গবেষণা প্রবন্ধের প্রকাশনা এবং জার্নাল প্রসঙ্গ

Md Shajalal Hossain

অনেক দিন থেকে গবেষণা প্রবন্ধের প্রকাশনা প্রসঙ্গে লেখার কথা চিন্তা করেও লেখা হয়ে ওঠেনা।  শাহজালাল হোসাইনের একটি দুর্দান্ত লেখায় সম্বিত ফিরে পাই। তিনি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেছেন সবার সঙ্গে। আমি লেখার শুরুতেই শাহজালাল হোসাইনের সেই তথ্যগুলো তুলে ধরতে চাই। তিনি লিখেছেন—আপনার গবেষণা প্রবন্ধ বা Article টি কোন জার্নালে সাবমিট করবেন? কোন জার্নাল এর সাথে আপনার গবেষণার ফিল্ড অফ ইন্টারেস্ট বা স্কোপ মিলে যায়? সাধারণত যারা গবেষণার প্রথম পর্যায়ে থাকে তাদের কাছে এটা খুবই কমন একটি প্রশ্ন। এমন প্রশ্ন আমাকে অনেক বন্ধু, ছোট ভাই বা সমসাময়িক সহকর্মী অনেকবার করেছে/করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে যতটুকু জানি বলার চেষ্ঠা করেছি। অনেক ক্ষেত্রে আবার একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জার্নালটি প্রকাশ পেতে হয়। ধরুন, আপনার প্রোমোশন বা ডিফেন্সের আর ৬ মাস বাকি আছে, এর মধ্যে আপনাকে একটি পেপার পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রকাশ করতে হবে। এমতবস্থায় আপনি কিভাবে ফিল্ড অফ ইন্টারেস্ট অনুসারে নির্দিষ্ট জার্নালটি সিলেক্ট করবেন? সেটা নিয়েই আজকের লিখা। আমি একজন গবেষক হিসেবে এখনো শিখছি। কাজেই ভুলত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অগ্রিম অনুরোধ করছি।

১। আমরা সকলেই জানি যে Springer একটি অনেক বড় পাবলিশার। তাদের মোটামুটি সব রিচার্স ফিল্ড বা সাব-ফিল্ডের জন্যই একাধিক জার্নাল আছে। এসব জার্নালের মধ্যে আপনার গবেষণার বিষয়বস্তু কোন কোন জার্নালের স্কোপ এর সাথে মিলে তা খুজে বের করার জন্য Springer Journal Suggester খুব সহায়ক একটি ওয়েব সাইট। যেখানে আপনি আপনার manuscript এর সম্ভাব্য Title, Abstract এবং Subject area দিয়ে সার্চ করতে পারবেন। Springer Journal Suggester সেগুলোর উপর ভিত্তি করে আপনাকে জার্নালের একটি লিস্ট প্রদান করবে। আপনি চাইলে Minimum impact factor দিয়েও সার্চ করতে পারেন। এমনকি Minimum acceptance rate, Maximum time to first decision বা কোন কোন Indexing services আছে তা দিয়েও আপনি ফিল্টার করতে পারবেন। লিঙ্কঃ https://journalsuggester.springer.com/

২। একইভাবে Elsevier ও Springer এর মত বড় একটি পাবলিশার। তাদেরও Springer Journal Suggester এর মত জার্নার খুজে বের করার একটি ওয়েবসাইট আছে। সেটির নাম Journal Finder । একই রকম ভাবে এখানেও Title, Abstract, keywords এবং একাধিক field of research দিয়ে জার্নাল লিস্ট খুজে বের করা যায়। আপনি চাইলে একইভাবে এখানেও ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর, সাইট স্কোর, পাবলিকেশন টাইম এসব দিয়ে সার্চ রেসাল্টকে ফিল্টার করতে পারবেন। লিঙ্কঃ https://journalfinder.elsevier.com/

৩। Wiley ও একটি বড় পাবলিশার এবং তারাও একই রকম Journal Finder এর Beta ভার্সন চালু করেছে।
লিঙ্কঃ https://journalfinder.wiley.com/search?type=match
৪। উপরের সবগুলোই একটি নির্দিষ্ট পাবলিশার এর জন্য জার্নাল খুজে বের করার জন্য সহায়ক। JournalGuide নামের আর একটি ওয়েবসাইট আছে যেটার মাধ্যমে যেকোন পাবলিশার এর জার্নাল খুজে বের করা যায়। একইভাবে এখানেও সম্ভাব্য টাইটেল এবং এবস্ট্রাক্ট দিয়ে সার্চ করতে হবে। এখানেও সার্চ রেসাল্টকে আপনি চাইলেই ইমপ্যাক্ট, স্পিড বা ওপেন একছেস আছে কিনা তা দিয়ে সর্ট করতে পারবেন।

লিঙ্কঃ https://www.journalguide.com/

Mahdy Rahman

৫। সাধারণত আমরা গবেষণা করাকালীন সময়ে নির্দিষ্ট টপিকের উপরে অনেক প্রমিনেণ্ট গবেষণা প্রবন্ধ পড়ে থাকি। যেগুলোকে আমরা পেপারে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করি। সাধারনভাবে রেফারেন্স পেপারগুলো সে সব জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো ঐ নির্দিষ্ট ফিল্ডের জন্য রেফার্ড জার্নাল বলা যায়। কেননা আমাদের রেফারেন্স হিসেবে সবচেয়ে সমসাময়িক এবং উন্নত মানের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এমন পেপারই ফলো করা উচিত। তাই আমাদের টার্গেট হওয়া উচিৎ সেসব জার্নাল। যাইহোক অনেক ক্ষেত্রেই এসব উচুমানের জার্নালে পেপার প্রকাশ করা কঠিন এবং একই সাথে সেগুলোর পিয়ার রিভিউ এর সময়ও বেশী দরকার হয়। তবে যারা অনেকদিন একই ফিল্ডে কাজ করছেন তাদের কাছে কোন জার্নাল কত ভাল বা কোনটার ফিল্ড অফ ইন্টারেস্ট কি এসব একদম পানিভাত। কেননা একই ফিল্ডে কাজ করলে স্বভাবিক ভাবেই এই দখল চলে আসে।

তবে এ লেখাটি কোন জার্নাল পিয়ার রিভিউড নাকি প্রিডিটরি সেটা বোঝার জন্য নয়। এটা বোঝার জন্য মাহদী রহমানের লেখাটা পড়া জরুরী। তিনি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন কোন জার্নালগুলোতে প্রবন্ধ প্রকাশ পেলে সত্যিকার অর্থে বিশ্বপরিমণ্ডলে আপনার গবেষনার ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়বে। আর কোন জার্নালে প্রবন্ধ সাবমিট করা একদমই রিচার্স ইথিক্সের মধ্যে পড়ে না। তিনি স্পষ্টত তিন টি পয়েন্ট এ ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেছেনঃ

(১) গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ জার্নাল
(২) Predatory জার্নাল এবং
(৩) জার্নাল এর impact factor

(১) গুরুত্বপূর্ণ জার্নাল কিভাবে চিনবেন ?: আসল বা সত্যিকারের জার্নাল বলতে এমন সব জার্নালকে ধরা হয় যেগুলো হয় Web of Science ইনডেক্সিং কিংবা Scopus ইনডেক্সিং অথবা এই দুটোতেই তালিকাভূক্ত আছে। একটা জিনিস পরিষ্কার করার দরকার, Web of Science (লোকমুখে যেটাকে ISI ইনডেক্স বা Thomson Reuters বলা হয়ে থাকে) এবং Scopus, এই দুটো সম্পূর্ণ দুইটা আলাদা ডেটাবেইজ এবং আলাদা ইন্ডেক্সিং। এ কারণে, এদের Impact Factor, Quartile Ranking (Q1, Q2 etc.) ইত্যাদি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিন্ন হয়।
**Thomson Reuters আসলে Web of Science এর ডেটাবেইজ আর ইন্ডেক্সিং দেখাশোনা করতো, এখন আর ওরা করে না, এখন Clarivate Analytics নামে আরেকটা কম্পানি করে।
** জার্নালের Quartile Ranking চেক করার জন্যে অনেকে SJR এর ওয়েবসাইট ব্যবহার করে যেটা আসলে Scopus ইন্ডেক্সিং এর ভিত্তিতে Ranking দেখায়। নিচের ইমেজ ক্লিক করেন। এখানে সার্চ দিয়ে বেছে নিয়ে  যে জার্নালগুলো আছে তার থেকে পছন্দসই জার্নালে লেখা আপনি প্রকাশনার জন্য প্রেরণ করতে পারেন।

SJR

Rajat Das Gupta

(২) তবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয় Predatory কিংবা দুই নাম্বার জার্নাল কিভাবে চিনবেন সে বিষয়ে। এ সম্পর্কে মাহদী রহমান নিজে কিছু না বলে রেফারেন্স দিয়েছেন রজত দাশগুপ্তার। তাঁর বর্ণনাটি অনেক চমৎকার এবং সাবলীল। তিনি লিখেছেন—- “সকাল বেলা ইমেইল খুলেছেন। দেখলেন Austin Journal of Cancer and Clinical Research থেকে মেইল এসেছে। আপনাকে পেপার সাবমিট করতে বলা হয়েছে। মনের ভিতর আনন্দে লাফিয়ে উঠল। এই তো আপনার জীবনের লক্ষ্য সফল হতে যাচ্ছে। কিন্তু না সাবধান। আপনি ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছেন। এইগুলো ভুয়া জার্নাল। সায়েন্টিফিক কমিউনিটিতে এদের নাম হচ্ছে প্রিডেটরি জার্নাল। এই জার্নালগুলো বেশির ভাগ সময় টাকার বিনিময়ে ঠিকমত পিয়ার রিভিউ না করেই আর্টিকেল পাবলিশ করে। মাঝে মাঝে লেখা জমা দেওয়ার ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশিত হয়। এতে বিজ্ঞানের কোন লাভ হয় না। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে প্রিডেটরি জার্নাল বিশ্বব্যাপী ৭৪ মিলিয়ন ডলারের অনৈতিক ব্যবসা করেছে। দিন দিন সেটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর শিকার আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের গবেষকরা।

একটা কথা মনে রাখবেন দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার আবেদন করলেন। সিভিতে লিংক দিলেন আপনার প্রিডেটরি জার্নালে লেখা প্রকশিত হয়েছে। বাইরের কোন ভালো বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে নিবে না। ভালো বিশ্ববিদ্যালয় বললাম কারণ এখন বাইরেও প্রিডেটরি বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি হয়েছে। সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। কিভাবে চিনবেন কোনটা ভুয়া জার্নাল। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান জিফারি বিল অনৈতিক জার্নালকে প্রিডেটরি জার্নাল হিসেবে অভিহিত করেন এবং বিশ্বব্যাপী প্রিডেটরি জার্নালের একটি তালিকা করেন। এ তালিকা তাঁর ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। এই তালিকা আরেকটি পোস্ট দিয়ে সেখানে যুক্ত করছি পাঠকদের জন্য। এ কথা মনে রাখবেন পাবমেড ইনডেক্স হলেই ভালো জার্নাল ভাবার উপায় নাই। পাবমেডের ভিতরেও প্রিডেটরি জার্নাল আছে। মাঝে মাঝে প্রিডেটরি জার্নালগুলো প্রিডেটরি কনফারেন্স আয়োজন করে। তৃতীয় বিশ্বের অনেক জায়গায় মানুষ ইউরোপ বা আমেরিকান কনফারেন্স শুনলে বেশ গুরুত্ব দেয়। এরা রেজিস্ট্রেশন ফি এর নামে বড় অঙ্কের টাকা নেয়। আরও কষ্টের বিষয় হল, এরা যে হোটেলে কনফারেন্স করবে সেখানকার সাথে একটা চুক্তিতে আসে। গেস্ট-রা এসব হোটেলে ওঠেন, কনফারেন্স এর আয়োজক-রা টাকার ভাগ পায়। এ প্রসঙ্গে (Predatory Conferences Undermine Science And Scam Academics) শীর্ষক লেখাটি পড়তে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাধর্মী জার্নালের মাঝেও একটা ব্যাপার আছে।  কোন জার্নাল টি অন্য জার্নাল এর তুলনায়ে একটু বা বেশী ভালো । এটা আসলে এত সহজে বোঝা যায় না । তারপর ও মোটামুটি একটা পথ হচ্ছে জার্নাল এর impact factor । সাধারণত যেই জার্নাল এর impact factor ১০ এর বেশি। সেই জার্নাল যে অসাধারণ জার্নাল -এটা সকলের ই বুঝা উচিৎ। তবে এর থেকে মনে করা যাবে না যে কোন ‘সত্যিকার’ জার্নাল এর impact factor ১ হলে , সেটি খারাপ । এই ব্যাপারে অভিজ্ঞ দের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে অন্যদিকে মূল প্রশ্ন হচ্ছেএই impact factor আসলে কোন impact factor ? এই impact factor চিহ্নিত করতে হবে Thomson Reuters এর / Scopus এর impact factor থেকে।ভুলেও অন্য কোন ভুয়া impact factor বিশ্বাস করা যাবে না। Predatory কিংবা দুই নাম্বার জার্নালগুলিও কিন্তু এরকম impact factor অনেক সময় লিখে রাখে। এতে আপনাকে ধোঁকা দেওয়া গেলেও পরে উচ্চশিক্ষা কিংবা গবেষণার জন্য কোথাও সেগুলো উপস্থাপন করে দেখবেন সব জার্নালই predatory journal এবং যেগুলার কোন ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরই নেই তখন পুরোপুরি হতাশ হওয়ার পথ পাবেন না। আমদের দেশে একজন শিক্ষকের গবেষণার সক্ষমতা ও পাঠদানের যোগ্যতার থেকে তার বয়সকে গুরুত্ব দিয়ে পদোন্নতির যে অসুস্থ সংস্কৃতি চালু আছে সেখানে জার্নালের ব্যাপারগুলো সবার পক্ষে বোঝা কঠিন। তাই দেখা যাবে বিদেশী শুনে অনেক গুণী অধ্যাপক পর্যন্ত নানাবিধা predatory journal এ নিজের নাম দিতে গর্ব বোধ করেন।

Prof. Dr. Saleh Hasan Naqib & Prof. Dr. Raihana Shams Islam

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নন্দিত পদার্থবিজ্ঞান গবেষক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব স্যার প্রসঙ্গে লিখেছেন— কাজকাম তেমন নাই। নদীর ধারে বসে বসে বাদাম খাচ্ছেন। হঠাৎ মনে হল একটা জার্নাল প্রকাশ করবেন। করে ফেলতে পারেন। কোন অসুবিধা নেই। আপনি হবেন এডিটর, আপনার শ্যালক এবং দুলাভাইস্থানীয় দু’জন সাব-এডিটর। ভোটে ফোটে দাড়ায় এবং জেতে টেতে এমন ক’জন থাকবে অ্যাডভাইজরি বোর্ডে। কতগুলো বিভাগের চেয়ারম্যানদের রাখতে হবে। আপনার কাজ শেষ। বছরে একটা দুটো ইস্যু বের করতে পারলেই হল। দেশে যে দু’চারটি মোটামুটি চলনসই জার্নাল নেই, তা কিন্তু নয়। তবে দু’চারটিই তার বেশি নয়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশী জার্নালগুলোর সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে BanglaJOL (Bangladesh Journals Online)। বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্ম ১৪২টি নিয়মিত এবং অনিয়মিত জার্নাল হোস্ট করছে। এই জার্নালগুলোর মধ্যে অল্প কিছু ছাড়া বাকিগুলো ওই নদীর ধারে বসে, কোন এক সোনালি বিকেলে, কি এক খেয়ালে, জন্ম নিয়েছে। একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে যেনতেন প্রকারে চাকরিতে প্রমোশন।

এই অবস্থার জন্য অবশ্য BanglaJOL-কে খুব একটা দায়ী করা যায় না। যদিও বহু বছর আগে INASP (International Network for the Availability of Scientific Publications) প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে ঠিক এই আশঙ্কার কথাই প্রকাশ করেছিলাম। INASP হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যার পৃষ্ঠপোষকতায় BanglaJOL কাজ করে। সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের মানসিকতার। জার্নালে পাবলিকেশন হচ্ছে গবেষণা দক্ষতার শ্রেষ্ঠ পরিচয়। অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আদৌ জ্ঞান সৃষ্টি হচ্ছে কি না তা বোঝার প্রধান উপায় হচ্ছে শিক্ষক, গবেষকদের জার্নালে প্রকাশনার মান। আমরা মানের ইস্যুটিকে নির্বাসনে পাঠিয়েছি। বহু আটঘাট বেধেই এই কাজ করা হয়েছে। ‘গবেষক’ যে ধরণের ‘অশ্বডিম্ব’ প্রসব করুন না কেন, দেশ থেকে প্রকাশিত কোন না কোন জার্নালে তা প্রকাশ হবেই। আপনি যাই লিখুন অসুবিধা নেই। শুধু উপযুক্ত জার্নালটি খুঁজে বের করতে হবে। অসুবিধা হলে একটু ফোন করবেন, অথবা কাউকে দিয়ে একটু ফোন করাবেন, হে হে করে হাত কচলালেও ভালো কাজ হতে পারে। পেপার হয়ে যাবে। প্রমোশন ঠেকায় কে?

কতগুলো অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন একটি বিভাগ থেকে এক জার্নাল আত্মপ্রকাশ করল, বিভাগের একদল মেধাবি শিক্ষক জার্নালটিতে একধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করলেন। প্রমোশন হয়ে গেল। জার্নাল তারপর থেকে বন্ধ। অথবা বলা যায় শীত-নিদ্রায় আছে, প্রয়োজনে আবার জেগে উঠবে। অথবা অপর একটি বিভাগীয় জার্নালে পরপর দু’বছরে প্রকাশিত দুটি গবেষণা প্রবন্ধ। একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে একটির শিরোনামের শেষে লেখা ‘…Dhaka city context’, অপরটিতে আছে ‘…context of Dhaka city’। আর কোন পার্থক্য চোখে পড়বে না। কী তেলেসমাতি কান্ড! চমৎকৃত না হয়ে পারা যায় না। অথবা দেশের একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ধরুন। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক জার্নাল আছে। পাতা উল্টাতে গিয়ে দেখি একটি গবেষণা প্রবন্ধ, যার শিরোনামের বাংলা অনুবাদ করলে মোটামুটি দাড়ায় – রবীন্দ্র কাব্যে বাংলার প্রকৃতি (যতদূর মনে করতে পারি)। এমন ডাইভার্সিটি আর কোথায় পাবেন? আপনাদের কি জানা আছে করটিয়ার সাদাত কলেজ থেকে একটি জ্ঞানগর্ভ জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে – Journal of Sadat College। যারা জানতেন না তারা জানলেন।

আমাদের বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রমোশনের জন্য যে নীতিমালা তাতে এই Journal of Sadat College-এ প্রকাশিত প্রবন্ধ নিয়ে আপনি প্রফেসর হয়ে যেতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। কাহিনী আর না বাড়াই। সাদাত কলেজ থেকে একেবারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রকাশিত জার্নালের নাম Dhaka University Journal of Science। কী সুন্দর ছিমছাম নাম। তবে জার্নালের focus and scope অংশে পরিষ্কার করে লেখা আছে – “Dhaka Univ. J. Sci. publishes original research papers and short communications submitted by the teachers and scholars of the Dhaka University on any branch of Physical and Mathematical Sciences and their applications. In the case of joint authorship of a paper, one of the authors must be from Dhaka University”। অর্থাৎ ইহারা নিজেদের লোক ছাড়া গবেষণাপত্র গ্রহণ করিবেন না। কী তামাশা! প্রতিযোগিতা আর মান আমাদের একেবারেই পছন্দ নয় – ওই যে বলছিলাম, আমি, আমার শ্যালক এবং দুলাভাই। ভাগাভাগি করে খাই। এই দেশে বাস করি, ভাবি বিস্মিত হব না। কিন্তু বিস্মিত না হয়ে পারি না। গবেষণা নিয়ে বলাৎকার চালু আছে। আর চালু থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই।]]

শেয়ারের জন্য শর্টলিংক:  https://wp.me/paVPdD-cI

(Visited 1,007 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *