সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং বাংলা ভার্সন

অটোটেম্পু কিংবা লেগুনায় গাদাগাদি করে চেপে বসে পুলিশ ভাই-বোনেরা দায়িত্ব পালন করছেন। ডাক্তাররা তো গণশত্রু তারা মরলে-বাঁচলে কারও কোনো যায় আসে না। কারণ এদের অনেক বুদ্ধি এরা ইন্টার পাসের পর মেডিক্যালে চান্স পাইয়া আমাদের ইগো হার্ট করছিল এরা কাইত হয়া, চিৎ হয়া উল্টায়া বেরেক কেইরা যেম্নে মরে মইরা যাক। এরা কসাই, এরা মইরা গেলে দ্যাশটাত খালি শান্তি আর শান্তি থাকবে।
 
মানুষ ঝাঁক বেঁধে পাল ধরে সবজি বাজারগুলোতে ঢুকতেছে। তারপর পুলিশের দেয়া চিহ্নতে দাঁড়িয়ে বাজার করছে। তারপর আবার ঝাঁক বেঁধে পাল ধরে চলে যাচ্ছে। তারা একই সবজি ধরছে। একই হাতে সবজিঅলার সঙ্গে টাকা দিয়ে লেনদেন করছে। একটু বেখেয়াল যারা তারা সুন্দরভাবে থুতু দিয়ে গুণে টাকা মানিব্যাগে ভরে আঙ্গুল দিয়ে পট একটা নাকের লোম তুলে চোখ চুল্কাতে চুল্কাতে বাড়ি ফিরছে। তারপর সাবান, শ্যাম্পু, সোডা, ডিটারজেন্ট, সোপিওয়াটার কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়া ঘঁসা দিলেই কাম শ্যাস।
 
ত্রাণের দীর্ঘ লাইন। সেখানেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী-পুলিশের পক্ষ থেকে সুন্দরভাবে চিহ্ন দেয়া। ত্রাণ গ্রহীতারা সুন্দরভাবে এক একটা বক্সে স্যান্ডেল রেখে এসে কয়েকজনক মিলে বেলতলায় বসে বিঁড়ি ফুঁকছে। অনেক ক্ষেত্রে একই সিগারেট কয়েকজন মিলেও টানছে। এরপর ত্রাণ দেয়া শুরু হলে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকলেই নো চিন্তা ডু ফুর্তি।
 
একজন ব্যাংকার বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে। চেইন শপে বাজারের ব্যাগ হিসেবে দেয়া কাপড়ের তৈরি মাস্ক থুতনিতে ঠেকিয়ে, হাতে পরা গ্লাভসের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে ঘাম চেক করতে করতে হঠাৎ করে নাক চুলকে, চোখ চুলকে সে ব্যাংকে ঢুকছে। তারপর সুন্দরভাবে নিরাপদ দূরত্বে বসে অফিস করছে। একইভাবে মানুষ দলবেঁধে দাঁড়িয়ে থাকছে, গল্পগুজবগেঞ্জাম শেষে টাইম হলে উপযুক্ত দূরত্বে দাঁড়িয়ে টাকা তুলে কিংবা জমা দিয়ে ঘরে ফিরছে। পিপিইর নামে রেইনকোর্ট পরে ঘামতে থাকা ক্যাশের কর্মচারী-কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে সেগুলো খুলে একটু করে ফ্যানের বাতাস খেয়ে আবার ঐটাই পরে হাঁসফাঁস করে কাজে মন দিচ্ছে। মনে সুখে টাকা গুণে, চেক দেখে টাকা দিচ্ছে কিংবা ভাউচার মিলিয়ে টাকা জমা নিচ্ছে। যাই বলেন টেনশন করার কিছুই নাই এখানে অবিশ্বাস্যভাবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে।
 
ব্যাংকের ওয়ার্কিং আওয়ার কমে যাওয়ায় বাইরে থেকে ঠেলাঠেলি বেড়েছে প্রতিটি এটিএম বুথে। বাইরে থেকে বাহুবলী টু মুভির ভাল্লালদেবা স্টাইলে ঢুকে ভেতরে গিয়ে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। তারপর একই বাটন টিপে, সুন্দরভাবে থুতু দিয়ে টাকা গুণে, নাকের ভেতরে আঙ্‌গুল দিয়ে তা বের করে চোখ কচলাতে কচলাতে বের হচ্ছে কেউ কেউ। তবে চিন্তার কি আছে, তিন ফুট দূরত্ব কিন্তু থাকছেই।
 
থুতনিতে গেঞ্জির কাপড়ে তৈরি অন্তর্বাসসাদৃশ্যের ঐতিহাসিক মাস্ক লাগিয়ে রাস্তার মোড়ে আড্ডা ঠিকই চলছে। সেনাবাহিনীর টহল কিংবা আক্রমণউন্মুখ পুলিশের ভ্যান দেখলে টুপ করে গলির মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে কেউ কেউ। আর যারা রাস্তায় সরাসরি আছে তারা থুতনি থেকে মাস্ক টেনে তুলছে নাক অবধি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ লক্কড়মার্কা মাইক্রোবাসে ট্রাকে গরু তোলার মতো ঠেসে ভরে এমপ্লয়িদের অফিসে আনছে। তারপর কোনো ভয়ের কিছু নাই সবাই নিরাপদ দূরত্বে কাজ করছে।
 
ব্যাংকার, পুলিশ আর ডাক্তারদের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সির কথা আরও ভয়াবহ। তারা ঠেলেঠুলে একটা লেগুনা টাইপ গাড়ি থেকে নিরাপত্তা রক্ষীদের কর্মস্থলের কাছাকাছি নামিয়ে দিচ্ছে। তারপর তারা লক ডাউনের শহরে নানা স্থানে সুন্দরভাবে বক ডাউন হয়ে পাহারা দিয়ে বেড়াচ্ছে।
 
পুরো ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানের মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার দিনগুলোতে খাচ্ছেদাচ্ছে, উঠছে, বসছে, দাঁড়াচ্ছে কিংবা কিছু একটা দাঁড় করাচ্ছে। তারপর তাদের পরিত্যক্ত খাবারের মধ্যে ফলের খোসা থেকে মাংসের হাড্ডি, ব্যবহৃত প্যাম্পাস থেকে শুরু করে কনডম এর সবই সরাচ্ছেন বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের নামমাত্র বেতনে কিংবা দিনভাতায় কাজ করা পরিচ্ছন্নতাকর্মী ভাইবোনেরা। উনারা ময়লার গন্ধে দূরে দূরে থাকছেন, এখানে কিছু না হোক সোস্যাল ডিসট্যান্সিং তো অক্ষুন্ন থাকছে।

এবার যদি বলেন বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়ায় ক্যান? তাইলে হয় এই ভাইরাস ছোটলোক, নয়তো আপনি পাবনা মেন্টালে চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই শিকল ছিঁড়ে ওয়াল টপকে পালিয়েছেন। আসুন আপনাকে কান ধরে নিয়ে গিয়ে আপনার উপযুক্ত ঠিকানায় পৌঁছে দিয়ে আসি।

(Visited 37 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *