আন্দোলন যখন টি-শার্টে

গরমের দিনে ঘামের বোটকা গন্ধ উপেক্ষা করে একমাত্র খচ্চরই পারে গা ঘেঁষে দাঁড়াতে। এর বাইরে যা আছে পুরোটাই টি-শার্ট বিক্রির ধান্দা। একটা আন্দোলনের নামে যারা টি-শার্ট বিক্রিকে প্রমোট করছেন তাদের জন্য অভিনন্দন নাকি করুণাজ্ঞাপন কোনটা করা উচিত ভেবে পাচ্ছি না। তবে সবসময় প্রগতির কথা বলে, নারী পুরুষ সমান তত্ত্ব প্রচার করে বেড়ানোর এক পর্যায়ে এসে গা ঘেঁষা নিয়ে এলার্জিমূলক বক্তব্য প্রচার অনেকটা শরীয়াহ আইনের বয়ান হয়ে গেল না!! তার মানে প্রয়োজনের সময় ইসলামী আইন ব্যবহার যায়েজ আছে। শুধু ভোগ-লালসা চরিতার্থ করার ক্ষেত্রে উভয়ের সম্মতিতেযে যে জীনা-ব্যভিচার কিংবা সুদ গেলার যে ধান্দা সেখানে বাধা দিলেই ইসলাম খুব খারাপ।

তা ভূপেন এ কেমন দ্বি-চরিতা? এই গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না টি-শার্ট বিক্রি বাদেও কি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যেত না? এটাকে অনেকটা বাংলা সিনেমার জনধিকৃত দুটি সংলাপের সঙ্গে তুলনীয় মনে হয়েছে আমার কাছে। ভিলেন মু হা হা হা ভাব নিয়ে রাক্ষসের উন্মত্ততায় রেপ করতে যায়। তারপর নায়িকা বলে– ‌’ছেড়ে দে শয়তান, তোর বাড়িতে কি মা বোন নেই’ কিংবা ‘ শয়তান তুই দেহ, পেলেও মন পাবি না’। যারা খাটাশ, খচ্চর এবং ধর্ষক তাদের প্রত্যেকেরই মা-বোন এবং হয়ত স্ত্রী কিংবা প্রেমিকাও থাকে। তারপরেও তারা ধর্ষণ করে নিকৃষ্ট যৌনতাড়না মেটাতে। অদ্ভুত ব্যপার এদের যৌন লালসায় শুধু দেহই প্রয়োজন, মন দিয়ে তারা কি করবে? কিন্তু চলচ্চিত্রের ডায়লগ পড়ে আছে মন নিয়ে।

এই টি-শার্টের বিক্রিবাট্টা ভালই হবে। দু দিন পর দেখা যাবে কোন এক জঙ্গলে তনু-মনু-পানু-শানু-পিনু-তিনু কেউ একজন ধর্ষিত হয়ে পড়ে থাকবে। তার বিচার চাইতে রাস্তায় নামার লোক থাকবে না। ফেসবুকের মগা খেলোয়াড়রা দেবতাদের অক্ষম ধনুর্বাণের মত একের পর এক স্ট্যাটাস মিসাইল বর্ষণ করতে থাকবেন। তার সেগুলো পড়ে বক্সের পর বক্স টিস্যু নষ্ট করবে অশ্রু ঝরানো শুশীল কুমির। তবুও এই আন্দোলনের একটা পজিটিভ দিক হচ্ছে মেয়েরা কিছুটা হলেও প্রতিবাদ করছে। তবে নতুন ফ্যাশান ট্রেন্ডস হিসেবে কয়েকজন স্টাইলিশ মেয়ের কয়দিন ভাব নেয়া বাদে প্রতিবাদের এ ভাষা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। এর চেয়ে বরং মেয়েরা যদি কুংফু-কারাতের ট্রেইনিং নিত সেটা কাজে আসতো।

(Visited 22 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *