ক্রিপ্টোলজি ও ক্রিপ্টোগ্রাফির এক চিলতে ইতিহাস

প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে অনেক রহস্যঘেরা দুর্বোধ্য এক অধ্যায় ক্রিপ্টোলজি (Cryptography, or cryptology)। ছোট ভাই Muhaiminul Islam Antik এটা নিয়ে বিস্তর কাজ করেছে। ওর এই বিষয়ে লেখালেখিও আছে বেশ। তবে ইতিহাসের একটি বিষয় আমাদের খেয়াল রাখাটা জরুরি আর তা হচ্ছে এই ক্রিপ্টোলজি (Cryptography, or cryptology) কেনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো।
আমার ধারণা মধ্যযুগের ইউরোপের উত্তাল সময়ে থেকে এর গুরুত্ব বাড়তে থাকে। কথিত জেরুজালেম উদ্ধারের নাটকের বিপরীতে পুরো পৃথিবীর সম্পদ লুঠ করার যে ইউরোপীয় এজেন্ডা সেখানেও এর ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ক্রুসেডার এবং খ্রিস্টান মিশনারীরা ক্রিপ্টোলজিকে তখন এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।
ভৌগোলিক আবিষ্কারের পর নিউ ওয়ার্ল্ড এবং বিভিন্ন উপনিবেশ স্থাপনের যোগ্য দেশগুলোতে ওদের পাদরিরা ধর্ম প্রচারের বেশ ধরে ঘুরে বেড়াতো। তারপর সেখানকার গুপ্তচর আর সরকারি লোকদের দৃষ্টি এড়িয়ে বিভিন্ন বার্তা প্রেরণ করতো।
বিশেষ করে আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকার সোনার খনি, বাণিজ্য পথ আর রাজনৈতিক ও সামরিক দুর্বলতা তারা গোপন বার্তায় তাদের দেশকে জানাতো। তরা ধর্মপ্রচারকের সাধুর বেশ ধরে এসব দেশে চরে বেড়িয়েছে মনের সুখে। পাশাপাশি গুপ্তচরের কাজ করে সাড়ে সর্বনাশ করেছে ওদের। আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকার সিংহভাগ দেশের সোনার খনি কিংবা সম্পদের তথ্য এভাবেই ইউরোপে পাচার হয়েছে।
নিজ দেশে তথ্য পাচারের ক্ষেত্রে স্প্যানিশ মিশনারীরা সবার থেকে এগিয়ে ছিল। রাজাকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে জঘন্য বর্বরতার সেই স্প্যানিশ ইনকুইজিশন যেমন তারা শুরু করেছিল তেমনি তাদের কারণেই স্পেনের শাসক হয়ে গিয়েছিলেন প্রাচীন মিসরের আদলে পুরোহিত রাজা। এবং এই পুরোহিত রাজার পক্ষে করা সব ধরণের কাজ এমনকি ইনকুইজিশনের নারকীয়তাকেও তারা পবিত্রজ্ঞান করতো।
(Visited 63 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *