অভিনন্দন বাণিজ্যের সেকাল-একাল

আদন্তমূল বিকশিত হাসি, হাতে ফুলের তোড়া। মুখজোড়া এমন দেখে মনে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয় যে লোকটি বেজায় উত্ফুল্ল। কিন্তু যার জন্য এমন যারপরনাই খুশি, সে কি তাকে চেনে-জানে? এ প্রশ্নগুলো বারবার মনে উঁকি দিয়েছে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর। রাস্তায় বের হলে ব্যানার-পোস্টারের বরাভয়, ফেসবুকের হোমপেজে উঁকি দিলে ভয়; এই বুঝি ‘অমুক ভাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন’ এসে হাজির হয়। রাজনৈতিক, পারিবারিক, সামষ্টিক, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীগত সাফল্য অর্জনের লোভে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা প্রদানের এই রীতি বাংলার ইতিহাস থেকে পর্যালোচনা করতে গেলে সেটা বেশ প্রাচীন। তার পরও দিনে দিনে বদলে গিয়ে এ রীতি যে এমন অদ্ভুত আর হাস্যকর রূপ পরিগ্রহ করতে পারে, সেটা কল্পনাতীত ছিল। অন্তত স্বার্থ হাসিলের জন্য মানুষ নিজের মর্মমূলের সব উপলব্ধি ঝেড়ে, মুছে সকাল-সন্ধ্যা কত নির্লজ্জ ধান্দাবাজি করতে পারে, সেটা সত্যিই পীড়াদায়ক।

এবারের শুধু নয় প্রতিবার সংসদ নির্বাচনের আগে এবং পরে মিলিয়ে মূলত তিন ধরনের পোস্টার-ব্যানার দেখতে পাওয়া যায়। আমরা নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস আগে থেকে যখন নমিনেশন দেয়ার প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়, তখন এক প্রস্থ পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। এ সময় নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অর্থযোগের সুবিধা নিয়ে একটি শ্রেণী ধুন্ধুমার পোস্টারিং করে। তার ভাষ্যগুলো হয়— ‘অমুক ভাইয়ের দু’নয়ন, অত্র এলাকার উন্নয়ন’, ‘অমুক ভাইকে আগামীর সাংসদ হিসেবে দেখতে চাই’, ‘অমুক ভাই চায় কী! জনগণের শান্তি’, ‘সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আসুন সোচ্চার হই সবাই’, ‘প্রিয়জনকে বই উপহার দিন’, ‘গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান’, ‘ঘর থেকে বের হওয়ার আগে লাইট-ফ্যানের সুইচ বন্ধ করুন’ থেকে শুরু করে এমন স্লোগান নেই যা, তারা প্রচার করেন না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে প্রতিটি রাজনৈতিক দল যেমন ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে’ সবকিছু করার দাবি রাখেন, তেমনি এসব পোস্টার-ব্যানারের নিচে লেখা থাকে ‘প্রচারে: অত্র এলাকার জনগণ’ কিংবা ‘উন্নয়ন প্রত্যাশী এলাকাবাসী’। এরপর আরেকটি নির্বাচনকালীন প্রচারণা, অন্যটি জয়লাভের পরের অভিনন্দন বার্তায় সয়লাব হয়।

বিজ্ঞজনদের স্বভাব তারা সবসময় বলতে ভালোবাসেন, ‘এসব আমাদের সময় ছিল না, এগুলো সব সময়ের দোষ; এখনকার দিনে লোভী লোকজন এগুলোর প্রচলন ঘটিয়েছেন।’ কিন্তু ইতিহাস তো বটেই প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্র থেকেও প্রমাণ মিলেছে এমন নির্লজ্জ অভিনন্দন বার্তার। আমরা কমবেশি পাল রাজবংশের ইতিহাস পাঠ করেছি। তাই গোপাল কীভাবে মাত্স্যন্যায় তথা অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে পাল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটাও আমাদের অজানা নয়। অন্যদিকে এ গোপাল সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছিলেন তার ছেলে ধর্মপাল। তিনি তার বাবার ক্ষমতায় আরোহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করার পাশাপাশি কনৌজে সংঘটিত নিজের রাজ্যাভিষেকের ঘটনাও উল্লেখ করেছেন তার একটি লিপিতে।

রামরাজন মুখার্জির প্রখ্যাত গ্রন্থে (Corpus Of Bengal Inscriptions; ৯৫-১০৫ পৃষ্ঠায়)  আমরা পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার খালিপুর থেকে প্রাপ্ত ‘খালিমপুর তাম্রশাসন’ নামে বিখ্যাত লিপিটির কথা জানতে পেরেছি। তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন, ‘ভোজৈ, মৈস, সসমুদ্রৈ, কুরু, যদু, যবন, অবন্তী/ গান্ধার কিরৈ ভূপৈ ধ্যালোল মৌলি প্রণতি। হূষ্যত পাঞ্চাল বৃদ্ধদৃত কণকময় স্বাভিষেক উদকুম্ভ দত্ত’। এর অর্থ করা যেতে পারে ধর্মপাল কনৌজে চোখের ইশারায় তার রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন করেছেন। সেখানে উপস্থিত সবাই সাধু সাধু উচ্চারণ করে নিজেকে ধন্য মনে করেন। এ সময় সম্রাটকে বিনত মস্তকে সম্মান জানাতে ভোজ, মত্স্য, মদ্র, কুরু, যদু, যবন, অবন্তী, গান্ধার ও কীরের শাসকরা উপস্থিত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানে সোনার কলসিভর্তি পবিত্র পানি মাথায় করে উপস্থিত হয়েছিলেন পাঞ্চাল দেশের বুড়োরা।

প্রাচীন বাংলার, বিশেষ করে পাল যুগের ইতিহাস রচনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ধর্মপালের এই খালিমপুর তাম্রশাসন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে এ লিপি থেকে। খেয়াল করলে দেখা যায় এখনকার দিনে বাংলাদেশে কোনো সরকারপ্রধান নির্বাচিত হলে কিংবা কেউ মন্ত্রী বা সাংসদ হলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবিশেষের পক্ষ থেকে অবশ্যই কোনো শুভ-অশুভ উদ্দেশ্য মনে রেখে শুভেচ্ছা বার্তা ও উপহারসামগ্রী প্রেরণের যে হিড়িক পড়ে, তার ঐতিহাসিকতা কতটা গহিনে গ্রথিত।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো কাজের জন্য প্রবেশ করার পর ব্যানার বা পোস্টারের বিন্যাস দেখে চোখ কপালে ওঠাটা স্বাভাবিক। আপনি বিভিন্ন উচ্চ-নিম্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ওয়াসা, ডেসা, ডেসকো থেকে শুরু করে পাসপোর্ট অফিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সরকারি হাসপাতাল, বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশন কিংবা কোনো ব্যাংক যেখানেই যান না কেন, বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রধানের স্তুতি ও গৌরবগাথাযুক্ত পোস্টার-ব্যানার চোখে পড়বে। এ পোস্টার-ব্যানার দেখে আপনি ভড়কে যাবেন, মনে মনে ভাববেন, ‘হে আমার মহান স্রষ্টা, আমি কোথায় এসে পড়লাম।’ কিন্তু আপনি যদি ইতিহাসের আগ্রহী পাঠক হন, আপনার বুঝে নেয়ার কথা জনৈক ব্যক্তি যিনি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করে নিজের ‘দাঁত  কেলানো এবং ভি-চিহ্নযুক্ত’ ছবি ছেপেছেন, তিনি ওই দলের কেউ না-ও হতে পারেন। শুধু নিজের সুবিধা হাসিল এবং স্বার্থসিদ্ধির জন্যও তিনি এমনটি করে থাকতে পারেন।

এত বেশি দিন পেছনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা মধ্যযুগের বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনাপর্ব থেকে এর শেকড় খোঁজার চেষ্টা করতে পারি। এ সময়কালের ইতিহাস গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে আমরা মুদ্রা ও শিলালিপির কথা কমবেশি জানি। একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, বাংলায় দিল্লির গভর্নর হিসেবে শাসন করতে এসে তাদের অনেকে দিল্লির আজ্ঞাবহ থাকেননি। এক্ষেত্রে দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেও কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখা যায়, এ সুযোগ খুঁজেছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাই তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের মুদ্রায় খলিফার নাম উল্লেখ করে শাসনক্ষমতায় আইনগত স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করেছেন।

গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজির মুদ্রা বিশ্লেষণ করে আমরা দেখতে পাই তিনি তার ঊর্ধ্বতনের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। ভারতীয় জাদুঘর কলকাতায় সংগৃহীত এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল ক্যাবিনেটে রক্ষিত গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজির চারটি রৌপ্য মুদ্রা পাওয়া গেছে। এখানে তিনি মুদ্রার সামনের পিঠে কলিমা’র পর বাগদাদের খলিফার নাম উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেছেন, আল নাসিরুদ্দিন আমিরুল মুমিনিন। কিংবা এমনই কিছু মুদ্রায় উল্লেখ থাকতে দেখা যায়, ‘ইয়ামিন খলিফাতুল্লাহ নাসির আমিরুল মুমিনিন গাউছুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন খুল্লাদাত খালিফাতি’। পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য এ রকম ‘ইওয়াজ খলজির মতো লোকজন’ জীবনে কোনো দিন বাগদাদের খলিফার চেহারা দেখতে পেয়েছেন কিনা সন্দেহ। কিন্তু তিনি খলিফার নাম উল্লেখ করে পাশাপাশি নিজেকেও জাতে তুলতে চেষ্টা করেছেন ‘গাউছুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন’ পদবন্ধে।

রাজনৈতিক ক্ষততা ও বিদ্রোহকে জায়েজ করে দেয়ার ক্ষেত্রে এমনিভাবে খলিফার নাম উল্লেখ করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যেত। কিন্তু এখন প্রশ্ন জাগতে পারে আপনি চাকরি করেন ব্যাংকে, হাসপাতালে কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, এখন বিশেষ রাজনৈতিক দল কিংবা ব্যক্তি পূজা করলে আপনার কী লাভ? উত্তরটা সহজ— ‘অবশ্যই লাভ আছে’। এখন চিন্তা করা যাক লাভটা কীভাবে? একটু খেয়াল করুন জনৈক অধ্যাপক তিনি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য। তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রধান তথা উপাচার্যকে থোড়াই কেয়ার করেন। হয়তো দেখা যায় মোট কর্মদিবসের সিকিভাগও তিনি ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকেন না।

জনৈক অধ্যাপক ভদ্রলোকের ক্যাম্পাস ধরা যাক সিলেটে, তিনি সেখানে উপস্থিত না থেকে রাজধানীর বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র। বিজ্ঞানের শিক্ষককে নিজ ক্লাসে দেখা না গেলেও বইমেলায় সায়েন্স ফিকশন কিংবা শিশু সাহিত্যের স্টলের সামনে হাসিমুখে দেখা যায় ঠিকই। একইভাবে একজন ডাক্তার সরকারি হাসপাতালে চাকরি করে তার রোগীদের সেবা দিচ্ছেন না ঠিকমতো। এবং তিনি বেশ নিরাপদে এই দায় এড়িয়ে পিঠ বাঁচিয়ে চলছেন। একজন ব্যাংকের কর্মচারী কিংবা কর্মকর্তা শাখাপ্রধান তথা ম্যানেজারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিচের টি-স্টলে গিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, বিড়ি ফুঁকছেন। বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে দেখতে গেলে বোঝা যাবে ওই অধ্যাপক, ওই ব্যাংক কর্মচারী-কর্মকর্তা কিংবা চিকিৎসক ব্যক্তিগতভাবে অসৎ।

মধ্যযুগের বাংলায় কর ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে যেসব বিদ্রোহী গভর্নর নিজেকে ‘গাউছুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন’ তথা ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষক হিসেবে দাবি করেছেন তাদের সঙ্গে এদের কোনো পার্থক্য নেই। এরাও নিজের স্বার্থসিদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে অসততার পাশাপাশি ভক্ষক চরিত্রকে ধামাচাপা দিতেই বিশেষ রাজনৈতিক দলের রক্ষক হয়েছেন। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে সব ক্ষেত্রেই কি এমন অসততা এবং বিশেষ উদ্দেশ্য সামনে রেখেই সমর্থন আর অভিনন্দন জানানোর চেষ্টা করে সবাই? অনেক ক্ষেত্রে না-ও হতে পারে এমন বিষয়। আমরা ১৫ শতকের দিকে মিং যুগের চীনে বাংলা থেকে একটি জিরাফ উপহার হিসেবে যেতে দেখি। এই সময়ে স্যালি কে চার্চের লেখা থেকে আমরা দেখতে পাই— ‘শাসকরা অদ্ভুত ধরনের উপহার গ্রহণ করতেন। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পেইন্টিং যেমন রয়েছে, তেমনি উটপাখি, অস্ট্রিচ, ময়ূর, কাকাতুয়া, ম্যাকাও, বিভিন্ন রকম সুন্দর পাখি ও প্রাণীর কথা বলা যেতে পারে। এ সময়ের অমন অদ্ভুত উপহারের একটি হিসেবে কেনিয়ার মালিন্দি থেকে একটি জিরাফ বাংলা হয়ে চীনে পৌঁছানো হয়েছিল।’

এই জিরাফ উপহার হিসেবে পাঠানো দেখে অনেকে অবাক হতে পারেন। তাদের জন্য আমাকে আবার সমকালীন উদাহরণে ফিরতে হচ্ছে। খেয়াল করেছেন কি এমন ঘটনা! আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে গত বছর সন্দ্বীপ গিয়েছিলাম এমনি কনকনে শীতের দিনে। হাড় কাঁপানো শীতে স্পিডবোটে করে চট্টগ্রামের কুমিরা ফেরিঘাট থেকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়ায় গিয়ে নামলাম। চোখের পাতা খুলতে কষ্ট এমনি সময় চোখ বড় বড় হয়ে যায় একটি পোস্টার দেখে। সেখানে ঝলমলে বাংলা হরফে লেখা, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রস্থ সন্দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাইকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।’ অদ্ভুতভাবে ওই পোস্টারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হাসিমুখও শোভা পাচ্ছে। আরেকটু পেছনে যান, মনে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ও ইরাক আক্রমণের কথা। বাংলাদেশের নানা স্থানে মানুষ মিছিল করেছিল— ‘আমার ভাই তোমার ভাই, লাদেন ভাই লাদেন ভাই’ কিংবা ‘সাদ্দাম তোমার ভয় নাই আমরা আছি তোমার সাথে’। সঙ্গে আরেকটা অদ্ভুত ব্যাপার চোখে পড়েছিল তখন। তার মধ্যে একটি হচ্ছে— অনেকে তার কুকুরের নাম রাখতে শুরু করে ‘বুশ’। অন্যদের কথা বাদ দিই, বন্ধুদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমি নিজেই একটা নেড়িকুত্তা ধরে এনে তার নাম রাখলাম ‘বুশ’। পরে যখন জানতে পারলাম এটার জেন্ডার জটিলতা; কী আর করা, নামের আগে ‘লরা’ যুক্ত করে নিজের জাত রক্ষা করেছিলাম।

সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। পত্রিকাগুলোর পাতায় বর্ণিল ছাপার হরফ আর টেলিভিশনগুলোর ঝলমলে উপস্থাপনা থেকে সবাই জানতে পেলাম শপথ নিচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা। রাস্তায় বের হওয়া যাক কিংবা ফেসবুকের হোমপেজে স্ক্রল করা হোক, চোখে পড়তে থাকবে— ‘অমুক ভাই নির্বাচিত হওয়ায় প্রাণঢালা অভিনন্দন, তমুক ভাই মন্ত্রী হওয়াতে আমার হূদয় নিংড়ানো শুভেচ্ছা’। রিকশাচালক থেকে শুরু করে মুদি দোকানি, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক একই চিত্র। যোগ্যতার বিন্যাসে কারো কারো অভিনন্দন বার্তা থাকে পোস্টার কিংবা স্লোগানে, কেউ কেউ অভিনন্দনের ব্যবসা করতে পাতার পর পাতা সুন্দর বাংলায় লিখতে থাকেন পত্রিকায়, কেউবা কথার দোলাচলে নাচাল করে তোলে টিভিপর্দার দর্শকদের। এমন আস্ফাালন কিংবা হম্বিতম্বিতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের অনুসন্ধিত্সু দৃষ্টিতে দেখতে হবে ওই ব্যক্তিটি তার কর্মক্ষেত্রে কতটুকু সৎ, নিষ্ঠাবান অথবা ধড়িবাজ কিংবা ফাঁকিবাজ সেটি। আর প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদেরও সতর্ক হওয়া উচিত এই ভেবে যে কেউ যেন ঊর্ধ্বতন কারো নাম বিক্রি করে ক্রমাগত দেশের ও দশের ক্ষতি করে পার না পায়।

(Visited 56 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published.