গল্পগাথা ও কল্পকথার কথিত কুহকিনী

প্রাচীন গ্রিক উচ্চারণে নামটা যা-ই হোক, সহজভাবে বলতে গেলে রোক্সানা ছিলেন ব্যাকট্রিয়ার রাজকুমারী এবং পরবর্তীকালে বিজেতা আলেকজান্ডারের স্ত্রী। ৩৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তার জন্ম সগডিয়ায়। ব্যাকট্রিয়ান অভিজাত অক্সার্টেসের মেয়ে এই রাজকুমারী ৩১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মাত্র ৩০ বছরেই পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। আকামেনীয় সম্রাট তৃতীয় দারিয়ুস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত এ ব্যাকট্রীয় নেতা জীবনভর লড়াই করে গেছেন পারস্যের বিরুদ্ধে। ম্যাসিডোনিয়ার নেতা আলেকজান্ডার একের পর এক ভূখণ্ড দখল করার পর বেসাস পর্যন্ত নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এ সময় রোক্সানার বাবা অক্সার্টেস পারস্যের যুদ্ধবাজ নেতা স্পিটামেনেসের সঙ্গে চুক্তি করে ম্যাসিডোনিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।…

Read More

ক্লাইভ

সহজ ভাষায় যদি প্রশ্ন করা হয় ‘রবার্ট ক্লাইভ কে ছিলেন?’ উত্তরদাতা ভারতবর্ষের কোনো মানুষ হলে এই প্রশ্নের উত্তর জানার প্রয়োজন থাকে না। বেশিরভাগ মানুষ মুখস্থ বলা শুরু করবেন কিছু নেতিবাচক শব্দ, ঠিক যেমনি নবাব সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে কোনো কিছু জানার প্রয়োজন করেন না বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ভারতের সিংহভাগ মানুষ। একইভাব ইউরোপের তথা ইংরেজদের কাছে পরম শ্রদ্ধার একটি নাম ‘রবার্ট ক্লাইভ’। তার সমরকৌশল এবং উদ্ভাবনী শক্তির জোরে তিনি পরাজিত করেছিলেন নবাব সিরাজের বাহিনীকে। এক্ষেত্রে নবাব সিরাজের সক্ষমতা এবং রবার্ট ক্লাইভের ‘কূট’ কৌশলের তুলনায় ইতিহাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল একটি পট পরিবর্তন।…

Read More

তারিখ ই শেরশাহী’ অবলম্বনে  ‘শের শাহ’

দোর্দণ্ড প্রতাপশালী মোগল সাম্রাজ্যের ঠিক শুরুতেই একটা ছন্দপতন। পরাক্রমশালী সাম্রাজ্য বলতে গেলে হঠাৎ একটু হোঁচট খায়, পা পিছলে পড়ে একজন কুশলী আফগান যোদ্ধার কাছে। তিনিই শেরশাহ (১৫৪০-১৫৪৫)। পিতৃপ্রদত্ত নামে ফরিদ কিংবা তারপর শেরখান যে নামেই ডাকা হোক না কেনো তিনি ভারতবর্ষের সবচেয়ে সফল সম্রাটদের একজন, পাশাপাশি শূর বংশের প্রতিষ্ঠাতা। দিল্লি কিংবা আগ্রা থেকে সেই বিহারের সাসারাম কতটা দূর। সেখানকার জায়গিরদার হাসান খান শূরের ঔরষে তাঁর জন্ম ১৪৭২ সালের দিকে। বাহলুল লোদির রাজত্বকালেই জন্ম হয়েছিল শের শাহের। প্রথমে তাঁর নাম রাখা হয় ফরিদ খান। শৈশব থেকে স্বাধীনচেতা ফরিদের আর দশজনের মতো…

Read More

বাংলার অভাব ও দারিদ্র্যের প্রত্নতত্ত্ব

অর্থশাস্ত্রের সংজ্ঞা কিংবা কাব্যকথা সবখানেই দেখা যায় অভাব সীমাহীন। আটপৌরে দিনানুদৈনিকতা থেকে ভালোবাসা কিংবা স্বপ্ন সবখানে দৃষ্টি দিলে মনে হয় জগৎজুড়ে এ এক বিস্তীর্ণ অভাবের সংসার। অতীতকালে মানুষের অভাব কেমন ছিল, তাদের রেখে যাওয়া বস্তুগত সংস্কৃতি থেকে তার একাংশ বোঝা যায় বেশ। আরেকটু জোর দিয়ে বলতে গেলে, অভাব ছিল বলেই মানুষ বিকাশ ঘটিয়েছে তার সংস্কৃতির। এ অভাব দূরীকরণে মানুষের যে প্রচেষ্টা, তাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশ্বখ্যাত ইতিহাসবিদ আর্নল্ড জে. টয়েনবি আশ্রয় নিয়েছেন ‘চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড রেসপন্স থিওরির’। তাই ‘অভাব ও দারিদ্র্য’ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রাসঙ্গিকভাবেই প্রত্নতত্ত্বের বিষয়টি চলে আসে। ভালোবাসার…

Read More

সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনোর গির্জা

ঢাকার অদূরে অবস্থিত গাজীপুরের গুরুত্ব স্যাটেলাইট টাউন হিসেবে সর্বাধিক। বিশেষ করে সময়ের আবর্তে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখানে অবস্থিত। পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এবং আইআইটির অবস্থান একে দিয়েছে শিক্ষানগরীর সম্মান। তবে হাজার বছরের প্রাচীন নগরী ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত এ নগরীর প্রত্ন-ঐতিহ্যকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। অন্তত জয়দেবপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী ও ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী, শ্রীপুরের ইন্দ্রাকপুর, কাপাসিয়ার টোক বাদশাহী মসজিদ, পূবাইল জমিদার বাড়ি, কালিয়াকৈরের বলিয়াদি জমিদার বাড়ি, একডালা দুর্গ, টঙ্গীর মীর জুমলা সেতুর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম খ্রিস্ট ধর্মীয় উপাসনা স্থান সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনো চার্চের উপস্থিতি একে দিয়েছে…

Read More

বখত বিনতের মসজিদ

সাম্প্রতিক গবেষণায় হাজার বছরের নগরী ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। ঢাকা শহরে রয়েছে নানা যুগ পর্বের প্রত্ন স্থাপনা। একসময় ঢাকাকে বলা হতো ‘মসজিদের শহর’। বলা বাহুল্য, সাধারণ বিচারে এ শহরে মসজিদের আধিক্যের কারণেই অমন পরিচিতি যুক্ত হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে মসজিদ স্থাপত্য সমকালীন সময়ে মুসলিম সমাজের অস্তিত্বের কথাই প্রচার করে। সমাজ ইতিহাস নির্মাণে তাই মসজিদ বরাবর আকর সূত্র হিসেবে গৃহীত। আধুনিক ইতিহাসবিদরা অপ্রতুল তথ্যসূত্রের কারণে একসময় ধারণা করেছিলেন, মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আগে অর্থাৎ সতেরো শতকের আগে ঢাকায় মুসলিম বসতি স্থাপন হয়নি। মোগলরাই ঢাকা শহরের পত্তন করেন এবং মুসলিম…

Read More

গৌড়াধিপতি শশাঙ্ক

বিহারের রোটাসগড় পাহাড়ে উত্কীর্ণ একটি সিল। ‘শ্রী শ্রী মহাসামন্ত শশাঙ্ক দেবস্য’ পদবন্ধে উল্লিখিত স্থানীয় কোনো শাসকের নাম। তিনিই শশাঙ্ক, প্রথম জীবনে যাঁর পদ ছিল মহাসামন্ত; যা সামন্ত রাজাদের মধ্যে তাঁর উপযুক্ত শক্তিমত্তার পরিচয় বহন করে। তথ্যপ্রমাণ যাচাই করলে দেখা যায়, প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে স্থিতিশীল সময় তেমন একটা আসেনি। গুপ্ত আমলের শক্তিশালী শাসনে অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও সেটা ক্ষণস্থায়ী। হূণ নামক এক দুর্ধর্ষ পাহাড়ি জাতির আক্রমণে গুপ্ত সাম্রাজ্য ছত্রখান হয়ে যাওয়ার পর সমগ্র উত্তর ভারতজুড়ে অনেকগুলো ছোট ছোট রাজ্যের উত্থান ঘটে। এই সময়ের বাংলার ইতিহাসের স্বরূপ উদ্ঘাটনে আমাদের দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার…

Read More

দক্ষিণ বাংলার ভূমিরূপ ও প্রতিবেশ

বাংলাদেশের নানা স্থান থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ভূতাত্ত্বিক অবক্ষেপের বিশ্লেষণ থেকে এর প্রাচীনত্বের ধারণা স্পষ্ট হয়েছে। তবে বাংলাদেশকে মোটা দাগে সবাই যেভাবে ‘পলল সমভূমি’ বলতে অভ্যস্ত, তা মূলত দক্ষিণ বঙ্গের ভূমিরূপ। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ততা আর উত্তর থেকে ধেয়ে আসা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি নদীর স্রোতধারা মিশে একাকার হয়েছে এ অঞ্চল। নদীর ভাঙাগড়ার খেলায় এ অঞ্চলের ভূমিরূপ প্রকৃত অর্থে অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় বেশ নবীন। অন্তত নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলের ভূমিরূপ তেমন স্থায়িত্ব পায় না বললেই বলে। নদীবাহিত পলল এ অঞ্চলের ভূমিকে যেমন উর্বর করেছে, তেমনি সেখানে ক্ষতির কারণ…

Read More

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের ভূমিরূপ ও প্রতিবেশ

বাংলাদেশের আকৃতিগত ক্ষুদ্রতা থেকে কেউ কেউ মনে করতে পারেন, এখানকার ভূমিরূপ একর্থে তেমন বিশেষ বৈচিত্র্যের অধিকারী নয়। তবে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, আকৃতির দিক থেকে এর চেয়ে অনেক বড় বড় দেশের চেয়েও শতগুণ বৈচিত্র্যের অধিকারী বাংলাদেশের ভূমিরূপ। আকৃতি যা-ই হোক না কেন, বাংলাদেশের অবস্থান এর ভূমিরূপকে দিয়েছে বিশেষ বৈচিত্র্য। পাশাপাশি দেশটির নানা স্থানের মাটির গঠন, জন্মানো বৃক্ষরাজির বিন্যাস প্রভৃতিও অনেকাংশে ভিন্ন হতে দেখা যায়। উজানে একের এর পর এক দিতে থাকা বাঁধ, পরিবেশ বিপর্যয় আর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদাসীনতায় বেশির ভাগ নদ-নদী শুকিয়ে গেলেও কাগজে কলমে জনপদটিকে এখনো নদীমাতৃক দেশ হিসেবেই ডাকা…

Read More

ভূত, ডাকিনীবিদ্যা ও জাদুমন্ত্রের প্রত্নতত্ত্ব

মানবসংস্কৃতির উন্মেষকাল থেকেই অতিপ্রাকৃত কিংবা অবাস্তব শক্তি নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে অনগ্রসর সমাজে এর প্রভাব বেশি হলেও কথিত সভ্য সমাজও এ ভ্রান্ত ধারণা অতিক্রম করতে পারেনি। অন্তত বিভিন্ন উপকথা, অতিকথন কিংবা গল্পগাথাকে উপলক্ষ করে তৈরি করা চলচ্চিত্র নিয়ে আকাশচুম্বী উচ্ছ্বাস কিংবা জনপ্রিয়তাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। লোকগাথা ও কল্পকথায় ভূত বলতে বোঝায় অতৃপ্ত অশুভ আত্মার আবির্ভাবকে। প্রচলিত বিশ্বাস থেকে মানুষের মনে এদের নিয়ে বদ্ধমূল বিরূপ ধারণা জন্মায় যে, এরা মৃত্যুর পর নানাভাবে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে মানুষের ক্ষতি করে। ভূতদের অবস্থান অপেক্ষাকৃত অস্পষ্ট। অনেকটা এমন যে, তারা মানবসমাজে…

Read More