গানটা যখন দাজ্জাল নিয়ে

‘দাজ্জাল’ শব্দটি নিয়ে ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি নানাদিক থেকে জটিলতার জাল বিস্তার করছে। সম্প্রতি অবাক হয়ে খেয়াল করি অনেক ভিডিওর সঙ্গে ‘ইউটিউবে ট্রেন্ডিং হচ্ছে’ জনৈক মুফতি সাঈদ আহমেদের দরাজ কণ্ঠে নিনাদ করছে একটি গান। ‘মুমিনরা হয়ে যাবে মজলুম, গাজওয়ায়ে হিন্দ ভাঙাবে ঘুম’ শীর্ষক লাইনটা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। উনারা ‘দাজ্জালকে নিয়েই শুধু চিন্তিত না, চান্সে গাজওয়ায়ে হিন্দ পর্যন্ত শুরু করে দিয়েছেন। মূলত এই ধরণের অতি উৎসাহী চিন্তা বিপদজনক।

মুফতি সাইদ আহমেদের কণ্ঠ এতোটাই দরাজ যে এই গান শুনতে গেলে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী যে কারও অজান্তেেই একরকম মোহাবিষ্টতা তৈরি হয়। ইসলাম, শরীয়ত আর আকিদা নিয়ে আমার কিছু বলার নাই। কারণ উনারা ইসলাম জানেন, বোঝেন এবং বোঝানোর চেষ্টা করেন। আমার বিতর্কের জায়গাটা এখানেও ইতিহাস। আমার ধারণা মুফতি সাইদের সুললিত কণ্ঠের উচ্চারণে ভয়ানকরকম ইতিহাসবিচ্ছিন্নতা দৃশ্যমান।

‘কই মাহাদির সৈন্যরা গর্জে ওঠো শহিদী তামান্না বুকে নিয়ে’ এই জাতের আহবান দিয়ে উনি আসলে কি বোঝাতে চাইলেন? তারপর বলছেন ‘সুফিয়ানা মতবাদ’ রুখতে হলে এখন থেকেই থাকো তৈরি হয়ে। প্রশ্ন উঠতে পারে উনি সুফিয়ানা মতবাদ বলতে আসলে কি বুঝিয়েছেন। বিশেষত, অনেকের প্রবণতা আছে কিয়ামতপূর্ব সময়ের দাজ্জাল সহযোগী সুফিয়ানাদের সঙ্গে সুফিদের গুলিয়ে ফেলার। আমাদের দেশের গর্দভ তাত্ত্বিকরা বর্ণনা দিতে গিয়ে ঠিক যেভাবে বাউল আর সুফিদের গুলিয়ে ফেলে। গানের মধ্যে এ ধরণের বিভ্রান্তি নিশ্চিত করে মানুষকে ভুলপথে পরিচালিত করতে পারে।

‘কেয়ামত সন্নিকটে’ এই কথা বারংবার বলতে থাকলে মূল সমস্যা অন্যখানে। বিশেষত অনেক ভণ্ডপীর ও তার চামচারা এই সুযোগে নিজেকে মাহাদি দাবি করে বসতে পারে। কারও বিরুদ্ধে কিছু বলার না থাকলে তাকে ‘দাজ্জাল’ ট্যাগিং শুরু হয়ে যাবে। তাই মাহাদি ও দাজ্জাল নিয়ে এখনি গেঞ্জাম করার সময় হয়নি। এর থেকে আশেপাশের মানুষ ও সমাজ নিয়ে চিন্তাটা জরুরি। ‘মাহাদি-দাজ্জালের’ যে ইউটোপিয়া এই গানে রয়েছে তা এ ধরণের আ্গ্রাসী অবস্থার প্রতিভূ। অন্তত গাজওয়াহে হিন্দের নামে বিভ্রান্তি ছড়াানোর মতো প্রসঙ্গকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কম।

ভয়ের ব্যপার এই বিষয়ে হৃদয়ে বদ্ধমূল ধারণা হলে কম শিক্ষিত অতি আবেগী মানুষ তাদের বিরোধীপক্ষকে ‘দাজ্জাল’ বলবে। যেদিনই মাথা গরম হবে সেদিনই ‘‘মুফতি সাইদের মহাকাল” প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে বসতে পারে। এজন্যই এমন সঙ্গীত রচনা, প্রচার এবং গাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সাবধানী হওয়া উচিত। অনর্থক সংঘাত নয় বরং শান্তির বাণী প্রচারেই ইসলামের মূল সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব এই চিন্তাটাও মাথায় রাখা জরুরি।

(Visited 78 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *