইসলামের প্রসারের পেছনে দুর্বল গ্রামীণ কাঠামোকে মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন।  পূর্ব বাংলার উন্মুক্ত গ্রামের সংখ্যাধিক্যের কারণে ইসলামের প্রসারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এসব গ্রামের বেশিরভাগরই খুবই দুর্বল এবং নিয়ন্ত্রণহীন পরিবেশে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ছিল প্রবল। এ ধরণের পরিবেশে ধর্মান্তরে কোনো বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ছিলনা। ফলে এখানে পীররের পীরদের সম্মোহনী শক্তিতে ও মজেযায় অভিভূত হলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে দ্বিধা করেনি। অর্থনীতির ভাষায়, সামাজিক পুঁজির ঘাটতি বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে সহায়ক হয়েছে। অন্তত মোগল আমলে কৃষিজমির বণ্টনের ভিত্তিতে আরও পূর্ববর্তী সময়কালের ইতিহাস যেভানে রিচার্ড ইটন ব্যাখ্যা করেছেন তার থেকে উত্তরণ ঘটাতে অন্যতম মাইলস্টোন আকবর আলি খানের এই মন্তব্য।

আকবর আলি খানের ভাষ্যে ইতিহাসবিদ, সমাজসত্ত্ববিদ ও নৃতাত্ত্বিকদের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক শেষে এখন একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান  নিম্নবর্ণের হিন্দুদের থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছে। আরেক দল ঐতিহাসিকদের ধারণা, বাংলার মুসলমানরা বিদেশ থেকে আগত মুসলমান সেনাদের অংশ। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদই মনে করেন, বাংলায় ইসলাম প্রচারে আরব বণিকদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিলনা। আমি একটা বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই, তা হচ্ছে  আরব বণিকরা যেসব অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেছেন, সেখানে শাফেয়ী মজহাব প্রাধাণ্য লাভ করেছে। বাংলায় শাফেয়ী মজহাবের কোনো প্রভাব দেখা যায়না। এখানে হানাফি মাযহাবের মানুষের আধিক্য এখনও লক্ষ্যনীয়। তাই আকবর আলি খানের এই বক্তব্য বিশ্লেষণ করতে গেলে অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ তাঁর গবেষণায় সুফিদের যে ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন তার সঙ্গে দ্বিমত পোষনের সুযোগ নাই।

কার্যত বাংলায় ইসলাম প্রচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন সুফি দরবেশ ও পীরেরা। তবে বাংলায় পীররা তাৎক্ষনিকভাবে সাফল্য অর্জন করেছেন কিনা- এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে এখনও মতানৈক্য রয়েছে। কেউ বলেন, বাংলায় গোত্রভিত্তিক ধর্মান্তরের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে বেশির ধর্মান্তর সম্পন্ন হয়। আবারও কারও মতে, এখানে পরীররা তাৎক্ষনিক সাফল্য অর্জন করেননি। প্রায় ছয়শ’ বছর ধরে ধীরে ধীরে বাংলায় ব্যক্তি পর্যায়ে ধর্মান্তর হয়েছে।  ইতিহাসবিদ অসীম রায় ও রিচার্ড এম ইটনের বিভিন্ন মতকে সামনে রেখে পীরদের সাফল্যের কারণ বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।

যাই হোক বাংলার অস্থিতিশীল প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশে আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে একটি বন্ধন সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ছিল। সেন আমলে ব্রাহ্মণ্যবাদী ধারণার প্রসার মানুষের সামাজিক অধিকার হরণ করে নিয়েছিল। সেদিক থেকে চিন্তা করতে গেলে বাংলায় আগত সুফি, দরবেশ ও পীরেরা এ অঞ্চলের মানুষের মনের চাহিদা পূরণ করেছিলেন। তাই দলে দলে হিন্দুরা ইসলাম গ্রহণ করে থাকতে পারে।  তবে এসব সুফি সাধক, দরবেশ পীরেরা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে যে ভূমিকা পালন করেছেন, এখানেও তাই করেছেন। ফলে বাংলার ইসলাম আগমনের বিষয়টি একটু ভিন্ন হয়েছে এর ভূ-পরিবৈশিক কারণে। এর যাতায়াত এবং কৃষিভিত্তক জীবনও এই অঞ্চলে ইসলামের প্রসারকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। যাই হোক কৃষি প্রসারের যে তত্ত্ব ইটন সাহেব হাজির করেছেন খেয়াল করলে দেখা যায় তার সারবস্তু হচ্ছে আরব থেকে আসা মানুষরা এদেশের মানুষকে উন্নত কৃষির ধারণা দিয়েছে। তারপর তারা দলে দলে মুসলমান হয়েছে। অন্যবিষয় যাই হোক, মরু অঞ্চল থেকে আগত বেদুইন টাইপের কারও থেকে হাজার বছরের কৃষি ঐতিহ্যের একটি দেশের জন্য এ বক্তব্য নিতান্তই হাস্যকর।

Dr. Md. Adnan Arif Salimhttp://salimaurnab.com/
জন্ম ১৯৮৯ সালের ১ নভেম্বর কুষ্টিয়াতে। পাবনার পাকশীতে পৈত্রিক নিবাস। পিতা মরহুম আরিফ যুবায়ের এবং মা সেলিনা সুলতানা। বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পাবনা জেলার পাকশীর নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ২০০৭ সালে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১১ সালে স্নাতক সম্মানে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। এর পরের বছর ঐ একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরের পাঠ শেষ করেন। স্কুল পর্যায় থেকে নানা ধরণের লেখালিখি ও অনুবাদ কর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নন্দিত ইতিহাস গবেষক অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজের গবেষণা সহকারী হিসেবে প্রথম ইতিহাস বিষয়ক লেখা শুরু করেন। পরবর্তীকালে এই একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি গবেষণা শেষ করেন। পাশাপাশি লিখেছেন বেশ কয়েকটি বৈষয়িক গ্রন্থ। একক কিংবা সহলেখক হিসেবে তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহাসিক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতিসত্তার বিকাশ, আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস (১৪৫৩-১৭৭৯ খ্রি.) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস (১৭৮৯-১৯৪৫ খ্রি.), গুপ্তগোষ্ঠী ফ্রিম্যাসনারির কথা, গুপ্তগোষ্ঠী ইলুমিনাতি, বাংলাদেশের সমাজতত্ত্ব, প্রত্নচর্চায় বাংলাদেশ, জেরুজালেম, তাজমহলের গল্প, হালাকু খান, শের শাহ, পিরামিড প্রভৃতি। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার ইতিহাসচর্চায় ভূগোল শীর্ষক গ্রন্থটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!

Must Read

তোমরা যারা ডেথ রেস খেলো

১. কিছুদিন আগে আমার সাথে দুইজন ছাত্রী দেখা করতে এসেছে। রাগে দুঃখে ক্ষোভে তাদের হাউমাউ করে কাঁদার মত অবস্থা, কিন্তু বড় হয়ে গেছে বলে সেটি...

কোথাও কেউ নেই

গ্রামবাংলার একটি জনপ্রিয় প্রবচন হচ্ছে, ‘মানুষের ভাগ্য আর লুঙ্গি বড়ই অদ্ভুত, এর কোনটা কখন খুলে যায় বলা কঠিন।’ ভাগ্য খোলা আসলে অনেক বড় কিছু,...

যে ‘দিদি’ এবং ‘ভাই’ আমাদের ভাবায়

জয়দেবপুর রেল জংশন থেকে সেই সুনামগঞ্জ কতটা পথ! সড়ক যোগাযোগের কথা বাদ দেয়া যাক। সরাসরি রেলপথেও সেখানে যাওয়ার সুযোগ কম। তবু শয়নে-স্বপনে নয়, যাপিত...

বাংলার মধ্যযুগ চর্চার পথিকৃৎ

আজ বাংলার ইতিহাসের কিংবদন্তী গবেষক, প্রখ্যাত লেখক, মধ্যযুগের বাংলার মুদ্রা ও শিলালিপি বিশেষজ্ঞ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল করিমের মৃত্যুদিবস। শুরুতেই...

বালিশ উত্তোলনের ইতিহাস

কি শুনে হাসি পায়! বালিশ উত্তোলনেও আমাদের আছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমার অনেক প্রিয় লেখকদের একজন Simu Naser। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে নতুন চাকরিতে...