আরেক অমানুষের গল্প

একসময় প্যারিস রোডের গাছ কেটে ফেলার ধান্দা করেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক ভিসি সোবহান। কতিপয় শিক্ষকের কারণে সেটা পারেননি। তাই তিনি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকড়টাকেই কেটে দিয়ে গেলেন বিদায়ের দিনে। এই (অ)ভদ্রলোক শেষ দিনে যে অসভ্য আচরণ করে বিদায় নিল সেটা বাংলাদেশে ল্যান্ডমার্ক হয়ে থাকবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলী আশরাফ কিংবা ঐরকম আরও চোরাদের থেকে শুরু করে এই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোবহান এরা শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক চোরামি করে নাই। এরা শেষ করে দিয়ে গেছে একটা ধারাকে। তাদের নষ্ট চিন্তাধারা, অতিরিক্ত লোভ আর সবকিছু গিলে খাওয়ার প্রবণতা ধ্বংস করে দিয়েছে শিক্ষকদের সম্মান। এই সম্মান এখন এতোটা নিচে নেমেছে যা উদ্ধারের কোনো সুযোগ নাই।
এদের এসব অসভ্যতার কারণ আজ মুখ ফুটে কথা বলা বিপদ। কারণ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি জনৈক অতিরিক্ত সচিবকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে ট্রেজারার পদে। লজ্জায় মাথা কাটায় গেলেও এর প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ কমে গেছে। কারণ এমন সব আজগুবি লোকও শিক্ষক হয়েছে সোবহান সাহেবদের মতো জিনিসের হাত ধরে যারা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দা ঝাড়ু দেওয়ার যোগ্য না।
সম্মানিত সিনিয়র অধ্যাপকদের অনেক আগে সতর্ক হওয়া জরুরি ছিল। উনারা সামান্য পদ-পদবীর লোভ কিংবা নিজের অযোগ্য-অপদার্থ সন্তানের একটা শিক্ষকের চাকরি বাগানোর আশায় সব শেষ করে দিয়েছেন। মুখ বুঁজে সহ্য করেছেন যত রাজ্যির অপকর্ম, কুকর্ম আর ভ্রষ্টারের লাগাতার মচ্ছব।
হ্যাঁ আমার পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বড় দুর্ভাগ্য যে আমি সেখানে শিক্ষক হতে পারিনি। কিন্ত ক্লাসের ফার্স্ট হওয়ার পরেও তৎকালীন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জোর গলায় প্রতিবাদ করেছিলাম। ঢাকার ছেলেখ্যাত ঐ জোচ্চার-ধড়িবাজ টাউট বছরে ১০ দিন ক্লাস নিতো না। একদিন ভাব মারার চেষ্টা করেছিল ক্লাসে। জাস্ট ওকে ধরে দেশী মুরগির চামড়া খোলার মতো ছিলে ফেলেছিলাম।
অনেকে বলেন প্রতিবাদ করি বলে আমি লাইফে অনেক কিছু হারিয়েছি। সত্য বলতে আমার হারানোর কিছু নাই তাই প্রতিবাদ করি। আর এজন্য আমি যা পেয়েছি সেটা কেউ আজীবনের পদলেহনে পাবে না। সেটা হচ্ছে মাথা উঁচু করে দাপটের সঙ্গে বাঁচার সম্মান। হ্যাঁ!! শিক্ষক নামধারী কিছু দুষ্কৃতিকারী আমাকে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সবথেকে সক্ষমতার জায়গায় শিক্ষক হতে দেয়নি। কারণ ওরা আমার সক্ষমতাকে ভয় পায়। ওদের ভয় পাওয়ার দায়টা তো আমার নয়। বরং ওরা যেদিন থেকে আমাকে ভয় পেতে শুরু করেছে সেদিন আমার সুনিশ্চিত বিজয় হয়ে গেছে।
কথিত ভালছাত্র না হয়ে থেকে যারা মেধাবী তারা যদি সত্যিই প্রতিবাদী না হয় তাদের নীরবতা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নয়, আমার প্রিয় বাংলাদেশকে গিলে খাবে। যদি মুসলিম হয়ে থাকেন বিশ্বাস রাখুন রিজিক আল্লাহর হাতে। এটা কোনো প্রফেসর নামধারী তস্করের হুকুমের অধীন নয়। আপনার বিশ্ববিদ্যালয় আপানকে চাকরি না দিতে পারে!!! তাতে কি যায় আসে!! কিছুই হবে না। পরে দেখবেন আপনি কাঙ্খিত জায়গার থেকে অনেক উচ্চস্থানে আসীন হবে।
আমার অনেক প্রিয় অধ্যাপক সালাউদ্দীন স্যারকে কথায় কথায় বলেছিলাম ‘স্যার আপনারা স্মৃতি চারণের সময় অনেকের নাম উচ্চারণ করেন। কিন্ত তাদের থেকে যোগ্য লোকরা এখনকার তস্করদের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন না। স্যার লজ্জিত হয়ে ফোনের রিসিভার তুলে ফোন দিয়েছিলেন জনৈক তস্করকে। সে সালাউদ্দিন স্যার কথা দিয়েছিল ভয় কিংবা শ্রদ্ধায়। পরে স্যার মারা গিয়েছিলেন। সেও তার কথা রাখেনি। আমাদের দুর্ভাগ্য এসময়ে আলী আশরাফ কিংবা সোবহানের যুগে এমন মানুষ পাওয়াও ভার।
আমরা নিজেদের কবর নিজেরা খুঁড়েছি। এর থেকে উত্তরণ ঘটানোর দায়িত্বটাও আমাদের। আজ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষার্থীর সেখানে শিক্ষক হওয়ার কথা। ধড়িবাজ সিনিয়র শিক্ষকরা তাদের সেই পদ খেয়ে দিয়েছে নিজের ইতর-মূর্খ-অপদার্থ সন্তানদের জন্য। এখন ঐ মেধাবী শিক্ষার্থী যদি আমলা কিংবা পুলিশ হয় তার কি করা উচিত!! ঐ বুড়ো প্রফেসরকে ধরে যদি সে প্যাদায় কিংবা বেয়াদপি করে তার দায় অবশ্যই ঐ বাটপার প্রফেসরের উপরেই বর্তায়।
সত্য অনেক তিতা, নোংরা এবং ক্ষেত্রবিশেষে দুর্গন্ধযুক্ত। আর প্রতিবাদ সবাই চাইলেও করতে পারে না। কেউ প্রতিবাদ করে তার শক্ত মেরুদণ্ডের প্রভাবে হয়ে যাওয়া স্বভাবের কারণে, কেউবা করে অভাবে পড়ে। যে কারণেই হোক এসব টাইট বাটপারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি থাক। আর সেই সঙ্গে শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে নষ্ট করার যে মচ্ছব এর বিরুদ্ধে সবার অবস্থান হোকে ইস্পাতকঠিন।
বি.দ্র. 3.50 প্রাপ্তি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মেরুদণ্ডহীন করে দেয়। ঐরকম গ্রেডের একটা কুত্তাও দেখবেন এই পোস্টে মন্তব্য দূরে থাক লাইকও দেবে না। কারণ কবি রফিকের ভাষায় বললে সব সালা শিক্ষক হতে চায়!!!
(Visited 88 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *