পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের এপিঠ-ওপিঠ

ইতিহাসের লোক হয়ে খুব সম্ভবত আরেকবার ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছেন মমতা ব্যনার্জি। খুব সম্ভবত উনি পড়ালেখা করেছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে। উনার লেখা কিছু উদ্ভট কবিতার কথা বাদ দিলে, বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের স্বার্থের কথাটা বাদ দিয়ে একজন কলকাতা তথা বাংলাবাসী হিসেবে ভাবলে ওদের জন্য মমতার বিকল্প ছিল না, এখনও নাই ভবিষ্যতে পাওয়া কঠিন হবে।
আমাদের পানি দেয়নি সেটা আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অদূরদর্শীতা কিংবা নিছক দুর্ভাগ্য। কিন্ত সে পশ্চিম বাংলার মানুষের জন্য ঠিক তাই করেছে যা একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়কের পক্ষে করা জরুরি। তার থেকেও বড় কথা ধর্মীয় উগ্রবাদ ঠেকাতে বাংলায় মমতার বিকল্প দ্বিতীয় কোনো শক্তি ছিল না।
এনআরসি নামক জিঘাংসার পর থেকৈ এই নির্বাচন যে কেবল ভারতের একটা রাজ্যের নির্বাচন নয়। পশ্চিম বাংলার প্রায় সমান স্বরে উচ্চারিত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। এমনকি বাংলাদেশের খ্যালা হবে শীর্ষক ডায়লগ নকল করে প্রচারণাও চলেছে ওখানে।
ভয়ানক প্রশ্ন ছিল ভারতীয় উগ্র জাতীয়তাবাদ মতান্তরে উগ্র হিন্দুত্ববাদ বনাম সেকুলারিজমের লড়াইয়ে। তার থেকে বড়কথা সর্বভারতীয় নেতারা দিনের পর দিন চাড্ডি গিলি করে সপ্তায় সপ্তাহ বাংলায় এসেছেন। উনারা কেনো চেষ্টা বাকি রাখেন নাই শেষ অবধি। এমনকি অনেক বিশ্লেষক দাবি করছেন ভারতে ভয়াবহ করোনা ছড়ানোর পেছনেও এই উদ্ভট নির্বাচনের ভূমিকা অনেক।
খোদ মমতা ব্যানর্জি দাবি করেছেন বাইরে থেকে পুলিশ এসেছে তারা করোনা বয়ে এনেছে বাংলায়। এর বাইরে কুম্ভমেলার মতো অনেক ধর্মনির্ভর রাজনৈতিক আচরানুষ্ঠান ছিল । সেগুলো বাংলাকে শুইয়ের দেওয়ার জন্যই প্ল্যান করা। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ। জিততে যাচ্ছেন মমতা ব্যানার্জিই। অনেক শয়তান সাংবাদিক বলেছে বাংলাদেশীরা বর্ডার ক্রস করে ভারতে যায় তৃণমূলকে ভোট দিতে। এর থেকেই বোঝা যায় তৃণমূলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কতটা।
বাংলা কিংবা বাংলাদেশ দুইখানেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে উগ্র ডানপন্থার জায়গা খুব বেশি নয়। তবে সারা দুনিয়ার মতো দুই বাংলায় উগ্র ডানপন্থার যে উত্থান সেটা মানুষকে বেশিদিন শান্তিতে থাকতে দেবে না। অনেকে বলেছে মমতা জিতলে তিস্তার পানি পাবো না। আমার প্রশ্ন এবং সম্ভাব্য উত্তর দুটো হচ্ছে মমতা হারলেও পানি দূরে থাক একবিন্দু গোমূত্র পাওয়ার সুযোগও ছিল না আপনাদের জন্য।
অন্যদিকে দুই বাংলায় বামপন্থার প্রমোদ বালক-বালিকারা দুটো কুকর্ম করছে। প্রথমত ধর্মীয় সেকুলারিজমের নামে গরীবের সেকুলারিজম হিসেবে ইসলামোফোবিয়া প্রচার। অন্যদিকে নারী অধিকারের নামে পুরুষবিদ্বেষ ছড়িয়ে মানুষের সংসার ভাঙ্গা। এই দ্বিমুখী শয়তানি বন্ধ হলে বাংলাদেশ এবং বাংলা ভারতবর্ষের যে কোনো এলাকা তো বটেই পৃথিবীতেও অনেক ভাল অবস্থানে থাকবে।
নির্বাচন যার যার নটাঙ্কি সবার। খুব সম্ভবত ওয়েব সিরিজের উত্থানের যুগে গতায়ু ফিল্প ইন্ডাস্ট্রির কেউ আর বাদ যায়নি এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে। জনগণের দুর্ভাগ্য তারা এক নটাঙ্কিকে বাদ দিয়ে অন্য যাকে নির্বাচন করবেন তারা হয় গাতক, নর্তক নয়তো বাদক। আর এটাই এবারের সবথেকে বড় ট্র্যাজেডি।
টালিউডের অভিনেতা অভিনেত্রী থেকে শুরু করে বি-গ্রেড ফিল্মের কুশীলব এমনকি উলঙ্গ-উদ্ভট ওয়েব সিরিজের পর্দা উত্তপ্তকরণে নিয়োজিত পুং-জেনানাপাল এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
পায়েল, পার্নো, স্বস্তিকা শ্রাবন্তী, সায়নী, নুসরত থেকে শুরু করে এমন কোনো অভিনেত্রী কিংবা অভিনেতা বাদ যায়নি। শুধু বাংলাদেশের জয়া আহসান, শাকিব খান আর নুসরত ফারিয়ার যদি ভারতের নাগরিকত্ব থাকতো তারাও খুব সম্ভবত এবার মনোনয়ন পেতো।
আমার এক সময়ের প্রিয় সংগীত শিল্পী পরবর্তীকালে মৌলবাদী হিন্দু নেতা বনে যাওয়া বাবুল সুপ্রিয় টালিগঞ্জে কি করেছেন সেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ওদিকে সিংহভাগ চলচ্চিত্রে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত আর ধর্ষিতার চরিত্রে অভিনয় করে মানুষের অশ্রু ঝরিয়েছেন লকেট লকেট চট্টপাধ্যায়। এবার নিঃসন্দেহে তিনি চুচুড়ার মানুষের চোখের জল ঝরানোর অদূরদর্শী সব সিদ্ধান্তে।
করোনায় ধুঁকতে থাকা একটা আসনে জিতেছেন অভিনেত্রী নুসরত জাহান। সেখানে হাসপাতালে বেড কিংবা অক্সিজেন সিলিন্ডার দুটো জিনিসের জন্যই ধুঁকছে মানুষ। ওদিকে নটাঙ্কি নুররত তার মরা বেড়ালের পিন্ডি দিয়ে বেড়াচ্ছে। মানুষ মরছে কি বাঁচলো সেদিকে তার খেয়াল নাই। সুতরাং তৃণমূল কিংবা বিজেপি যেই ক্ষমতায় আসুক নটাঙ্কিময় একটা সংসদ যে দেখতে হবে তার বলার অপেক্ষা রাখে না।
(Visited 15 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *