সর্বনাশা জিম, প্রাণঘাতী ডায়েটিং

পরিবারের কোনো কাজ না করে স্থলহস্তিতে রূপ নেওয়া বাঙালি পুরুষ ও নারীর ডায়েটিং আর কিছুই নয় আদিখ্যেতা। হারাম-হালাল চোখ বন্ধ করে আয় এবং ভক্ষণের পর বেঢপ আকৃতির শরীরকে ঢপে আনতে গেলানো হয় এসব অসুস্থ ডায়েটিং এর চপ।
ঐতিহাসিকভাবেই সব রকম ডায়েটিং মানুষের শরীরবৃত্তীয় কার্যকলাপকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আর তার মধ্যে নিকৃষ্টতমটি হচ্ছে কিটো ডায়েট। মানুষের মস্তিষ্কে বিন্দুমাত্র ঘিলু থাকলে তারা এই কিটো ডায়েট নামের আত্মহননের পথ বেছে নিতো না।
শৈশব থেকে সব ধরণের কাজ থেকে ফাঁকিবাজি, মাঠে গিয়ে খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় মোবাইল টেপা আর কাজের বুয়াকে অর্ডার করা ধ্বংস করছে বাচ্চাদের। ফলে তাদের মস্তিষ্কের পরিমাণ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আর দৈহিক আকৃতি হচ্ছে হাতিতূল্য। এর থেকে বাঁচার উপায় কি?
কয়েকজন দোপেয়ে শুয়োর, ইতর এবং খচ্চর প্রচার করছে কোনো কিছু নয় কিটো ডায়েটের মাধ্যমে ঘটতে পারে একমাত্র সমাধান। এদের কোনো বিচার নয়, জাস্ট ধরে নিতম্বে লাথি কষা দরকার।
প্রায় সবদিক থেকে ক্ষতিকর কিটো ডায়েটের কয়েকটি খারাপ দিক হলো অধিক চর্বি ও প্রোটিনের জন্য একদিকে ডায়রিয়া, অন্যদিকে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। অন্যদিকে সারাদিন বমি বমি ভাব আর ক্ষুধামন্দা তৈরি হয়। এক কথায় বলতে গেলে যেচে পড়ে অসুস্থ হওয়ার অতি সহজ একটি পদ্ধতি এটি।
কিডনিতে পাথর ও কিডনির অন্যান্য সমস্যাও দেখা দেয়। কারণ কিছুই না গ্লুকোজ, সুক্রোজ আর গ্যালাকটোজ ইনব্যালেন্স তৈরি হয় শরীরে। অন্যদিকে হৃদ্‌রোগ ও পিত্তথলিতে পাথরও হতে পারে এই সর্বনাশা আত্মহননকারী ডায়েটে যুক্ত হলে।
শরীরে শর্করা স্বল্পতায় প্যানক্রিয়াসের অসুস্থতা তৈরি হতে পারে। যাদের থাইরয়েডের সমস্যা আছে তারা নানামুখী বিপদে পড়তে পারেন। অন্যদিকে হজম শক্তি এক্কেবারে কমে যায়। শরীরে চুল্কানি দেখা দিতে পারে কিংবা হুট করে চুল পড়ে যাওয়া শুরু হতে পারে।
কুকুর শেয়ালের মতো অতিরিক্ত প্রোটিন ও চর্বি গিলতে থাকলে কিছু না হোক চামড়ায় ফুসকুড়ি (র‌্যাশ) ওঠে। ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রবল। আর যাদের ডায়রিয়া হয় তাদের শরীর দুর্বল হয়ে কর্মক্ষমতা কমে যায়।
এই মাত্র কয়েকমাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় ২২ বছর বয়সী এক মডেল তারকাখ্যাতির আশায় দিনের পর দিন কিটো ডায়েট চালিয়ে যাওয়ার পর একসময় মারা যান। হতভাগ্য মা-বাবা সবার কাছে অনুরোধ রাখেন, আর কারও সন্তান যেন তাঁদের মেয়ের মতো ফিগার-সচেতন না হয়।
জনৈক ডাক্তারের চেম্বারে নবম শ্রেণির একটি মেয়েকে নিয়ে মা-বাবা আসেন। মেয়েটি তার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করেছে শুধু ‘জিরো ফিগার’-এর আশায়। দেশের বাইরে নিয়ে গিয়েও মেয়েটির চোখ বাঁচানো যায়নি। অথচ তার ডায়েটিং এর প্রয়োজন ছিল না।
সম্প্রতি ভারতীয় অভিনেত্রী মিষ্টি মুখার্জি পটল তুলেছে এই কিটো ডায়েটের খপ্পরে পড়েই। তার অসময়ে অগস্ত্য যাত্রা অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে। এক সময়ের কুমড়ো পটাশ অভিনেত্রী হান্সিকা মতোয়ানি হঠাৎ শুকিয়ে শুঁটকিমাছ হয়ে যান। কিন্ত এরপর থেকে এতোটাই অসুস্থ যে নতুন মুভিতে চুক্তিবদ্ধ হতেই কষ্ট হয়েছে তার।
ডায়েট নামের এসব ধীরস্থির আত্মহনন পদ্ধতি পরিত্যাগ করে কাজ করুন। মোটা শরীর নিয়ে এতো দুশ্চিন্তার কিছু নাই। যাই খান অন্তত হালাল এবং সৎ রোজগারে খাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর শরীরে যেটুকু জমে কিংবা না জমে সেটা পরের কথা। তার থেকেও বড় কথা অলস বসে থেকে পেটের ভুড়ি আর শরীরের চর্বি জমানোটা অন্যায়। এর দায় আপনাকে বহন করতেই হবে।
কায়িক শ্রমের কোনো বিকল্প আগেও ছিল না, এখনও নাই। ফিটনেস ক্লাব, জিম কিংবা ডায়েট এগুলো পুঁজিবাদীদের নতুন সন্ত্রাসী ধারণা। কেউ কেউ হয়তো এর পেছনেও কন্সপিরেসি থিওরির সংযুক্তি খুঁজে বসতে পারেন। তবে সাধারণ দৃষ্টিতে এগুলো ক্ষতিকর। এসব জঘন্য প্রতারণা থেকে নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচান।
(Visited 72 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published.