Home এই সময় কোথাও কেউ নেই

কোথাও কেউ নেই

গ্রামবাংলার একটি জনপ্রিয় প্রবচন হচ্ছে, ‘মানুষের ভাগ্য আর লুঙ্গি বড়ই অদ্ভুত, এর কোনটা কখন খুলে যায় বলা কঠিন।’ ভাগ্য খোলা আসলে অনেক বড় কিছু, নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্তের জীবনে সেটা সচরাচর ঘটে না। ফলে দ্বিতীয়টির খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বহুগুণে। লুঙ্গি খুলে গেলেও আড়ালে মুখ লুকিয়ে মুচকি হাসার মতো কিছু ঘটেনি। নতুন মাড় দেয়া লুঙ্গির ভাঁজ খুলেছে আমার ছোট ভাই। আর ভাঁজ খোলার পর দুজনেরই চক্ষু চড়কগাছ। রাতদুপুরে তাড়াহুড়ো করে লুঙ্গিটা কেনা হয়েছিল। ধবধবে সাদা বসনের পাশাপাশি গলায় পৈতা-কপালে চন্দনের ছাপ আর কাশফুলের মতো পাকা চুল দেখে বিভ্রান্ত হয়ে কিনা জানি না, ওই লুঙ্গি কেনার সময় সেটা উল্টেপাল্টে দেখে নেয়া হয়নি। ফলে যা হওয়ার সেটাই হয়েছে, এক লুঙ্গিতে অন্তত ৮-১০টা জায়গায় ‘হব্ব’ তথা সুতায় প্যাঁচ পড়া, তারপর আজেবাজে দাগ-ছোপ রয়েছে গোটা বিশেকের মতো। লোভে পড়ে বাঙালি নাকি হাজার টাকার লুঙ্গিতে করে ১০ টাকার আলকাতরা টেনে আনতে পারে। এ লুঙ্গি দিয়ে ওই রকম আধ্যাত্মিক এবং মহান কোনো কাজ করা গেলেও পরিধেয় হিসেবে ব্যবহার সম্ভব নয়।

ঘটনার পরদিন যথারীতি অভাগার ভাগ্যবদল না হোক অন্তত ‘লুঙ্গি’বদলের আশায় গিয়ে হাজির হয়েছিলাম ওই দোকানির কাছে। কিন্তু বিধি বাম! সেদিন নাকি সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরেকটি দিন। এর ঠিক পরদিন আমরা আবার গেলাম। গিয়ে শুনি দোকানির নাতনির জন্মদিন, তিনি আসবেন না। তৃতীয় দিন আবার গিয়ে হাজির। এবারের অজুহাত তিনি অদূরেই তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। তারপর এভাবে একদিন, দুদিন, তিনদিন এবং তার পরদিন কেটে গেল। পরিশেষে নিরর্থক পরিহাসে আবিষ্কার করি, ‘কোথাও কেউ নেই’। গরিবের নাকি ডালরুটিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, কাবাবে হাড্ডিও থাকে। তাই কাবাব খেয়ে দাঁত ভাঙলে তার দায়টাও গরিবের ওপর বর্তায়। আমাদের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছিল। ছোটলোক মধ্যবিত্ত হয়ে কেন যে নামি দোকানে প্যাকেটে রাখা লুঙ্গি কিনতে গেছিলাম! সরাসরি জোলাবাড়িতে গিয়ে মাড় থেকে তুলে তারে শুকোতে দেয়া লুঙ্গি না কেনায় নিজের ভাগ্যকে দোষ দিয়ে এ যাত্রা ক্ষান্ত হয়েছিলাম। ওই লুঙ্গিটা পরিধানের অযোগ্য হওয়ায় ঘর মোছার কাজে লেগে আস্তে আস্তে আরো নোংরা এবং ততোধিক মলিন হয়ে গেলেও ঘটনাটা ভুলে যেতে পারিনি।

জয়দেবপুরের নামকরা একটি রেস্তোরাঁ। ডাল-খিচুড়ি, ভাজি-ভর্তা, সবজি, মাছ-মাংস আর ডালের মিশেলে বাংলা খানাপিনার জন্য বেশ খ্যাত। একদিন দুপুরে সস্ত্রীক গিয়ে হাজির হয়েছিলাম সেখানে। প্রচণ্ড হট্টগোল আর জনসমাগম উপেক্ষা করে ওই তীব্র ভিড়ের মধ্যেও নানা বাহারি খাবারের সুঘ্রাণ মৌতাত তুলছে চারপাশে। আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম, আর যা-ই হোক এখানে আপত্তিকর কিছু ঘটবে না। একটু পর খেয়াল করে দেখি আমাদের সামনেই বেশ আগ্রহ নিয়ে বসেছেন জনৈক ‘তালপাতার সেপাই’ কিছিমের মানুষ। দেখে মনে হয় ভদ্রলোক অনেক কষ্টে আধা প্লেট ভাত এবং একটা মাংসের টুকরা হয়তো গলাধঃকরণ করতে পারেন। আমরা অর্ডার দিয়ে খাবার পরিবেশনের অপেক্ষায় বসেছিলাম। তাই কী আর করা, তীব্র ক্ষুধা আর তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি বিরক্তি নিয়ে চারপাশে নজর রাখছিলাম।

ওই ভদ্রলোকের টেবিলে যখন খাবার পরিবেশন করা হয়, তা দেখে তার শুধু নয়, আমাদেরও চোখ কপালে ওঠে। তিনি খাবারের পরিমাণ নিয়ে শুরুতেই আপত্তি জানালেন। তার আপত্তি থোড়াই কেয়ার করে পরিবেশক সেখান থেকে কেটে পড়ল। তিনি অনেকটা বিরক্তি নিয়েই খাওয়া শেষ করে যখন বিল দিতে গেলেন, তাকে একসঙ্গে ‘তিনজনের সমপরিমাণ বিল’ দিতে বলা হয়। তিনি আপত্তি জানালে উত্তর এল, এটাই এ হোটেলের নিয়ম। ফলে এক প্লেট খাসির দ্বিগুণ ৩৬০ টাকা এবং আধগামলা ভাজি ৯০ টাকা, পুরো এক বাটি ডাল ৪০ টাকা এবং ইত্যাকার বিষয় মিলিয়ে ভদ্রলোকের বিল এল ৫৬০ টাকা। তিনি বিচার চাইতে উঠে দাঁড়ালেন। হোটেল ম্যানেজারের ডেস্কে গিয়ে দেখলেন সেখানে ম্যানেজার নেই, তিনি খাবার হোটেল চালালেও সেখানকার খাবারে আস্থা রাখতে পারেননি; বরং দুপুরের খাবার খেতে চলে গেছেন নিজ বাসায়। চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়ে ওই ভদ্রলোক বুঝলেন, সত্যিই এত মানুষের ভিড়ে তার আপনজন ‘কোথাও কেউ নেই’। এ অন্যায়ের বিচার করতে পারে এমন কেউ আসলেই নেই। আর তেমন কাউকেও দেখলাম না, যিনি বিচার না হোক অন্তত ওই ভদ্রলোকের দুঃখের কথা শুনে তাকে একটু সান্ত্বনা দিতে পারেন। আমার মনে হয়, তিনি খুব ভালো করেই জানেন বাসস্টপ, রেলস্টেশন আর পেট্রল পাম্পের দোকানগুলোয় ১৫ টাকার মিনারেল ওয়াটার বিকোয় ২০ টাকায়, ২ টাকার চকোলেট ৫ টাকায় এবং ১০ টাকার চিপস ১৫ টাকায়। তাই কোনো উচ্চবাচ্য না করে ভদ্রলোককে বেরিয়ে যেতে দেখলাম একটু পরে।

মিরপুর এক নম্বর থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের দিকে যাওয়ার যে বিশাল চওড়া রাস্তা, সেখানে একটা সময় বিশালাকৃতির বাজার বসত। যানজটের তীব্রতা দেখে সিটি করপোরেশন হয়তো ভুলক্রমে জনগণের প্রতি সদয় হয়। তারা সেখানকার কাঁচাবাজার উচ্ছেদ করে। তাতে কিছুদিন রাস্তা পরিষ্কার থাকলেও নতুন করে আপদ হয়ে দেখা দেয় হকাররা। তারা প্রতিদিন দুপুর গড়িয়ে বিকাল আসার আগেই সেখানে দলে দলে জড়ো হতে থাকে। তাদের ভিড়ে ওই রাস্তার দু’পাশে এখন ‘থাইল্যান্ডের ক্লংস’ ‘প্রাচীন গ্রিসের আগোরা’ কিংবা মোগল মহলের ‘মিনা বাজারের’ দশা। বিশাল রাস্তার দুই পাশে ভ্যানে কিংবা ঠেলা গাড়িতে বসা কাপড়ের দোকানগুলো ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার যে সরু গলিপথ, সেখানেও উল্টো দিক থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন অনেক প্রাইভেট কার আরোহী। আশপাশে দু-একজন ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তাদের নাস্তানাবুদ অবস্থা। বাংলাদেশে অনেক বিপ্লব হলেও গ্রাম্য নারীর নাকি ভাসুরের নাম মুখে নেয়া পাপ। তেমনি বন্ধ রাস্তায় নাকানি-চুবানি খেয়ে ঘেমে-নেয়ে একাকার হলেও ‘ভাসুরের নাম মুখে নেয়ার’ তথা প্রতিবাদ করার ‘কোথাও কেউ নেই’।

আমাদের এক ভাগ্নে গ্রাম থেকে ঢাকায় বেড়াতে এল। তাকে নিয়ে শিশুপার্ক, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, নভোথিয়েটার এমনকি চিড়িয়াখানা এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ালাম। পরে সে বেশ খুশি মনেই গ্রামে ফিরে যায়। তারপর একটা পরীক্ষার প্রশ্নোত্তরে সে লিখে বসে, ‘রাস্তা খননের মাধ্যমে বড় বড় গর্ত তৈরি করা।’ আমি অবাক বিস্ময়ে যখন জানতে চেষ্টা করি, প্রশ্নটা কী ছিল? তার মা উত্তরে জানালেন, সামাজিক বিজ্ঞান সম্পর্কিত কোনো একটি প্রশ্ন ছিল সিটি করপোরেশনের কাজ কী? আমি সম্বিত ফিরে পাই, দোষটা তো আসলে আমারই। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে যেখানে যানজটের মধ্যে পড়তে হয়েছে, সেখানেই চোখে পড়েছে মেশিন বসিয়ে রাস্তা খনন করার দৃশ্য। আর সে উত্সুক হয়ে আমাকে প্রশ্ন করেছে, মামা এখানে এমন গর্ত করছে কারা? আমি বেখেয়ালে হয়তো সত্যটাই বলে দিয়েছিলাম, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।’ তারপর একজন শিশু যদি তার সরল বিশ্বাসে লিখে দেয়, সিটি করপোরেশনের একমাত্র কাজ ‘রাস্তায় বড় বড় গর্ত খোঁড়া’, তবে অবশ্যই সেটা তার দোষ নয়।

আমাদের দুরন্ত শৈশবের অনেকটাই নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক নামের বোঝাগুলো ঘাড়ে চাপিয়ে। দেশখ্যাত জ্ঞানী-গুণীদের জ্ঞানের ভারে ভারাক্রান্ত তত্ত্বকথায় ভরপুর যে পাঠ্যপুস্তক নামের অতিকায় বস্তুগুলো আমাদের দেশে শিশুরা পড়তে বাধ্য হচ্ছে, তার ফলাফল শুধু বিপজ্জনকই নয়; বিপত্তিকরও বটে! বেশির ভাগ শিশুর যেখানে বিদ্রোহী কবি নজরুলের ‘দুরন্ত পথিক’ হয়ে বেড়ে ওঠার কথা, সেখানে তারা এ পাঠ্যপুস্তক পড়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকবির ভাষায় ‘অকালতত্ত্বজ্ঞানী মানব’ হয়ে গুমরে মরছে। সমাজবিজ্ঞানের বিশেষ অধ্যায়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কেন ‘চিত্তবিনোদনের অভাব’ কথাটি যুক্ত হয়েছে, এমন প্রশ্নকারী উত্সুক শিক্ষার্থীরা এ দেশে ‘ফাজিল’, ‘বেয়াদপ’ এবং ‘বেয়াক্কেল’ বলে পরিচিত।

অন্যদিকে যারা আদর্শ ছাত্র, দুরন্ত মেধাবী এবং জাতির ভবিষ্যৎ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, তারা আদতে ‘পুস্তকবাহী গর্দভ’ কিনা, এ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। সেমিনার-সিম্পোজিয়াম থেকে শুরু করে পত্রিকার পাতাজুড়ে অনেক বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন ‘শিক্ষাকে জীবনমুখী করে তুলতে হবে।’ কিন্তু এ ভদ্রমহোদয়দের মধ্যে থেকে যে বা যারা পাঠ্যপুস্তক কিংবা শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে যাচ্ছেন, তাদের স্লোগান হচ্ছে এক ও অভিন্ন এবং সেটা হচ্ছে—‘শিক্ষাকে যেভাবেই হোক শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে লইয়া যাইতে হইবে, যে শিক্ষা বামুনের তা সকলে প্রাপ্ত হইলে একটা ছি ছি কাণ্ড বটে!’

কিন্তু কেন এ বিপদ? কাকডাকা ভোরে আমার শিশুকে কেন গাধার মতো বইয়ের একটা বোঝা দিয়ে স্কুল নামের জেলখানার দিকে দৌড় দিতে হবে? বিকালে খেলাধুলা ও জীবনমুখী কাজ বাদ দিয়ে পিএসসি-জেএসসি নামের সার্কাসে এ প্লাস জোটাতে কেন দৌড়াতে হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে অপদার্থ শিক্ষকের মুখোমুখি কেন হতে হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা রেজাল্টের পাশাপাশি শিক্ষকতার সব যোগ্যতা থাকার পরও তাদের বাদ দিয়ে শিক্ষক নির্বাচনে আত্মীয়তা, কায়িক গড়ন ও সৌষ্ঠব, মুখমণ্ডলের লাবণ্য ও লাস্যময়ী ভঙ্গি কিংবা রাজনৈতিক কোটা কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, এমন প্রশ্ন করার জন্য আসলেই ‘কোথাও কেউ নেই’।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ আফসোস করে লিখেছিলেন, ‘অভিলাষী মন চন্দ্রে না পাক, জোত্স্নায় পাক সামান্য ঠাঁই, কিছুটা তো চাই, কিছুটা তো চাই।’ আমরা জানি, পুরো সিস্টেম যেখানে ঘুণে ধরা, একজন বা দুজনের প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ সেখানে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। ঠিক যেভাবে গেল ঈদুল ফিতরে ৫০০ টাকার বাস-টিকিট সবাইকে কিনতে হয়েছে ৭০০ টাকা দিয়ে। এটা নিয়ে কেউ কেউ প্রতিবাদ করলেও অনেকে ‘কী লাভ’ ভেবে চুপ থেকেছেন। তবে সমস্যা অন্যখানে, সেটা হচ্ছে কিছু অন্যায়-অপকর্মের ঘটনা চোখের সামনে ঘটছে দেখেও যদি কেউ তার বিরুদ্ধে অন্তত প্রতিবাদ না করেন, তবে অপরাধী সেটাকে আর অপরাধ হিসেবে গণ্য না করে স্বাভাবিক ভাবতে থাকবে। সুতরাং সে যা করছে ঠিক করেছে ভেবে এর পরও ওই অন্যায় একইভাবে নির্বিকার করে যাবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আরো কিছু নিরুপায় মানুষ। তাই অবশ্যই কোনো অন্যায় হতে দেখলে যদি প্রতিবাদ করা না যায়, অন্তত প্রশ্নটা করা উচিত এজন্য, যাতে অপরাধী বুঝতে পারে এখানে অন্যায় হয়েছে। এটা করা সম্ভব না হলে দুষ্কৃতকারী ভেবে নিতে পারে তাকে বাধা দেয়ার ‘কোথাও কেউ নেই’।

[শিরোনামটি হুমায়ূন আহমেদের বই থেকে নেয়া]

Dr. Md. Adnan Arif Salimhttp://salimaurnab.com/
জন্ম ১৯৮৯ সালের ১ নভেম্বর কুষ্টিয়াতে। পাবনার পাকশীতে পৈত্রিক নিবাস। পিতা মরহুম আরিফ যুবায়ের এবং মা সেলিনা সুলতানা। বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পাবনা জেলার পাকশীর নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ২০০৭ সালে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১১ সালে স্নাতক সম্মানে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। এর পরের বছর ঐ একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরের পাঠ শেষ করেন। স্কুল পর্যায় থেকে নানা ধরণের লেখালিখি ও অনুবাদ কর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নন্দিত ইতিহাস গবেষক অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজের গবেষণা সহকারী হিসেবে প্রথম ইতিহাস বিষয়ক লেখা শুরু করেন। পরবর্তীকালে এই একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি গবেষণা শেষ করেন। পাশাপাশি লিখেছেন বেশ কয়েকটি বৈষয়িক গ্রন্থ। একক কিংবা সহলেখক হিসেবে তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহাসিক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতিসত্তার বিকাশ, আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস (১৪৫৩-১৭৭৯ খ্রি.) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস (১৭৮৯-১৯৪৫ খ্রি.), গুপ্তগোষ্ঠী ফ্রিম্যাসনারির কথা, গুপ্তগোষ্ঠী ইলুমিনাতি, বাংলাদেশের সমাজতত্ত্ব, প্রত্নচর্চায় বাংলাদেশ, জেরুজালেম, তাজমহলের গল্প, হালাকু খান, শের শাহ, পিরামিড প্রভৃতি। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার ইতিহাসচর্চায় ভূগোল শীর্ষক গ্রন্থটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!

Must Read

তোমরা যারা ডেথ রেস খেলো

১. কিছুদিন আগে আমার সাথে দুইজন ছাত্রী দেখা করতে এসেছে। রাগে দুঃখে ক্ষোভে তাদের হাউমাউ করে কাঁদার মত অবস্থা, কিন্তু বড় হয়ে গেছে বলে সেটি...

কোথাও কেউ নেই

গ্রামবাংলার একটি জনপ্রিয় প্রবচন হচ্ছে, ‘মানুষের ভাগ্য আর লুঙ্গি বড়ই অদ্ভুত, এর কোনটা কখন খুলে যায় বলা কঠিন।’ ভাগ্য খোলা আসলে অনেক বড় কিছু,...

যে ‘দিদি’ এবং ‘ভাই’ আমাদের ভাবায়

জয়দেবপুর রেল জংশন থেকে সেই সুনামগঞ্জ কতটা পথ! সড়ক যোগাযোগের কথা বাদ দেয়া যাক। সরাসরি রেলপথেও সেখানে যাওয়ার সুযোগ কম। তবু শয়নে-স্বপনে নয়, যাপিত...

বাংলার মধ্যযুগ চর্চার পথিকৃৎ

আজ বাংলার ইতিহাসের কিংবদন্তী গবেষক, প্রখ্যাত লেখক, মধ্যযুগের বাংলার মুদ্রা ও শিলালিপি বিশেষজ্ঞ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল করিমের মৃত্যুদিবস। শুরুতেই...

বালিশ উত্তোলনের ইতিহাস

কি শুনে হাসি পায়! বালিশ উত্তোলনেও আমাদের আছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমার অনেক প্রিয় লেখকদের একজন Simu Naser। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে নতুন চাকরিতে...