প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসের ছ্যাচড়া আলাপ

ধর্মদ্রোহ এবং অবিশ্বাসের নাম দিয়ে গড়ে ওঠা সবথেকে কট্টরপন্থী, উগ্রবাদী এবং মৌলবাদী ধর্মের নাম বিবর্তনবাদ। শুধু ধর্মগ্রন্থ নাই বলে পাঁঠার মতো তারা বিশ্বাস করে বিভিন্ন পিথেকাসের হাড়হাড্ডিতে। সেই সঙ্গে এখানকার মৃৎপাত্র ওখানকার পাথরের টুক্রা লৈয়া শুরু হয় হাড্ডাহাড্ডি বচসা।
অন্য যে কোনো ধর্মের মানুষ কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতার কাছাকাছি থাকায় তারা হাত এবং হাতিয়ার ব্যবহার করে একে অন্যকে আক্রমণ করে। যেমন ইজরাইল কোপাচ্ছে ফিলিস্তিনকে, ইউরোপের সবদেশ কমবেশি কোপায় আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে।
ওদিকে আমেরিকা কোপাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশকে। কিংবা ভারত কোপাচ্ছে আমাদের। এমনকি গ্রিনল্যান্ডের মতো অত্তবড় একখান দেশকে নেংটি ইঁদুরের মতো চেটেপুটে খাচ্ছে ডেনমার্ক। আর এদিকে বিবর্তন ধার্মিকদের রাষ্ট্রক্ষমতা নাই আছে চাপার জোর। এরা মুখখিস্তি করে কোপাচ্ছে এরে ওরে।
সাধারণ ধার্মিকরা অল্প পড়ে বেশি শুনে কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে কল্পনা করে তাঁর বিশ্বাসকে পোক্ত করেন। ওদিকে বিবর্তনবাদীদের একটা সুবিধা তারা কেউ কেউ পড়ালেখা করেন। কিন্ত গরীরের বিবর্তনবাদী তথা সেকুল্যাঙ্গার ধড়িবাজদের গরিবী সেকুল্যারিজম পা পিছলে বার বার পড়ে যায় ইসলামোফোবিয়ার খাদে। এখান থেকে উঠতে গেলে কারও একট হাত দর্কার, সেটাই তারা খুঁজে পায় না।
ইহুদিবাদী ইতিহাসবিদ Yuval Noah Harari তার গ্রন্থে সোলজার অব আল্লাহ এবং সোলজার অব জেসাসের লড়াই নিয়ে অনেক ক্যাঁকু ক্যাঁকু করেছেন। কিন্ত তার বনি ইসরাইলের ইহুদি জ্ঞাতি ভাই নেহেমিয়া অল্পদিনের খ্যামতা পাইয়া পুরো একটা জনপদকে খেলে দিয়েছিল সেইটা তার লেখায় উল্লেখ নাই, থাকার কথাও না অন্ততপক্ষে।
মহান পি. কে হিট্টি সাপ একইভাবে কত সত্য কথা কৈলেন। কিন্ত তাঁর জ্ঞাতি ভাইরা ক্রুসেডের নামে সিরিয়ার মাআরা আল নুমানে মুসলিম আর ইহুদীদের হত্যার পর তাদের গতরের গোস্ত কাইট্যা বিক্রি করল সেটা লিখতে বেমালুম ভুইল্যা গেছেন।
মহান রেনহার্ট ডোজি, আপনারেও কত্ত সময় নিয়া পড়লাম। আপনি আরেক জিনিস মাইরি। ভাবতেছি আপনাদের সবার সঙ্গে সংলাপ আমারে কিছু গপ্পসপ্প লিখবো। কতদিন পর সেটা প্রকাশ করব জানি না, তবে লিখবো ইনশাআল্লাহ। যাই হোক লিখ্যা কি লাভ“!!! আমি একজন বিশ্বাসী মুসলিম। আমিও অবশ্যই বায়াসড থাকব, কিন্ত সেই বায়াসনেস থেকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টাটা তো থাকা চাই। যদি থাকে সেটাই আলহামদুলিল্লাহ।
একজন ইহুদিবাদী ইতিহাসবিদ হারারি, কিন্ত তার বিশ্লেষণ না হোক তথ্য উচ্চারণে সততা ছিল। একজন খ্রিস্টান ইতিহাসবিদ ডোজি কিংবা গিবন কিংবা হিট্টি ভাই, উনারা ক্রুসেডকে চামে চিকনে মহান দ্যাখাইছেন। এখানে উনাদের সততা ছিল। যাই হোক সৈদ আমেড়ালির মতো ব্রিটিশ প্রভুর কাছে মস্তিষ্ক বর্গা দিয়ে তো আর ইতিহাস লিখতে বসেন্নি।
ঠিক যেভাবে রমেশচন্দ্র মজুমদার কিংবা গোলাম আহম্মদ মোর্তাজা সাহেব উনারা যতটা না ইতিহাস লিখেছেন তার থেকে ঢের হিন্দুত্ববাদ আর ইসলাম নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। এটা উনাদের মধ্যে মোর্তাজা সাহেব সরাসরি বলেই দিয়েছেন। কিন্ত রমেশ সাহেব বলেন নাই, সেটা অসাধুতা। ঠিক যেমন আমাদের দীপেশ দা, পার্থ দা কিংবা শহিদ আমিন ভাইয়ের লিখছেন, সাহস করে বলেও দিচ্ছেন।
অক্সফোর্ডের শেরুড মহাবিদ্যালয়ের মহাজ্ঞানী জ্ঞানেন্দ্র পাণ্ডে তাঁর বিশ্বখ্যাত (A History of Prejudice: Race, Caste, and Difference in India
and the United States) নানা ব্যাপার নিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্ত গায়ত্রীর সহজ প্রশ্ন সাবঅলটার্নের জিহ্বা কি খাওন দাওন বাদে অন্য কুনো কামে লাগে? সেই প্রশ্নের উত্তর নাই তাঁর কাছেও।
আসলেই তো সাব-অলটার্ন কি আসলেই কিছু কৈতে পারে? যদি পারে তার সীমারেখা কদ্দুর? এই ধরেন আমি এই উপরের কথাগুলো লিখলাম এরজন্য কথিত ইতিহাসের মালমসলা যারা বেচাবিক্রি কৈরা ঘরসংসার চালান তাদের কতটা দুক্কু হয়।
আমি শতভাগ নিশ্চিত এর কেউ এর একাডেমিক সমালোচনা করতেই আসবেন্না। আর যদি পারেন পেছন থেকে গালি দেবেন বলবেন. বেয়াদ্দপ মানুষ হইলো না। এইজন্য ওর জাহাঙ্গীরনগরে চাকরি হয় নাই। তার থেকে বড় কথা বিশ্ব ইতিহাস বাদ্দিয়া উনাদের দৌড় আমার ব্যাদ্দুপির ইতিহাস পর্যন্তই। তাইলে আসলেই তো গায়ত্রী ঠিক্কৈছে!! সাবঅলটার্নের জিহ্বা শুধু খাওন দাওনের মৈদ্দেই থাকে। কথা কয় না।
প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসের ছ্যাচড়া আলাপ করতে গিয়ে দেখেন এমন অনেক কথা ফুটে উঠবে। আমরা সাদা আর গেরুয়া নিয়ে গরুর মতো মারামারি করে গেলাম। ওরা পুরো ভারতবর্ষের দই মেরে ভাঁড় ফেলে রেখে গেল। সেই সঙ্গে সৈদ আমেড়ালি, রাম্মোহোন, নউবাব্দুল্লতিফ, এশ্বড়ছন্দ এদের রাইখ্যা গেল। ওদের ঘ্যানঘ্যানানি প্যানপ্যানানি আর ব্রিটিশদের পক্ষে দালালিকে আমর ইতিহাস বইলা জানলাম। সেই সঙ্গে হিন্দু মুসরিম ইউটোপিয়ার কামড়া-কামড়াকামড়ি কইরা গেলাম।

কিন্ত কথিত রেনেসাঁর নামে ব্রিটিশ প্রভুদের পা-পাটা দোপেয়ে কুকুরগুলো আমাদের কি সর্বনাশ করে গেছে তা কস্মিনকালেও আমরা বোঝার চেষ্টা করিনি। উল্টো ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের শিশুরা ঐসব দেশদ্রোহী ব্রিটিশতোষক খচ্চরদের সম্পর্কে জানে উল্টোটা। ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছে নামে, কিন্ত শিক্ষাব্যবস্থা এখনও ম্যাকুলের মিনিট অব এডুকেশন থেকে বের হতে পারেনি। থুহ!!
Shashi Tharoor কিংবা গোলাম আহমদ মোর্তাজার মতো লেখক দরকার। যারা কিছু না করুক ব্রিটিশদের বিরোধিতা করতে পারে। কিছুই ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া অচলায়তন ভাঙ্গাটা জরুরি। এর বেশি কিছু না। এদের সবকিছু ছারখার হলেও হয়ে যাক। তবুও ব্রিটিশদের যা কিছু সবথেকে ভাল আমাদের নিকৃষ্টও তার থেকে ভাল এমন নীতি নেওয়া দরকার।
কিন্ত আমরা করছি তার উল্টো। আর করবো না কেনো ঘি মাংস খাওয়া ইতিহাসের শিক্ষকরা কখনও এটা বুঝতে চাইবেন্না। তারা আছে কমনওয়েলথ স্কলার্শিপের ধান্দায়। যেখানে শশী থারুর ইংল্যান্ডে গিয়ে ব্রিটিশদের চোখে চোখ রেখে বলে আসে তুই ব্রিটিশ, তুই চোর। সেখানে ভারতবর্ষ, বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে পড়ে থাকা ফকিন্নিরা একটা স্কলার্শিপের লোভে ব্রিটিশদের বিপক্ষে কথা বলতে পারে না।
Llewellyn-Jones Rosie এর লেখা The Last King in India: Wajid Ali Shah, 1822-1887 বইখানা পড়া শেষ করলাম। দুর্বিসহ একটা চিন্তাবৈকল্য নিয়ে। মনে মনে ভাবছি এও দেখার ছিল আমাদের। আমরা এসব নিয়ে কথা না বলে নিজেদের মধ্যে কামড়া কামড়ি করে মরছি কেনো? কোন স্বার্থ হাছিল হচ্ছে এতে>>
(Visited 27 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *