এহেন বিজ্ঞানশিক্ষা প্রজন্মকে কোথায় নিয়ে যাবে?

বিজ্ঞানশিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে তর্ক-বিতর্ক এবং উচ্ছাস-আস্ফালন রয়েছে ঢের। শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা নির্ধারণী মানদণ্ডে মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই একটা এলিট এলিট ভাব চলে আসে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবু তাদের পাঠ্যপুস্তকে যদি এমন ভুল শিক্ষাদান চলতে থাকে তবে তার সীমা পরিসীমা নির্ধারণটা কে করবে?

বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা অনুষদে ভর্তিহেতু উচ্চ-মাধ্যমিকের পর আর বিজ্ঞান পড়া হয়নি। অনেকে আছেন হয়তো তাঁদের মাধ্যমিক পর্যায়েই বিজ্ঞানপাঠ ছেড়ে দিতে হয়েছে। কিন্ত আমাদের মতো এমন স্বল্প বিজ্ঞানজ্ঞান রাখা মানুষও জানেন ফিটকিরির সংকেত যাই হোক সেটার কেলাসিত হওয়ার জন্য কয়েক অণু পানি থাকবে। আর সে হিসেবে খটখটা শুকনা কপার সালফেট আর যাই হোক ফিটকিরি নয়। 
অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করছি দেশবরেণ্য বিজ্ঞানীরা ( অধ্যাপক ড. শাহজাহান তপন, অধ্যাপক ড. সফিউর রহমান, ড. এস এম হাফিজুর রহমান, ড. মো. আব্দুল খালেক) আমাদের শেখাচ্ছেন ফিটকিরি আর কপার সালফেট নাকি একই জিনিস। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত ২০১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত ‘বিজ্ঞান’ বইয়ের ১৬১ নং পৃষ্ঠাতে তাঁরা লিখেছেন জীবানুনাশক হিসেবে আমরা যে তুঁতে বা ফিটকিরি (CuSo4) ব্যবহার করি, সেগুলোও লবণ। যদি তাই হয় আমার প্রশ্ন ফিটকিরি যদি (CuSo4) তাহলে KAl(SO4)2,12H2O জিনিসটা কি? তারথেকেও বড় প্রশ্ন এর মধ্যে যদি পানি না থাকে তাইলে স্ফটিক কেমনে হবে?
আমরা অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে দেশবরেণ্য শিক্ষক যাঁরা এটা লিখেছেন তাড়াহুড়োয় উনাদের দৃষ্টি এড়াতে পারে। তাই বলে সম্পাদক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মো.আজিজুর রহমান। শুধু কি তাই বইয়ের লেখকদের উপরে আরও গুরুত্ব দিয়ে লেখা হয়েছে ‘সহজপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করার জন্য পরিমার্জিত সংস্করণে সংযোজন, পরিববর্ধন, পুনর্লিখন ও সম্পাদন ‘ করেছেন নন্দিত অধ্যাপক, বিশিষ্ট সায়েন্স ফিকশন অনুবাদক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ স্যারের মতো বিজ্ঞানী।
ইতিহাস বিষয়ে তথ্য বিচ্যুতির অপ্রমাণিত অভিযোগের কারণে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণিত শিক্ষক বছরের পর ভোগান্তির শিকার। লজ্জা ও পরিতাপের বিষয় জনৈক পরিসংখ্যানের শিক্ষক অবাস্তব অভিযোগের দায় নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। শুধুমাত্র কমিটির সদস্য হিসেবে নির্ধারিত মিটিং এ উপস্থিত থাকার কারণে মার্কেটিং, গণিত, ইসলামিক স্টাডিজ, দর্শন ও পরিসংখ্যান বিষয়ের শিক্ষকরা অবাস্তব সাজাপ্রাপ্ত। কিন্ত আজ বিজ্ঞান বইয়ের এই ধরণের আজব-গজব ভুলগুলো নিয়ে কেউ কথা বলে না।
তাইতো অনেক আক্ষেপ নিয়ে এক সময়ের কৃষি বিজ্ঞানী ও পরবর্তীকালে বিচারবিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত Sudipta Das তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন (নবম-দশম শ্রেনীর সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ের ১৬১ নং পৃষ্ঠায় ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত CuSo4 লেখা আছে। (পুনর্মুদ্রণ-২০১৮, প্রথম প্রকাশ, ২০১২). বইটির সম্পাদনায় স্বনামধন্য বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের নাম রয়েছে। আমাদের সন্তানরা এই পুস্তক হইতে কি শিখিবে????) সুদীপ্ত দাসের মতো এই দুশ্চিন্তা আরও অনেক অভিভাবকের। কিন্ত কর্তৃপক্ষ তাদের বইয়ের নতুন সংস্করণেও এ ভুল সংশোধন করেনি।

 

ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখিত আক্ষেপ
(Visited 158 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *