ঢাকার রাস্তায় রবীন্দ্রনাথ

কবিঃ আহা আজি এ প্রভাতে ঘন জল
কোথা হারালো মন, খুজিয়া পাই না তল
রিক্সাওয়ালাঃ চাচা মিয়া কি মজা লন?
রাস্তাঘাট ডুবা, আর আপনে এসব কি কন?
কবিঃ তিন চাকা ঘুরাইতেছো, কে তুমি বাছা?
রবীন্দ্রনাথ আমি, নই তোমার চাচা!!
রিক্সাওয়ালাঃ আরে রাখেন আপনার রবীগিরি
রিক্সা ডুবেছে জলে, চালাইতে আমি মরি
কবিঃ আহা বৎস, এমন অকুলও বর্ষণে
দুর্বার তোমার রিক্সা, পিচ ঢালা পথ ঘর্ষনে
রিক্সাওয়ালাঃ পথ পাইলেন কই? পানি থৈ থৈ
কে জানে ম্যানহোল সব আছে কৈ কৈ
কবিঃ এ জলেই তো মিশেছে যৌবন, তারুণ্যের গান
এ জলেই মিশে যাবে প্রেয়সীর অভিমান
রিক্সাওয়ালাঃ এ জলে আছে যত ড্রেনের গু
ওয়াক থু! ওয়াক থু!
কবিঃ তুমি বাছা বকো খুব, রিক্সা টানো
লিখেছো কি দু’চরণ? জলের তুমি কি জানো?
রিক্সাওয়ালাঃ পারিবেন কি গিলিতে এই জল দু’ঢোক?
তাহলে বুঝিতাম আপনি কেমন লোক।।
কবিঃ আহা, এ হলো শ্রাবণের জল, মিশে আছে নবধারা
এ যেনো আমার, ধনধান্য জলে ভরা
হঠাৎ প্রবল বর্ষণের শুরু……… :'( :'( :'(
রিক্সাওয়ালাঃ ওহে মিঃ কবি, ওহে জল মশাই
পর্দা নাই রিক্সায়, আপনাকে ক্যাম্নে যে বসাই…
কবিঃ হতচ্ছাড়া বৃষ্টি আর পাইলে না আসিবার ক্ষণ
ভিজিলো আচকান আর দাড়ি, কি বলিবে জনগন!!
হায় ঈশ্বর !! সামনে একি পথ নাকি পুস্কুনি!!
রিক্সাওয়ালাঃ আপনিই তো দিচ্ছিলেন, বৃষ্টিকে উসকানি…
কবিঃ চুপ শালা, রিক্সা ঘোরা, বাসায় নিয়ে চল
ছেহ! কি কাঁদা! লাগিবে ফ্রেশ জল
রিক্সাওয়ালাঃ আহা কবি, চলেন যাই, গন্তব্য বহুদূর
আপনার তো অতি পছন্দ ওই মেঘ গুর গুর
কবিঃ না, আমি পারিবো না ওই জলে করিতে স্নান
আড়াল থেকে কেউ দেখিলে যাইবে জাত মান
হঠাৎ করিয়া রিক্সার চাকা পড়ে গেলো ম্যানহোলে
পড়িয়া গেলেন রিক্সা থেকে গলা ডুবিলো জলে
কবি করিলেন লাফালাফি আর বেদম চিৎকার
এ জীবনে বর্ষা নিয়ে লিখিবো না আমি আর
চার দেয়াল ও জানালা দিয়ে পাড়াই যায় ফাল
রাস্তায় নামিলেই বোঝা যায় কত ধানে কত চাল..
 
কোনো এক কল্পিত ২২ শ্রাবণের সকাল। রিক্সায় উঠে ঢাকা শহরে ঘুরছেন রবীন্দ্রনাথ। মাত্র বৃষ্টি শেষ হয়েছে। মেঘে ঢাকা চারিদিক এমন সময় ঠিক তার পেছনের রিক্সায় ছিলেন রৌশান তাইন ভাই। এ অভিজ্ঞতাগুলো তিনিই বর্ণনা করেছিলেন কাব্যভাষায়।
প্রিয় বেড়াল কাঁধে লেখক রৌশান তাইন

Related posts

Leave a Comment

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!