করোনাক্রান্তিকালপূর্ব ঘাতকরা কে কোথায়?

মলদ্বারের আশেপাশে মৃদু চুল্কানি থেকে শুরু করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, রোগের ধরণ যেমনি হোক; যে লোকটা ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ক্ষিপ্রতায় কলকাতা, ব্যাঙ্গালোর, মুুুুুুুুুুুুুুম্বাই,চেন্নাই, থাইল্যান্ড কিংবা সিঙ্গাপুরে দৌড় লাগাতো সে আজ অসহায়।
 
সারাদিন বাংলাদেশের ডাক্তাররা কসাই, এরা চিকিৎসা করেনা এদের দক্ষতা নাই বলতে থাকা লোকটাও আজ সদর হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত। যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রাজনৈতিক নেতা একটা সময় দাপট দেখিয়ে ডাক্তারকে জুতো স্যান্ডেল তুলেছে সেও আজ নিশ্চুপ।
 
এলাকার সরকারি হাসপাতালে ভাল ডাক্তার আসলে স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তারের ব্যবসা মার খাবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিতে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারকে মার দেয়া হাতুড়ে ডাক্তার এমনকি তার পৃষ্ঠপোষক নেতাটাও আজ কবরে।
চাল, ডাল, লবণ, তেল, আটা, ময়দা সুজি থেকে শুরু করে দুধ ও দইয়ের ব্যবসায় অর্থবিত্তের পাহাড় গড়া মহীরুহ ভেঙ্গে গেছে। নির্মাণব্যবসার পাশাপাশি আইসক্রিমের ব্যবসায় মাফিয়া হয়ে ওঠা মানুষটিও এখন সব মিলিয়ে মাত্র আড়াই হাত জায়গায় নিজের সব কাজ মিটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
 
এই তো অল্প কিছুদিন আগেই যে লোকটা আইসিইউ নিয়ে কল্পনায় বিভোর হয়ে সুন্দর গল্প লিখতো। সে এখন কল্পলোকের সব গল্প ভুলে বাস্তবে নেমে এসেছে। তার ওয়ালে এখন আর বগল ফুটা করার কাহিনী শেয়ার করতে চোখে পড়ে না। সে আয়াতুল কুরসি শেয়ার দিয়ে একটা আইসিইউ বেডের জন্যই লবিং খুজছে।
 
সরকারি হাসপাতালের পর্দার টেন্ডার বাণিজ্য করে যে ব্যবসায়ী লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে হাতিয়া সন্দ্বীপে নয় ঘুরছে লোকালয়ে। তার পরিবারেরও কেউ কেউ আক্রান্ত। বস্তাভর্তি টাকা নিয়েও খেঁকি কুকুরের দশা হয়েছে তার।
 
আহারে বিপ্লবী ! যে লোকটা ডাক্তার কেনো বাইরে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেবে তা নিয়ে গালাগালির তুবড়ি ছোটাতো সেও সুন্দরভাবে ডেকে ডেকে ডাক্তা খুঁজছে। নিজ ওয়ালে স্ট্যাটাস দিয়ে এখন তার মা কে দেখানোর জন্য ডাক্তার খুঁজছে।
 
চুরি-চামারির একটু টাকা জমা করা স্থানীয় মোড়ল লোকটা ক’দিন আগেই সরকারি হাসপাতাল নাম শুনলে যারা নাক সিঁটকাতো। মৃদু জ্বর হলেও যারা মেডিক্যাল মাফিয়াদের স্কয়ার, অ্যাপোলো কিংবা ইউনাইটেডে পাড়ি দিতো তারাও এখন মাদুর বিছিয়ে শুয়ে আছে কোনো না কোনো সরকারি হাসপাতালের বারান্দায়।
 
যে সব মেডিক্যাল মাফিয়া তাদের হাসপাতালে করোনারোগী ভর্তি করা যাবে না মর্মে নোটিশ টাঙ্গিয়েছে তাদের কেউ কেউ এখন করোনা আক্রান্ত। তাদের অপকর্মের দায়ভার ডাক্তারের উপর চাপিয়ে নেতা রাজনৈতিক নেতা কিংবা ফেসবুক এক্টিভিস্টরাও আজ কম্বল মুড়ি দিয়ে গভীর ঘুমে।
 
দুই হাজার টাকার পত্রিকার কন্ট্রিবিউটর কিংবা দুই টাকার ফেসবুকার হয়ে যারা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সক্ষমতা অস্বীকার করতো। তারাও এখন মানছে আমাদের ডাক্তাররা যেকোন দেশের চিকিৎসকদের সমতূল্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রাখেন। অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতায় কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি।
 
আজন্মের দুর্নীতি করে আসা দোপেয়ে শুয়োরগুলো সবখাত ধ্বংস করে হাসপাতালের দিকেও কুদৃষ্টি দিয়েছিল। তাদের কারণে আজ আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা। যেখানে তারাও খেঁকি কুকুরের মতো ধুঁকছে সামান্য বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসা সেবার অভাবে।
 
মেডিকেলের প্রশ্নফাঁসে জড়িত দালাল ও প্রতারকরা আজ ভুল চিকিৎসায় কুকুর বেড়ালের মতো মৃত্যুপথযাত্রী। হয়ত মরার আগে কেউ কেউ ভেবে দেখছে ঐ সময় সামান্য টাকার জন্য এই অপকর্ম না করলে আজ এমন করুন দিন উপস্থিত হতো না।
 
যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কু-শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে দলভারি করেছে ; আজ অবসরে গিয়ে মৃত্যুর আগে তার পাশে মানুষ দূরে থাক মুখ চেটে দেয়ার মতো কুকুর পর্যন্ত নাই। সে নিজেও হয়তো ভাবছে সে অন্যায় না করলে আজ এই করুণ পরিস্থিতিতে কোনো না কোনো মানুষকে সে পাশে পেতো।
 
blankবাংলাদেশে থেকেও এন্টার্কটিকার সুবাতাস পাওয়া যে হুজুর ইতালি প্রবাসীর স্বপ্নে দেখা করোনা ভাইরাসের সাক্ষাতকার নেয়, সেও বুঝেছে ভাইরাস আর ভাইরাভাই এক নয়। তাইতো সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিজেই বলেছে চাচা নিজের জান বাঁচা। যে হুজুর বলেছিল মুসলমানের করোনা হবে না। সেও আজ গরুর মুখে ঠুসি লাগানোর মতো মুখে মাস্ক লাগিয়ে বক্তৃতা ঝাড়ছে। কিংবা ব্রয়লার মুরগি খাওয়া নিয়ে ওয়াজ করাও আজ বিপন্ন একটা বিষয়। 
 
সারাদিন ফেসবুকে আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলাম নিয়ে কটাক্ষ করা অর্বাচিন লোকটার বাবা মারা গেছে। তার লাশ কেউ স্পর্শ করছে না। মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। কারণে অকারণে বদলায়। আজ তার বাবা মরে গিয়ে পচতে যাচ্ছে, আর বেঁচে থাকার কারণে বদলেছে কেউ।
 
আজীবন হুজুরদের গালাগাল করে এলেও নিজ বাবার লাশ দাফনের দায় কিংবা দুর্গন্ধ থেকে মুক্তির দায়ে ফোন করছে হুজুরদের সংগঠন আল মারকাজুল ইসলামকে। নিজ বাবার লাশ নিজে ধরতে সে ভয় পেলেও মৃত্যুকে একান্ত বাস্তবতা মেনে নিয়ে সে লাশ পরম মমতায় তুলে নিয়ে যাচ্ছে হুজুরেরাই। অথচ তার ইসলাম বিরোধিতার জন্য এই হুজুরেরাই হয়তো কোনো একটা সময়ে তার ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে।
 
বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে ভাব মারা মানুষগুলো মারা পড়ছে কাজের অভাবে। আর কাজকে অবহেলা না করা মানুষগুলো হয়তো কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। খুব সম্ভবত মানবতা এমন বিপন্ন পরিস্থিতির মুখে পড়েনি আজ অবধি। আল্লাহ আমাদের সবার সহায় হোক। আমরা যে যাই থাকি অন্তত মানুষ হয়ে যাই,মানুষ হয়ে বাঁচতে শিখি। এটাই হোক করোনাক্রান্তিকালের বড় শিক্ষা।
(Visited 342 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published.