‘পক পক’ বাদে লকডাউনে আরও কিছু করণীয়

কাজ নাই, গীবত নয়, বাতাবি লেবু চাষ করুন

জনৈক সিনিয়র অধ্যাপক ভাব মেরে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এত লম্বা ছুটি কি করবো? আমি তার নিচে মন্তব্য করলাম একজন অধ্যাপকের যা করা প্রয়োজন সেটা করতে থাকেন, যদি মরে যান, ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান নাও করতে পারেন তারপরেও আপনার অর্জন থেকে যাবে আপনার নামের পাশে। একটুপর দেখলাম আমার মন্তব্য গায়েব। আদতে ভদ্রলোক নিজের লেখাটাই গায়েব করে দিয়েছেন। একটু বিরক্ত হয়ে ভাবছি লেখাটা আরও বিস্তৃত করা জরুরি। 

গায়েব করে দেয়া এসব অধ্যাপকের জন্য নতুন কিছু না। উনারা নিজ জীবনের মূল্যবান সময় ফালতু কাজে গায়েব করেন। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাকে গায়েব করে দেন হিংসাত্মক নম্বর কম দিয়ে। অন্যদিকে নিজের উপযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়ানো ঠেকাতে শিক্ষক নিয়োগের ভাইবা বোর্ডে গিয়ে মামদোবাজি করাটাও তাদের জন্য অন্যকোনো কাজের চাইতে সহজ। এতে করে দেশের যোগ্য মেধাবীদেও তাঁরা স্ট্যাটাসটির মতো গায়েব করে থাকেন।
যাই হোক আপনারা যাঁরা অমন ক্ষমতাধর সিনিয়র অধ্যাপক এবং পদাধিকার বলে জনপ্রিয় যাই বলেন আমরা কখনোই আপনাদের হাতে ঐ রকম জরাজীর্ণ চোথা দেখতে চাইনি।আপনাদের দয়ায় চাকরি বাগানো অপদার্থ জুনিয়র শিক্ষকরা যখন বৈজ্ঞানিক ক্লাসরুমের নামে স্লাইড দেখে রিডিং পড়ে তখন আমরা যেমন বিরক্ত হই, মনে হয় তাদের লাথি মেরে ক্লাস থেকে বের করে দেই, আপনাদের হাতের জরাজীর্ণ চোথা দেখেও কাছাকাছি বিরক্ত হই।
 
আমার সম্মানিত শিক্ষক যাঁদের ক্লাস দেখে বিরক্ত হয়েছি কিংবা বাংলাদেশের প্রত্যেক সম্মানিত শিক্ষক যাদের ক্লাসে ঢুকতে দেখলে শিক্ষার্থীদের মুখের অবস্থা আমাশয় রোগীর মত হয়ে যায় এই লক ডাউন ও দীর্ঘ ছুটিকে তাঁরা নিজে পারতেন নিজেকে গড়ে তোলার জন্য। অথছ তারা সেদিকে মন দিতে পারেন নি, পাছে ভাবছেন একজন অধ্যাপক লেখাপড়া করলে তার মান, সম্মান, সম্ভ্রম ইজ্জত সবই ধুলিষ্যাত হতে পারে।
তাই তো বঙ্গদেশীয় বিজ্ঞজনদের কেউ কেউ বউ বাচ্চার চুল কাটছেন, রুটি বানাচ্ছেন, উগান্ডার মানচিত্রের মতো জিলাপি বানাচ্ছেন, ছাদবাগানে পানি দিচ্ছেন আর ফেসবুকে এসে গোষ্ঠী নিপাত করছেন পুরো দেশ ও জাতির। তারপর অপেক্ষা কখন বিশ্ববিদ্যালয় খোলে, তারপর তারা সেই দাদার আমলের চোথা নিয়ে গিয়ে হামলে পড়বেন ক্লাস রুমে।
 
হ্যাঁ নিজের ঢোল নিজে পেটানো যেতেই পারে, নাহলে অন্য কেউ বাড়ি দিলে হয়তো শব্দ হবে না কিংবা বেতালা মারে কিংবা তার ভারে ঢোল ছিড়ে গেলে বিপদ। আমি মিস্টির দোকানদারদের মতোই মিস্টি বানাতে পারি প্রায় ৮-১০ রকম। জিলাপি বানাতে গেলে অবশ্যই সেটা উগান্ডার মানচিত্র হবে না। আপনাদের মতো ছাদবাগানে পানি দিয়ে ঢং করি না, ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে মাঠে গিয়ে কৃষিকাজ কাজও করি। রাখালদের সঙ্গে ঘাস কাটার পাল্লা দিলে একইতালে কাস্তে চলবে এটাও বলা যায়।
 
ঢাকায় থাকলে বউয়ের অপেক্ষায় থেকে তার গোষ্ঠী নিপাত না করে নিজের রান্না নিজে করে খাই। গ্রামের বাড়িতে থাকলে সবার ঘুম থেকে ওঠার আগে ছাগলগুলোকে খাওয়াই। বড়লোক নই, তাই কুকুরের বাচ্চা ধরার রুচি হয় না, ছাগলের বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুরি। ইনফ্যাক্ট আপনারা যেমন কুকুর নিয়ে ঢং করেন, আমি ঢং না করলেও রাস্তার কুকুরগুলোকেও মাঝে মাঝে খাওয়াই। কিন্ত এতো কিছু করার পরেও লেখাপড়া তো বাদ দেইনি। ইনফ্যাক্ট গত রাতেও ৭-৮ ঘণ্টা পড়ার টেবিলে পার করেছি।
 
আপনারা পড়ার সময় পড়বেন না, লোকের পিন্ডি চটকাবেন। যখন গবেষণার সময় নিজের গবেষণা ফেলে বানাতে চেষ্টা করবেন উগান্ডার মানচিত্রের মতো জিলাপি। পরে বছর শেষে যারা গবেষণা করবেন তাদের গবেষণার মান নিয়ে ম্যা ম্যা করবেন এটা লজ্জাজনক শুধু নয়, আপনাদের ইতরামির নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হন।
ফেসবুক আমরা আপনাদের থেকে কম চালাই নাই। ফেসবুক, পার্সনাল ওয়েবসাইট, ইউটিউব, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম এমনকি ইতিহাসের বিভিন্ন পোর্টালে প্রায় সারাদিন সক্রিয় থাকি। তারপরেও পড়ছি, লিখছি এবং অন্যদের ভুলভাল লেখা দেখলে তার গঠনমূলক কিংবা ধ্বংসাত্মক সমালোচনা পর্যন্ত করছি।
‘পক পক’ বাদে লকডাউনের এই সময়ে আপনাদের জন্য আরও কিছু করণীয় আছে। সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। নিজের এবং দেশের প্রয়োজনে কাজ করুন। তাহলে এমন একটা দিন আসবে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী ঠেকাতে যোগ্য শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ফি বছর চামচা খোঁজা লাগবে না। তখন আপনারাও গলা উঁচু করে বলতে পারবেন ‘Make competition irrelevant ‘
(Visited 57 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *