দাজ্জাল নিয়ে দাজ্জালি

‘দাজ্জাল’ নিয়ে অতিকথন এবং মিথ্যাচার কিছু ব্যক্তির পুরাতন বদভ্যাস। সম্প্রতি সেখানে যুক্ত হয়েছে কন্সপিরেসি থিওরি এবং বিভিন্ন গুপ্তগোষ্ঠীর নাম । ইসলামের মহিমা বর্ণনার চাইতে এরা ইহুদিদের গালি দেয়া, কাদিয়ানীদের নাস্তিক প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকা কিংবা নারীবিদ্বেষী উল্টাপাল্টা কথা বলে বাজার গরম করতে অভ্যস্থ। সম্প্রতি ‘দাজ্জাল’ এবং ‘Covid 19 মহামারী’ গুলিয়ে ফেলাকে আমি তাদের নতুন রোগ হিসেবে শনাক্ত করেছি। লজ্জার বিষয় তারা এর সঙ্গে একাধারে গুপ্তগোষ্ঠী ইলুমিনাতি, ফ্রিম্যাসনারি, রথচাইল্ড, বিল্ডারবার্গ, স্কাল অ্যান্ড বোনস থেকে শুরু করে যাদের নাম মুখে আসে সবাইকে জড়িয়ে ফেলছে। যা বাস্তবিক অর্থে ইতিহাসবিচ্ছিন্ন আজগুবি চিন্তা এবং মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত করছে।

আমাদের শিক্ষক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের সঙ্গে এদের বর্ণনার অদ্ভুত মিল আছে। স্যার উয়ারী বটেশ্বরে মাটি খুঁজে কিছু প্রত্ন নিদর্শন পাওয়ার পর তার বর্ণনা লিখতে গিয়ে বাংলারে ইতিহাসের অমীমাংসিত সব বিষয়কে সুন্দরভাবে যুক্ত করে ফেললেন। টলেমির সৌনগড়া, গঙ্গাহৃদ্ধি তথা গঙ্গারিডাই, কামস্কাটকা, কামবেরিখন, জয়স্কন্ধবার কোনোকিছুই বাদ পড়েনা তাঁর মুখরোচক বর্ণনা থেকে। এখন মহামারী আসার পর হুজুরদের স্টকে যতগুলো বিষয়ের কিংবা গুপ্তগোষ্ঠীর নাম জানা আছে সবগুলোকে যুক্তকরে রসালো বক্তৃতায় ভরে যাচ্ছে ইউ্টিউব।সুফি স্যার ভদ্রলোক মানুষ, তাঁর গবেষণার সমালোচনা করলে বড়জোর আমাকে বলবেন বেয়াদপ কিংবা ফাজিল। অথবা তাঁর গুণমুগ্ধরা আমাকে গালাগাল করবেন বড়জোর, তাও অতটা বিদ্যায়তনিক সাহস হয়তো ওদের কারো নাই। অন্যদিকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি তাঁর এক্সপার্ট থাকাকালীন আমি ভাইবা দিতে যাই তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করবেন যেন আমার চাকরি না হয়। এর বেশি কিছু করার ক্ষমতা উনার নাই, আর আমিও ভাইবা দিতে ইনশাআল্লাহ যাচ্ছি না ভেবে চট করে কথাটা বলে ফেললাম।

কিন্তু বাংলাদেশের জার্মান ভিসাালোভী নাস্তিক নামধারী ছোটলোক কিংবা কম শিক্ষিত বেশী আবেগী হুজুরদের বিরুদ্ধে কথা বলা বিপদ। জার্মান ভিসালোভী মূর্খগুলোর বিরুদ্ধে কিছু বললে সোজা মৌলবাদী ট্যাগ খাওয়া লাগবে, আর হুজুরদের বিরুদ্ধে কিছু বললে নাস্তিক ট্যাগ তো খাওয়াই লাগবে উপরন্তু ফাঁসির দাবি জানিয়ে মিছিলও হতে পারে। যাকগে ফা্‌উ প্যাচাল তো অনেক হয়েছে। ‘দাজ্জাল’ আসলে কি? কে সে যাকে নিয়ে এত আলাপন? যদি পাঠক আগ্রহী হন আমি সময় নিয়ে উপযুক্ত দলিল নির্ভর বর্ণনা দিতে পারি। লেখাটা স্বভাবতই বিশাল হবে, পাঠকের আগ্রহ না থাকলে অতবড় লেখার ইচ্ছা হচ্ছে না।

তবে বলে রাখি কয়েকটা সূত্র নিয়ে===
১. সহীহ বুখারী: গ্রন্থ ২৯, হাদিস নং ১৪—
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏ ‏ “‏ عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلاَئِكَةٌ، لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلاَ الدَّجَّالُ ‏”‏‏.‏

২. সহীহ বুখারী: গ্রন্থ ৯৭, হাদিস নং ৩৬–
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ذُكِرَ الدَّجَّالُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَخْفَى عَلَيْكُمْ، إِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ ـ وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى عَيْنِهِ ـ وَإِنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ ‏”‏‏.‏

৩. সহীহ বুখারী: গ্রন্থ ৯২, হাদিস নং ৮০– মহামারি প্লেগ এবং দাজ্জাল মক্কা মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلاَئِكَةٌ، لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلاَ الدَّجَّالُ ‏”‏‏.‏
৪. সহীহ বুখারী: গ্রন্থ ৯২, হাদিস নং ৭০– ফেরেশতাদের পাহারার ইঙ্গিত খুব সম্ভবত…
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أُرَاهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُمْنَى، كَأَنَّهَا عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ ‏”‏‏.‏

৫. সহীহ বুখারী: গ্রন্থ ২৯, হাদিস নং ১৬– মদীনার প্রবেশপথে দাজ্জাল কিভাবে অপেক্ষমান থাকবে তার বর্ণনা…
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا طَوِيلاً عَنِ الدَّجَّالِ، فَكَانَ فِيمَا حَدَّثَنَا بِهِ أَنْ قَالَ ‏ “‏ يَأْتِي الدَّجَّالُ ـ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْهِ أَنْ يَدْخُلَ نِقَابَ الْمَدِينَةِ ـ بَعْضَ السِّبَاخِ الَّتِي بِالْمَدِينَةِ، فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ يَوْمَئِذٍ رَجُلٌ، هُوَ خَيْرُ النَّاسِ ـ أَوْ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ ـ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّكَ الدَّجَّالُ، الَّذِي حَدَّثَنَا عَنْكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثَهُ، فَيَقُولُ الدَّجَّالُ أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلْتُ هَذَا ثُمَّ أَحْيَيْتُهُ، هَلْ تَشُكُّونَ فِي الأَمْرِ فَيَقُولُونَ لاَ‏.‏ فَيَقْتُلُهُ، ثُمَّ يُحْيِيهِ فَيَقُولُ حِينَ يُحْيِيهِ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ قَطُّ أَشَدَّ بَصِيرَةً مِنِّي الْيَوْمَ، فَيَقُولُ الدَّجَّالُ أَقْتُلُهُ فَلاَ أُسَلَّطُ عَلَيْهِ ‏”‏‏.‏

৫. সহীহ বুখারী: গ্রন্থ ২৯, হাদিস নং ১৩– তে বলা হয়েছে ‘দাজ্জাল’ মক্কা মদীনাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا طَوِيلاً عَنِ الدَّجَّالِ، فَكَانَ فِيمَا حَدَّثَنَا بِهِ أَنْ قَالَ ‏ “‏ يَأْتِي الدَّجَّالُ ـ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْهِ أَنْ يَدْخُلَ نِقَابَ الْمَدِينَةِ ـ بَعْضَ السِّبَاخِ الَّتِي بِالْمَدِينَةِ، فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ يَوْمَئِذٍ رَجُلٌ، هُوَ خَيْرُ النَّاسِ ـ أَوْ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ ـ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّكَ الدَّجَّالُ، الَّذِي حَدَّثَنَا عَنْكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثَهُ، فَيَقُولُ الدَّجَّالُ أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلْتُ هَذَا ثُمَّ أَحْيَيْتُهُ، هَلْ تَشُكُّونَ فِي الأَمْرِ فَيَقُولُونَ لاَ‏.‏ فَيَقْتُلُهُ، ثُمَّ يُحْيِيهِ فَيَقُولُ حِينَ يُحْيِيهِ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ قَطُّ أَشَدَّ بَصِيرَةً مِنِّي الْيَوْمَ، فَيَقُولُ الدَّجَّالُ أَقْتُلُهُ فَلاَ أُسَلَّطُ عَلَيْهِ ‏”‏‏.‏

৫. সহীহ বুখারী: গ্রন্থ ৯২, হাদিস নং ৭১– মদীনার উপকণ্ঠে দাজ্জাল হাজির হবে। দলে দলে কাফির এবং মুনাফিকরা গিয়ে তার দলে যুক্ত হবে।
حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يَجِيءُ الدَّجَّالُ حَتَّى يَنْزِلَ فِي نَاحِيَةِ الْمَدِينَةِ، ثُمَّ تَرْجُفُ الْمَدِينَةُ ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ، فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ كُلُّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ ‏”‏‏.‏

দাজ্জাল সম্পর্কিত বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্যগুলোকে একত্রিত করতে গিয়ে দেখা যায়।

#পরিচয়
নবী (স) দাজ্জালকে স্বপ্নে দেখে তার শারীরিক গঠনের বর্ণনা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, দাজ্জাল হবে স্থুলকায় লাল বর্ণের, কোঁকড়ানো চুল, এক চোখ কানা, চোখটি যেন ফোলা আঙ্গুরের মত।| সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা- ৭১২৮)। দাজ্জাল নির্বংশ হবে। তার কোন সন্তান থাকবে না। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফিতান) দাজ্জালকে চেনার সবচেয়ে বড় আলামত হল তার কপালে কাফির (كافر) লেখা থাকবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা- ৭১৩১) অপর বর্ণনায় আছে তার কপালে (ك ف ر) এই তিনটি বর্ণ লেখা থাকবে। প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তিই তা পড়তে পারবে। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফিতান)

#বর্তমান_অবস্থান
ফাতেমা বিনতে কায়েস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মসজিদে গমন করে নবী (স) এর সাথে নামায আদায় করলাম। আমি মহিলাদের কাতারে ছিলাম। তিনি নামায শেষে হাসতে হাসতে মিম্বারে উঠে বসলেন। প্রথমেই তিনি বললেন, ‘প্রত্যেকেই যেন আপন আপন জায়গায় বসে থাকে’। অতঃপর তিনি বললেন, ‘তোমরা কি জান আমি কেন তোমাদেরকে একত্রিত করেছি?’ তাঁরা বললেন, ‘আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন’। অতঃপর তিনি বললেন, ‘আমি তোমাদেরকে এ সংবাদ দেয়ার জন্য একত্রিত করেছি যে তামীমদারী ছিল একজন খ্রীস্টান লোক। সে আমার কাছে আগমন করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতঃপর সে মিথ্যুক দাজ্জাল সম্পর্কে এমন ঘটনা বলেছে যা আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করতাম। লাখ্ম ও জুযাম গোত্রের ত্রিশ জন লোকের সাথে সে সাগর পথে ভ্রমণে গিয়েছিল।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শিকার হয়ে এক মাস পর্যন্ত তারা সাগরেই ছিল। অবশেষে তারা সাগরের মাঝখানে একটি দ্বীপে অবতরণ করলো। দ্বীপের ভিতরে প্রবেশ করে তারা মোটা মোটা এবং প্রচুর চুল বিশিষ্ট একটি অদ্ভুত প্রাণীর সন্ধান পেল। চুল দ্বারা সমস্ত শরীর আবৃত থাকার কারণে প্রাণীটির অগ্রপশ্চাৎ নির্ধারণ করতে সক্ষম হল না। তারা বলল, ‘অকল্যাণ হোক তোমার! কে তুমি?’ সে বলল, ‘আমি সংবাদ সংগ্রহকারী গোয়েন্দা’। তারা বলল, ‘কিসের সংবাদ সংগ্রহকারী?’ অতঃপর প্রাণীটি দ্বীপের মধ্যে একটি ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে বলল, ‘হে লোক সকল! তোমরা এই ঘরের ভিতরে অবস্থানরত লোকটির কাছে যাও। সে তোমাদের কাছ থেকে সংবাদ সংগ্রহ করার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে’। তামিমদারী বলেন, ‘প্রাণীটি যখন একজন লোকের কথা বলল, তখন আমাদের ভয় হল যে হতে পারে সে একটি শয়তান। তথাপিও আমরা ভীত হয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়ে ঘরটির ভিতরে প্রবেশ করলাম। সেখানে প্রবেশ করে আমরা বৃহদাকার একটি মানুষ দেখতে পেলাম। এত বড় আকৃতির মানুষ আমরা ইতিপূর্বে আর কখনও দেখিনি। তার হাত দু’টিকে ঘাড়ের সাথে একত্রিত করে হাঁটু এবং গোড়ালীর মধ্যবর্তী স্থানে লোহার শিকল দ্বারা বেঁধে রাখা হয়েছে’।
আমরা বললাম, ‘মরণ হোক তোমার! কে তুমি?’ সে বলল, ‘তোমরা আমার কাছে আসতে সক্ষম হয়েছ। তাই আগে তোমাদের পরিচয় দাও’। আমরা বললাম, ‘আমরা একদল আরব মানুষ নৌকায় আরোহণ করলাম। সাগরের প্রচণ্ড ঢেউ আমাদেরকে নিয়ে একমাস পর্যন্ত খেলা করল। অবশেষে তোমার দ্বীপে উঠতে বাধ্য হলাম। দ্বীপে প্রবেশ করেই প্রচুর পশম বিশিষ্ট এমন একটি জন্তুর সাক্ষাৎ পেলাম, প্রচুর পশমের কারণে যার অগ্রপশ্চাৎ চেনা যাচ্ছিলনা’। আমরা বললাম, ‘অকল্যাণ হোক তোমার! কে তুমি?’ সে বলল, ‘আমি সংবাদ সংগ্রহকারী গোয়েন্দা’। আমরা বললাম, ‘কিসের সংবাদ সংগ্রহকারী?’ অতঃপর প্রাণীটি দ্বীপের মধ্যে এই ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে বলল, ‘হে লোক সকল! তোমরা এই ঘরের ভিতরে অবস্থানরত লোকটির কাছে যাও। সে তোমাদের নিকট থেকে সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে’। তাই আমরা তার ভয়ে তোমার কাছে দ্রুত আগমন করলাম। হতে পার তুমি একজন শয়তান – এ ভয় থেকেও আমরা নিরাপদ নই’।
সে বলল, ‘আমাকে তোমরা ‘বাইসান’ সম্পর্কে সংবাদ দাও’। আমরা তাকে বললাম, ‘বাইসানের কী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছ?’ সে বলল, ‘আমি তথাকার খেজুরের বাগান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি। সেখানের গাছগুলো এখনও ফল দেয়?’ আমরা বললাম, ‘হ্যাঁ’। সে বলল, ‘সে দিন বেশি দূরে নয় যে দিন গাছগুলোতে কোন ফল ধরবেনা’। অতঃপর সে বলল, ‘আমাকে বুহাইরাতুত্ তাবারীয়া সম্পর্কে সংবাদ দাও’। আমরা বললাম, ‘বুহাইরাতুত্ তাবারীয়ার কী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছ?’ সে বলল, ‘আমি জানতে চাই, সেখানে কি এখনও পানি আছে?’ আমরা বললাম, ‘তথায় প্রচুর পানি আছে’। সে বলল, ‘অচিরেই তথাকার পানি শেষ হয়ে যাবে’। সে পুনরায় বলল, ‘আমাকে যুগার নামক ঝর্ণা সম্পর্কে সংবাদ দাও’।
আমরা তাকে বললাম, ‘সেখানকার কী সম্পর্কে তুমি জানতে চাও?’ সে বলল, ‘আমি জানতে চাই, সেখানে কি এখনও পানি আছে? লোকেরা কি এখনও সে পানি দিয়ে চাষাবাদ করছে?’ আমরা বললাম, ‘তথায় প্রচুর পানি রয়েছে। লোকেরা সে পানি দিয়ে চাষাবাদ করছে’। সে আবার বলল, ‘আমাকে উম্মীদের নবী সম্পর্কে জানাও’। আমরা বললাম, ‘সে মক্কায় আগমন করে বর্তমানে মদীনায় হিজরত করেছে’। সে বলল, ‘আরবরা কি তার সাথে যুদ্ধ করেছে?’ বললাম, ‘হ্যাঁ’। সে বলল, ‘ফলাফল কি হয়েছে?’ আমরা তাকে সংবাদ দিলাম যে, পার্শ্ববর্তী আরবদের উপর তিনি জয়লাভ করেছেন। ফলে তারা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে’। সে বলল, ‘তাই নাকি?’ আমরা বললাম, ‘তাই’। সে বলল, ‘তার আনুগত্য করাই তাদের জন্য ভাল।
এখন আমার কথা শুন। আমি হলাম দাজ্জাল। অচিরেই আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। আমি বের হয়ে চল্লিশ দিনের ভিতরে পৃথিবীর সমস্ত দেশ ভ্রমণ করব। তবে মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করা আমার জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। যখনই আমি মক্কা বা মদীনায় প্রবেশ করতে চাইব, তখনই ফেরেশতাগণ কোষমুক্ত তলোয়ার হাতে নিয়ে আমাকে তাড়া করবে। মক্কা-মদীনার প্রতিটি প্রবেশ পথে ফেরেশতাগণ পাহাড়া দিবে’। হাদীসের বর্ণনাকারী ফাতেমা বিনতে কায়েস বলেন, ‘নবী (স) হাতের লাঠি দিয়ে মিম্বারে আঘাত করতে করতে বললেন, ‘এটাই মদীনা, এটাই মদীনা, এটাই মদীনা’। অর্থাৎ এখানে দাজ্জাল আসতে পারবে না। অতঃপর নবী (স) মানুষকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘তামীমদারীর হাদীসটি আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে। তার বর্ণনা আমার বর্ণনার অনুরূপ হয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদীনা সম্পর্কে। শুনে রাখ! সে আছে সাম দেশের সাগরে (ভূমধ্য সাগরে) অথবা আরব সাগরে। তা নয় সে আছে পূর্ব দিকে। সে আছে পূর্ব দিকে। সে আছে পূর্ব দিকে’। এই বলে তিনি পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন’। ফাতেমা বিনতে কায়েস বলেন, ‘আমি এই হাদীসটি নবী (স) এর নিকট থেকে মুখস্থ করে রেখেছি’। (সহীহ মুসলিম – কিতাবুল ফিতান)

#ক্ষমতা
নাওয়াস বিন সামআন থেকে বর্ণিত। নবী (স) কে দাজ্জালের চলার গতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “মেঘের গতি যাকে প্রবল বাতাস পেছন থেকে হাঁকিয়ে নিয়ে যায়, দাজ্জালের চলার গতিও সে রকম হবে”। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফিতান)। নবী কারীম (স) বলেন, “দাজ্জালের সাথে যা থাকবে তা আমি অবগত আছি। তার সাথে দু’টি নদী প্রবাহিত থাকবে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একটিতে সুন্দর পরিষ্কার পানি দেখা যাবে। অন্যটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যাবে। যার সাথে দাজ্জালের সাক্ষাৎ হবে সে যেন দাজ্জালের আগুনে ঝাপ দিয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে পান করে। কারণ উহা সুমিষ্ট পানি। তার চোখের উপরে মোটা আবরণ থাকবে। কপালে কাফের লেখা থাকবে। মূর্খ ও শিক্ষিত সকল ঈমানদার লোকই তা পড়তে সক্ষম হবে”। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফিতান) ।
নবী কারীম (স) বলেন “দাজ্জাল এক জনসমাজে গিয়ে মানুষকে তার প্রতি ঈমান আনয়নের আহবান জানাবে। এতে তারা ঈমান আনবে। দাজ্জাল তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করার জন্য আকাশকে আদেশ দিবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে, যমিন ফসল উৎপন্ন করবে এবং তাদের পশুপাল ও চতুষ্পদ জন্তুগুলো অধিক মোটা-তাজা হবে এবং পূর্বের তুলনায় বেশি দুধ প্রদান করবে। অতঃপর অন্য একটি জনসমাজে গিয়ে মানুষকে তার প্রতি ঈমান আনয়নের আহবান জানাবে। লোকেরা তার কথা প্রত্যাখান করবে। দাজ্জাল তাদের নিকট থেকে ব্যর্থ হয়ে ফেরত আসবে। এতে তারা চরম অভাবে পড়বে। তাদের ক্ষেত-খামারে চরম ফসলহানি দেখা দিবে। দাজ্জাল পরিত্যক্ত ভূমিকে তার নিচে লুকায়িত গুপ্তধন বের করতে বলবে। গুপ্তধনগুলো বের হয়ে মৌমাছির দলের ন্যায় তার পিছে পিছে চলতে থাকবে”। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফিতান)।
নবী (স) বলেন, “দাজ্জাল বের হলে একজন (বিশিষ্ট) ঈমানদার ব্যক্তি তার দিকে রওয়ানা হয়ে যাবে। খবর পেয়ে দাজ্জালের পক্ষ থেকে তার অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা গিয়ে তাঁর সাথে মিলিত হবে। তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করবে, ‘তুমি কোথায় যাওয়ার সংকল্প করেছে?’ তিনি বলবেন, ‘ঐ ব্যক্তির কাছে যে আবির্ভূত হয়েছে’। তখন তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করবে, ‘তুমি কি আমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান আনবে না?’ তিনি বলবেন, ‘আমাদের প্রভু সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই’। এরপর তারা পরস্পর বলবে, ‘একে হত্যা কর’। তারপর একে অপরকে বলবে, ‘তোমাদের প্রভু যে নিষেধ করেছেন যে, তোমরা তাকে না দেখিয়ে কাউকে হত্যা করবে না?’ রাবী বলেন, ‘অতঃপর তারা তাঁকে দাজ্জালের নিকট নিয়ে যাবে। যখন মুমিন ব্যক্তি দাজ্জালকে দেখতে পাবেন, বলবেন, ‘হে জনগণ! এ তো সেই দাজ্জাল যার কথা রাসূলুল্লাহ (স) আলোচনা করেছেন’। এরপর দাজ্জালের আদেশে তাঁর চেহারাকে ক্ষত-বিক্ষত করা হবে। বলা হবে, একে ধরে চেহারা ক্ষত-বিক্ষত করে দাও। এরপর তাঁর পেট ও পিঠকে পিটিয়ে বিছিয়ে ফেলা হবে। তারপর দাজ্জাল জিজ্ঞেস করবে, ‘আমার প্রতি ঈমান আনবে না?’ তিনি বলবেন, ‘তুমি তো মিথ্যাবাদী মসীহ দাজ্জাল’। এ কথা শুনে তাঁকে কুড়াল দিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলার জন্য আদেশে করা হবে। তার আদেশে তাঁকে প্রথমে দু’পা আলগা করে খণ্ড করা হবে। অতঃপর দাজ্জাল খণ্ডিত টুকরাদ্বয়ের মাঝখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে বলবে, ‘উঠ!’ তৎক্ষণাৎ তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াবেন। তারপর আবার দাজ্জাল তাঁকে জিজ্ঞেস করবে, ‘এবার আমার প্রতি ঈমান আনবে কি?’ তখন তিনি বলবেন, ‘আমি তো তোমার সম্পর্কে আরও অধিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছি’। অতঃপর তিনি উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করে বলবেন, ‘হে লোক সকল! মনে রেখ, দাজ্জাল আমার পরে আর কোন মানুষের উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারবে না’। রাবী বলেন, ‘এরপর দাজ্জাল তাঁকে জবাই করার জন্য ধরবে এবং তাঁর গলা ও ঘাড়ে তামা জড়িয়ে দিতে চেষ্টা করবে। কিন্তু এ পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হবে না। অতঃপর তাঁর হাত পা ধরে তাকে নিক্ষেপ করবে। মানুষ ধারণা করবে বুঝি আগুনে ফেলে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তাঁকে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দেয়া হয়েছে’। রাসূল (স) বলেন, “রাব্বুল আলামীনের নিকট এ ব্যক্তি সবচেয়ে বড় শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবেন”। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফিতান)

#বের_হবার_স্থান
নবী কারীম (স) বলেন, পূর্বের কোন একটি দেশ থেকে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে যার বর্তমান নাম খোরাসান। — (তিরমিজী- কিতাবুল ফিতান)

#পৃথিবীতে_অবস্থান
সাহাবীগণ রাসূল (স) কে জিজ্ঞেস করেছেন দাজ্জাল পৃথিবীতে কত দিন অবস্থান করবে। উত্তরে তিনি বলেছেন, “সে চল্লিশ দিন অবস্থান করবে। প্রথম দিনটি হবে এক বছরের মত লম্বা। দ্বিতীয় দিনটি হবে এক মাসের মত। তৃতীয় দিনটি হবে এক সপ্তাহের মত। আর বাকী দিনগুলো দুনিয়ার স্বাভাবিক দিনের মতই হবে”। আমরা বললাম, “যে দিনটি এক বছরের মত দীর্ঘ হবে সে দিন কি এক দিনের নামাযই যথেষ্ট হবে?” উত্তরে তিনি বললেন, “না, বরং তোমরা অনুমান করে সময় নির্ধারণ করে নামায পড়বে”। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফিতান)। সহীহ হাদীসের বিবরণ অনুযায়ী, দাজ্জালের জন্যে মক্কা ও মদীনাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। মক্কা ও মদীনা ব্যতীত পৃথিবীর সকল স্থানেই সে প্রবেশ করবে। অন্য একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবী (স) বলেন, “দাজ্জাল আসবে। অবশেষে মদীনার এক পার্শ্বে অবতরণ করবে। (এ সময় মদীনা) তিনবার কেঁপে উঠবে। তখন সকল কাফির ও মুনাফিক বের হয়ে তার নিকট চলে আসবে”। (সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা- ৭১২৪)

#দাজ্জালের_অনুসারী
নবী (স) বলেন, “ইস্পাহানের সত্তর হাজার ইহুদী দাজ্জালের অনুসরণ করবে। তাদের সবার পরনে থাকবে সেলাই বিহীন চাদর”। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফিতান)

#শেষ_পরিণতি
সহীহ হাদীসের বিবরণ অনুযায়ী, ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ) এর হাতে দাজ্জাল নিহত হবে। বিস্তারিত বিবরণ এই যে, মক্কা-মদীনা ব্যতীত পৃথিবীর সকল দেশেই সে প্রবেশ করে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। সামান্য সংখ্যক মুমিনই তার এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ঠিক সে সময় দামেস্ক শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এক মসজিদের সাদা মিনারের উপর ঈসা (আ) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। মুসলমানগণ তার পার্শ্বে একত্রিত হবে। তাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি দাজ্জালের দিকে রওনা দিবেন। দাজ্জাল সে সময় বায়তুল মাকদিসের দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। অতঃপর ঈসা (আ) ফিলিস্তিনের লুদ্দ শহরের দ্বারপ্রান্তে দাজ্জালকে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফিতান)

#দাজ্জাল_সম্পর্কিত_অন্যান্য_দলিল
নাওয়াস বিন সামআন (রা) বলেন, “একদা রাসূল (স) সকাল বেলা আমাদের কাছে দাজ্জালের বর্ণনা করলেন। তিনি তার ফিতনাকে খুব বড় করে তুলে ধরলেন। বর্ণনা শুনে আমরা মনে করলাম নিকটস্থ খেজুরের বাগানের পাশেই সে হয়ত অবস্থান করছে। আমরা রাসূল (স) এর নিকট থেকে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর আমরা আবার তাঁর কাছে গেলাম। এবার তিনি আমাদের অবস্থা বুঝে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কি হল?” আমরা বললাম, “হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি যেভাবে দাজ্জালের আলোচনা করেছেন তা শুনে আমরা ভাবলাম হতে পারে সে খেজুরের বাগানের ভিতরেই রয়েছে”। নবী (স) বললেন, “দাজ্জাল ছাড়া তোমাদের উপর আমার আরো ভয় রয়েছে। আমি তোমাদের মাঝে জীবিত থাকতেই যদি দাজ্জাল আগমন করে তাহলে তোমাদেরকে ছাড়া আমি একাই তার বিরুদ্ধে ঝগড়া করব। আর আমি চলে যাওয়ার পর যদি সে আগমন করে তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজেকে হেফাযত করবে। আর আমি চলে গেলে আল্লাহই প্রতিটি মুসলিমকে হেফাযতকারী হিসেবে যথেষ্ট”। (তিরমিজী- কিতাবুল ফিতান)।
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, “নবী (স) লোক সমাবেশে দাঁড়ালেন এবং মহান আল্লাহ্র প্রশংসা করলেন। এরপর তিনি দাজ্জাল প্রসঙ্গে বললেন, “তার সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি। এমন কোন নবী নেই যিনি তাঁর কওমকে এ বিষয়ে সতর্ক করেননি। তবে তার সম্পর্কে আমি তোমাদের এমন একটি কথা বলব যা কোন নবীই তাঁরা জাতিকে বলেননি। তা হল যে, সে কানা হবে আর আল্লাহ্ অবশ্যই কানা নন”। (সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা- ৭১২৭) আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, “আমি রসূলুল্লাহ (স) কে নামাযের ভিতরে দাজ্জালের ফিত্না থেকে আশ্রয় চাইতে শুনেছি”। (সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা- ৭১২৯)[৩৭] তিনি নামাযের শেষ তাশাহুদে বলতেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব, জীবন-মরণের ফিতনা এবং মিথ্যুক দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই”। (সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা- ১৩৭৭)
———————————————————–

এমনি অনেক দলিল আছে দাজ্জাল সম্পর্কিত। এক সহীহ বুখারি থেকে বর্ণনা করলে তা শেষ হওয়া কঠিন ব্যাপার। কিন্তু এগুলো নিয়ে আমি হুজুরদের কথা বলতে শুনি না। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন নিয়ে এতগুলো বই থাকার পরেও আমাদের জানার ও বোঝার দৌড় ‘সালাম, রফিক,বরকত, জব্বার ও আরও অনেকের আত্মত্যাগ পর্যন্ত’। দাজ্জাল সম্পর্কিত কোনো কথা আসলেই সোজা ইহুদিদের কয়েকটা গালি দিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন সম্মানিত হুজুররা। এটা সত্যিই লজ্জাজনক।

সাধারণ হাফেজী পড়া হুজুরদের কথা বাদ দেয়া যাক। উনারা না হয় ভাষা না শিখে শুধু পড়তে শিখেন। তারপর চোখ-কান মন ও মনন এক করে দেন মুখস্থবিদ্যায়। কিন্তু অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আল হাদিস বিভাগ আছে। সেখানকার ছাত্র, শিক্ষক কিংবা গবেষকরা কেউ চাইলে এগুলোর সুন্দর বিশ্লেষণ করতে পারেন। তখন আর আমাদের লোককে ইতিহাস কিংবা প্রত্নতত্ত্ব ছেড়ে এগুলো নিয়ে কথা বলা লাগবে না। অন্যদিকে গুপ্তগোষ্ঠী সিরিজ লিখতে গিয়ে ফ্রিম্যাসন কিংবা গুপ্তগোষ্ঠী ইলুমিনাতি সম্পর্কে যা জানলাম মাঝে মাাঝে হাসি পায়। আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে আমিও মূর্খ ছিলাম এ ব্যাপারে।

একটা সময় ছিল, কন্সপিরেসি থিওরির এক লাইন জানতাম, উচ্ছাস আবেগ ছিল অনেক। তাই যা মনে আসতো বকে দিতাম তখন। এখন দুই লাইন বলতে অনেক ভাবনা চিন্তা করা লাগে। যাই হোক কোনো কিছু হলেই তার সঙ্গে দাজ্জাল যুক্ত করাটা সময় বিচারে সবথেকে বড় দাজ্জালি, আর কন্সপিরেসি থিওরির ঘোড়ার ডিমটা না বুঝে অনর্থক বক্তব্য দেয়াটাও গাধামি। আসুন করোনা থেকে কারও করুনা সবখানে ইহুদিবাদ, দাজ্জাল, কিংবা গুপ্তগোষ্ঠী তথা কন্সপিরেসি থিওরি না আওড়াই। এগুলো হাস্যকর।

স্পষ্ট শরীয়তের দলিল আছে দাজ্জাল কে, কখন কিভাবে আসবে। তাই আমরা এ বিষয়ে না জেনে পাবলিক এটেনশন সিক করতে মিথ্যাচারে লিপ্ত না হই। আমদের সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আল্লাহ প্রতিটি সৃষ্টিকে করোনার মহামারী থেকে মুক্তি দিন। ‘আল্লাহুম্মা! ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’ ( হে আল্লাহ্‌! আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করাটা পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন)। আমীন।

(Visited 30 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *