পানিপথের সেই দিনগুলো…

কল্পনাবিলাসী সমরনায়ক হিসেবে জীবনের শুরুতেই অনেক ধাক্কা খেয়ে থমকে যেতে পারত জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের জীবন। কিন্তু তিনি পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করলেও নীতির সঙ্গে করতে পারেননি। সব প্রতিকূলতা জয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছেন। একটি ক্ষুদ্র প্রশাসনিক এককের ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হয়েও সংকল্পচ্যুত হননি। নিজ দেশে পরবাসী বাবর শেষ পর্যন্ত ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেন ভারতবর্ষে এসে। এখানে তিনি নতুন করে শুরু করেছেন জীবন। একেবারে নতুন দেশ, আনকোরা পরিবেশে আর অনেক নতুন স্বপ্ন, যার শুরুটা ইব্রাহিম লোদীর বিরুদ্ধে সংগ্রামের সফলতা নিয়ে। দুর্বল শাসনে জনরোষের মুখে পড়া ইব্রাহিম লোদী সামরিকভাবে অতটা দুর্বল ছিলেন না। কিন্তু তখনকার দিনের হিসাবে বেশ উন্নত মানের কামান ব্যবহার করায় বাবরের সামনে অতটা সুবিধা করতে পারেননি ইব্রাহিম লোদী।

ভারতের প্রকৃতিতে তখন পালাবদল শুরু হয়েছে মাত্র। প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা। তবু হিন্দুকুশ থেকে শুরু করে খাইবার, বোলান, গোমাল কিংবা তোচির গিরিপথের দুপাশে দৃশ্যমান গাছপালার সবুজ রঙ একটুকুও ফিকে হয়ে যায়নি তখনো। তবে পানির উত্স ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। বার্তাবাহক বাবরের কাছে তত দিনে সংবাদ পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে ভারতের নাজুক অবস্থার কথা স্পষ্ট। কুশলী বাবর ঠিক তখনি ভারত আক্রমণ না করে ধীরে ধীরে যুদ্ধপরিকল্পনা ঠিক করতে থাকেন। তার সহযোদ্ধাদের অনেকেই ভারতের শক্তিশালী লোদী সালতানাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটাকে নেহাত উচ্চাভিলাষ তথা ভ্রান্তিবিলাস হিসেবেই দেখতে শুরু করেন। কিন্তু বাবর সিদ্ধান্তে অবিচল। তিনি জানতেন, নিজ বংশের বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি এখন আপন গৃহেও পরবাসী, আর উত্তর দিকে এগিয়ে গিয়ে শক্তিশালী মধ্য এশিয়ানদের সামনে দাঁড়ানোর মতো সাহস তখনো ছিল না। এক্ষেত্রে বলা যায়, একদিকের ব্যর্থতা আর অন্য রকম একটি ভয়ই ভারত আক্রমণে অনুপ্রাণিত করেছিল বাবরকে। বাইরের দেশ থেকে আসা বিশেষ করে আফগানি আক্রমণকারীদের বড় দুর্বলতা ছিল নদীপথ। কিন্তু বাবর তার ক্ষুদ্র সৈন্যদলেও নদীপথে যুদ্ধ করতে পারে, এমনকি সাঁতরেও দীর্ঘ খরস্রোতা নদী পার হতে পারে এমন ব্যক্তি নিযুক্ত করেছেন। তিনি জানতেন যুদ্ধ মানে, শুধু জিতে আসা নয়, কোনোক্রমে ব্যর্থ হলে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসার প্রস্তুতিটা আগেভাগেই তৈরি করে রাখা ভালো।

এদিকে যুদ্ধ জয় করার আগে স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নেয়াটাও বাবরের জন্য জরুরি হয়ে দেখা দেয়। এক্ষেত্রে তিনি সবার আগে কালাত ও কান্দাহার জয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তবে তার খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। কালাতের রাজশক্তি অতটা যুদ্ধবাজ ছিল না। বাবরের ছোট কিন্তু গোছালো ও কুশলী সেনাবাহিনী কালাতের দিকে পৌঁছে গেলে তারা পিছু হটতে শুরু করে। অনেকটা বিনা বাধায় তারা আত্মসমর্পণ করে। বলতে গেলে প্রায় বিনা বাধায় কালাত জয় করেন বাবর।

কালাতজয়ী বাবরের সামনে তখনো কান্দাহারের কঠিন দিন অপেক্ষা করছিল। বিশেষ করে গুলবদন বেগমের বিবরণ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানা গেছে। তিনি বাবরের কান্দাহার জয়ের কাহিনী অনেকটা অস্পষ্টভাবে বিধৃত করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, উপযুক্ত রণকৌশল কীভাবে শক্তিশালী বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে দেয়। বাবর কান্দাহার অবরোধ করলে সেখানকার অধিবাসী ও যোদ্ধারা অনুপম দৃঢ়তার সঙ্গে প্রায় দেড় বছর তাদের পতন রক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু বাবরের দৃঢ়তা থেকে বিব্রত কান্দাহারবাসী শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শেষ হাসিটা ছিল বাবরেরই, যা তার ভারত আক্রমণের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। কান্দাহার জয়ের মধ্য দিয়ে বাবরের দখলে চলে আসে প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা ও অর্থসম্পদ। তিনি এ সম্পদ কাজে লাগিয়ে তার সেনাবাহিনী শক্তিশালী করে তুলতে মনোযোগী হয়েছিলেন। বিশেষ করে প্রাপ্ত সম্পদ তার সেনাবাহিনীর মাঝে বিতরণ করে দিয়েছিলেন বাবর। তার চিন্তায় তখন ভারত। তাই কান্দাহার শাসনের ভার অর্পণ করেন মির্জা কামরানকে। গুলবদন বেগমের বিবরণমতে, ৯৩২ হিজরির সফর মাসের কোনো এক শুক্রবার কাবুলে ফিরে আসেন বাবর।

কাবুল ফিরে এসে বাবর বলতে গেলে সবকিছু বাদ দিয়ে ভারত অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা শুরু করেন। পরিস্থিতি বোঝার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার ভারতের বুকে আক্রমণও শানিয়েছিলেন। ৯৩২ হিজরি সনের প্রথমদিকের সাত-আট মাসে ডজনখানেক বার ভারতের বুকে আক্রমণ চালিয়েছিলেন বাবর। তিনি পরিস্থিতি আঁচ করতে বেশ কয়েকটি দিকে লক্ষ রাখেন। বারবার ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে তিনি আসলে ভারতে লোদীর শক্তিমত্তা বোঝার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। আর এভাবেই তিনি মানসিক ও সামরিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছিলেন পানিপথের দিনগুলোর প্রত্যাশায়।

বারবার ভারত আক্রমণ করে বাবর যে ব্যর্থ হয়েছিলেন, এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে ভেরা, ওয়াজুর, শিয়ালকোট, দেবলপুর ও লাহোরের মতো এলাকা তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধের অনেক আগেই নিজের দখলে নিয়েছিলেন। এতে করে ইব্রাহিম লোদী যেমন শঙ্কিত ছিলেন। তেমনি ধীরে ধীরে দিল্লির সালতানাত বাহিনীর মুখোমুখি হওয়াটা অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে বাবরের জন্য। এ কথা যুদ্ধের বেশ আগে থেকেই বাবর কিংবা ইব্রাহিম লোদী দুজনই আঁচ করতে পেরেছিলেন। মূল আক্রমণের শুরুতে বাবর ইয়াকুব গ্রামের পথ দিয়ে আক্রমণ পরিচালনা করেন। এক্ষেত্রে পথিমধ্যে লাহোর নগরী, আশপাশের বেশ কয়েকটি দুর্গ ও গ্রাম অধিকার করতে খুব বেশি সময় লাগেনি তার। তবে সিকান্দার বাহলুল লোদীর ছেলে ইব্রাহিম লোদীর বিরুদ্ধে সৈন্য সমাবেশ করতে বেশ কিছুদিন সময় লেগে যায় তার।

তিনি যমুনার তীর ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন সেনাবাহিনী নিয়ে। তিনি ইব্রাহিম লোদীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন আসলে অনেক দিন আগে। আর এখন সে লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতির অপেক্ষামাত্র। দিল্লির উপকণ্ঠ কিংবা সরাসরি দিল্লি আক্রমণ না করে তিনি প্রায় ১৫ ক্রোশ দূরে অবস্থিত পানিপথের প্রান্তরে সৈন্য সমাবেশ করেন। তিনি পরিস্থিতি আঁচ করতে চাচ্ছিলেন প্রথম দিকে। বিশেষ করে ইব্রাহিম লোদীর সেনাবাহিনীর শক্তিমত্তা সম্পর্কে জানতেন বাবর।

যুদ্ধ কৌশল ঠিক করার সময় বাবর ধরেই নিয়েছিলেন, প্রায় এক লাখ সেনা সমাবেশ করবেন ইব্রাহিম লোদী। আর তার বাহিনীতে থাকবে অসংখ্য হাতি। হাতি দিয়ে বিপক্ষ দলকে মাড়িয়ে পর্যুদস্ত করার সনাতনী ভারতীয় যুদ্ধকৌশল তখন যে বাবরের কাছে অকার্যকর মনে হয়েছে, সেটা আঁচ করতে পারেননি ইব্রাহিম লোদী। বাবরের কৌশলের কাছে তিনি যে বড় নাকানি-চুবানি খেতে যাচ্ছেন, সেটা কখনো আন্দাজ করতে পারেননি ইব্রাহিম লোদী। তিনি জানতেন, এ হাতিনির্ভর সেনাবাহিনী তার অনেক যুদ্ধজয়ের সারথি। তিনি অল্প কিছুদিন আগেই ওলাম খান, দিলওয়ার খান কিংবা স্থানীয় অনেক শত্রুকে একেবারে পিষে ফেলেছেন। আর সেক্ষেত্রে বিশাল হাতিবাহিনীই ছিল তার প্রথম অবলম্বন।

বাবর লোদীর হাতিনির্ভর রণকৌশলের কথা জানতেন। তিনি এও জানতেন, লক্ষাধিক সেনার বিপরীতে তার সেনা সংখ্যা মাত্র বারো হাজারের বেশি নয়। কিন্তু বাবরের হিসাবে হাতিনির্ভর যুদ্ধে সেনা সংখ্যা যত বেশি হবে, তাদের বিপাক তত বেশি। হাতি দিয়ে যুদ্ধ করে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করা যতটা সহজ, তার থেকে বেশি বিপজ্জনক হাতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিশেষ করে হাতি একবার বিগড়ে গেলে তার আর শত্রু-মিত্র জ্ঞান থাকে না। বাবর হাতির বাহিনী থামিয়ে দিতে প্রথম থেকেই অনেকগুলো পরিকল্পনা রেখেছিলেন। তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়ে যুদ্ধযাত্রার আগে অনেকগুলো বস্তায় ভরে তারকাঁটা, আফগানি বরইয়ের বিচি আর সূক্ষ্ম খোলামকুঁচি নিয়ে আসেন। সেনাবাহিনীর একাংশকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন ছুরি দিয়ে চেঁছে পাহাড়ি নানা কাঁটাদার গাছপালা থেকে কাঁটা সংগ্রহ করে নিতে। প্রথম দিকে তার বাহিনীর সৈন্যদের অনেকে এসব আচরণে বিরক্ত হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, বাবরের এ রণকৌশলই অবাক করে দিয়ে সাফল্য এনে দেয় তাদের ঘরে।

ইব্রাহিম লোদী লক্ষাধিক সৈন্য বাহিনী নিয়ে প্রবল বিক্রমে এগিয়ে আসছেন বাবরের সৈন্যদের পিষ্ট করতে। মাত্র ১২ হাজার সৈন্যের নেতা বাবর তখনো নিরুত্তাপ। তিনি মনে হয় যুদ্ধের ফল শুরু থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। ইব্রাহিম লোদীর বাহিনী একটু দূরে থাকতেই কাজে লেগে পড়ে বাবরের ঘোড় সওয়ার বাহিনী। তারা ইব্রাহিম লোদীর বাহিনী আগমনের গতিপথে আগে থেকেই বিছিয়ে দিতে শুরু করে পাহাড়ি ঝোপঝাড়ের কাঁটা, আফগানি বরইয়ের সূক্ষ্ম বিচি এবং সূক্ষ্মপ্রান্তের তিন কোনা তারকাঁটা। বিশাল হাতিবাহিনী পথিমধ্যেই থমকে যায়। তারা কোথায় বাবরের বাহিনীকে আক্রমণ করবে; পায়ের মধ্যে কাঁটা, কাচের গুঁড়ো এবং তিন কোনা তারকাঁটা ঢুকে মরণ চিত্কার দিয়ে ওঠে হাতিগুলো। এবার তাদের কাছে আর শত্রু-মিত্র জ্ঞান থাকে না। তারা তাণ্ডব শুরু করে ইব্রাহিম লোদীর বাহিনীর ওপরই। যুদ্ধ শুরুর আগেই তারা দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। তাদের তাণ্ডবে অনেকটা বিভ্রান্ত বিহ্বল ইব্রাহিম লোদী তখনকার যুদ্ধকৌশল ঠিক করে ওঠার আগেই আক্রান্ত হন বিভিন্ন স্থানে পজিশন নিয়ে থাকা বাবর বাহিনীর মাধ্যমে। তারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিটি রণাঙ্গনে কচুকাটা করতে থাকে ইব্রাহিম লোদীর বাহিনীকে। শেষ পর্যন্ত অনেক সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যায়। বাবরের আফগানি বাহিনী শক্তিমত্তার দিক থেকেও এগিয়ে ছিল অনেক। আর তার ফলও পেয়ে যায় হাতেনাতে। বিশেষ করে পাঁচজন ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যকে বাবরের একজন সৈন্য অনায়াসে ধরাশায়ী করতে থাকে। এতে তাদের মনে ভীতি সঞ্চার হয়। আর তাদের পশ্চাত্পদতা বাবরের সৈন্য দলকে আরো বেশি উত্সাহিত করেছিল।

এদিকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা দিতে প্রস্তুত ছিল বাবরের খুব ছোট কিন্তু অনেক বেশি কার্যকর গোলন্দাজ বাহিনী। তারা হাতির তাণ্ডবে যন্ত্রণাকাতর ইব্রাহিম লোদীর বাহিনী কাছে এলে প্রস্তুত থাকে তাদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিতে। আর শেষ পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যুদ্ধে পরাজিতই হয়নি। কামানের গোলায় একপাশে আঘাত লাগা ইব্রাহিম লোদীর ভবলীলা যুদ্ধক্ষেত্রেই সাঙ্গ হয়। বাবরের গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান তার সেনাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন আগে হাতিগুলোকে আক্রমণ করতে। বিশেষ করে কামানের গোলায় আহত হাতিগুলো আরো ভয়ানকভাবে আক্রমণ করে ইব্রাহিম লোদীর সেনাদেরকেই। পাশাপাশি দলবদ্ধ সেনাদের নিমিষেই শেষ করে ফেলে কামানের গোলা। অনেক ভালো তরবারি যোদ্ধাও নিতান্ত অসহায়ের মতো কামানের গোলার মুখে জীবন সমর্পণ করে ইব্রাহিম লোদীর বিদায় ঘণ্টা বাজায়।

নিজ দেশে পরবাসী বাবর শৈশব পার করতেই বুঝে গিয়েছিলেন জীবন একটা যুদ্ধ। আর সে সময়ের শিক্ষাই পাথেয় হয় পানিপথের দিনগুলোয়। তিনি জানতেন ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনী অনেক বড়, অনেক দক্ষ। তিনি তার দর্শন ছিল বিশ্বের কোনো সৈন্যবাহিনীই অজেয় নয়। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি সৈন্যদের নির্মম কঠোরতার শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধ চলাকালে সুযোগ আসামাত্র শত্রুকে কচুকাটা করতে হবে। এক্ষেত্রে উদারতা, মহানুভবতা, নৈতিকতা আর মনুষ্যত্ব দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। এগুলো তোমরা তুলে রাখবে যুদ্ধজয়ের জন্য, আর মনুষ্যত্বের চর্চা যদি করতেই হয়, সেটাকে জমিয়ে রাখো ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসীন হতে পারলে তখনকার জন্য। একজন শাসকের জন্য ক্ষমা কিংবা নৈতিকতার পাশাপাশি মানবতার চর্চা যতটা জরুরি। একজন যোদ্ধা তথা সৈনিকের জন্য কঠোরতা আর সুযোগ কাজে লাগানোটাও ঠিক ততটাই জরুরি। তাই ইব্রাহিম লোদীর হাতির পালকে কাঁচা, পাথরকুচি, বরইয়ের বিচি বিছিয়ে শায়েস্তা করা থেকে শুরু করে তাদের ওপর কামানের গোলাবর্ষণে বাবর বাহিনীর বাধেনি। তেমনি তরবারি নিয়ে যারা যুদ্ধ করতে এসেছে, তাদেরও কামানের গোলায় খতম করেছে বাবরের বাহিনী। আর শেষ পর্যন্ত কঠোর নীতি আর সুযোগ কাজে লাগানোর মানসিকতাই সাফল্যকে টেনে এনে দাঁড় করায় বাবরের দোরগোড়ায়। পানিপথের শেষ দিনগুলো তাই ইব্রাহিম লোদীর জন্য ছিল চরম নির্মম আর বাবরের জন্য বিজয়োল্লাসে উদ্ভাসিত। এ নির্মম সময় লক্ষাধিক সৈন্যের বাহিনীকে মাত্র ১২ হাজারের সামনে মাথা নোয়াতে বাধ্য করে, তেমনি কেড়ে নেয় ইব্রাহিম লোদীর পিতৃপ্রদত্ত প্রাণটাও। এদিকে নিজগৃহে মাথাগোঁজার ঠাঁই না পাওয়া বাবর সময়ের আবর্তে হয়ে ওঠেন বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি।

(Visited 65 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *