সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর হাত্তিন যুদ্ধের কিছু গল্প ও ইতিহাস

শুধুমাত্র ধর্মবিদ্বেষ নয় ধর্মব্যবসা চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যেই মাদারটোস্ট পোপ আরবান মতান্তরে উর্বান ঘোষণা দিয়েছিল ক্রুসেডের। আজ সেই ৪ জুলাই। ইতিহাসের বাঁক বদলকারীর বিখ্যাত হাত্তিন যুদ্ধের দিন। এদিন সমগ্র ইউরোপ থেকে জেরুজালেম অভিমুখে হামলে পড়া হাভাতে নরখোক্কস ক্রুসেডারদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুসলিম বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সালাহউদ্দিন আইয়ুব।
গাই অব লুসিগনান, ত্রিপলির তৃতীয় রেমন্ড, ইবেলিনের বেলিয়ান, গেরোদ দ্য রিডফোর্ড‌, শাটিলনের শ্লার্পুত রেনল্ড, গার্নিয়ের দ্য নাবলুস, হাম্পফ্রে ফোর্থ কিংবা আইমেরি অফ লুসিগনান যখন লুলুলু করে এগিয়ে আসতে শুরু করে। সুলতান সালাউদ্দিনও প্রস্তুত ছিলেন। তিনি বললেন আহো ভাতিজা আহো!! বিচি দুইখান ঠিক জায়গায় থাকলে দাপাইতে দাপাইতে হাত্তিতে আহো।
উরিব্বাস!!! কাহিনী এইটুকু হইলেই হৈতো। রানী সাইবিলার পাঁচ নম্বর পোলা বল্ডুইন পটল তোলে ১১৮৬ সালে। তার স্বামী লুসিগনানের গাই গরুর মতো চাড়িতে মুখ দেয়। উত্তরাধিকার সূত্রে সেই জেরুজালেমের রাজা নির্বাচিত হয়। সে সময় জেরুজালেম রাজ্য গাই ও সাইবিলার হাতে পড়ে।
উল্টাদিকে উষ্টা খাওয়া শ্যাটিলনের রেনল্ডের বসে থাকার চান্স কম। রাইডফোর্টের গেরোদ এবং তার চামচা কিছু নাইট টেম্পলার চান্স মতো খেঁউ করে ওঠে। ওদের নেতৃত্বে একটা বাহিনী তৈরি হয়। তের্পলির তৃতীয় রেমন্ডের নেতৃত্বে অভিজাতদের আরেকপাল সৈন্য এসে হাজির হয়।
তারা ঘেউ করে ওঠে। বলে চার্পাশে এত্তগুলান বলদ থাকতে গাইয়ের রাজা হওন লাগতো ক্যা!! ত্রিপোলির তৃতীয় রেমন্ড খ্যাঁক করে বলে ঐ ফইন্নির পুত শিশু রাজা পঞ্চম বল্ডুইন পটল তোলার পর এত্তগুলান ঢ্যাঁমনা ঢ্যাঁড়ষ থাকতে গাইয়ের রাজা হওয়ার দর্কার কি। সব গাই যেমন দুধ দেয় না, এই শ্লার্পুতেরো রাজা হৈয়াকামকি?
লুসিগননের গাইয়ের আত্মসমর্পণ
বঙ্গদেশে মাঠে বাঁধা গাই দেখলে ষাঁড়েরা শুধু তাইড়া গিয়া পিঠে ওঠে এমনটা নয়। ঐ সময় রেমন্ডও ছাইড়া কথা কয় নাই। সেও পারলে ফাল দিয়া গাইয়ের পিঠে উইঠ্যা পড়ার চেষ্টা করছিল। ইতিহাসের ব্যাপারিরা কয় এই গাই আর বলদ থুককু গাই আর রেনলদের মইদ্দে যুদ্দু বাইদ্যা যাওনের দশা হেইছিল।
বলদের তথা রেনলদের দাবড়ানি খায়া রাজা গাই তাইব্রিজ অবরোধ করতে চাইছিল। যাই হোক ষাঁড় বলদের ঢিষাঢিসি যতোই চলুক ১১৭৭ সালে মোন্টগিসারদের যুদ্ধে ক্রুসেডাররা সালাহউদ্দিনকে জাতমতো ঘাড়ানি দেয়। বেচারা এতোবড় যোদ্ধা হলেও মাইরের উপ্রে বড় ওষুধ নাই এটা মাইন্যা নিতে বাধ্য হয়েছিল।
নানারকম চুক্তিসহ এবার যুদ্ধবিরতির গল্প শোনা গেলেও তা আদতে ইজরাইল ফিলিস্তিন অস্ত্রবিরতির মতো কাহিনী হয়। যুদ্ধবিরতি থাকলেও চান্স পাইয়া মুসলিম কাফেলাকে খাইয়া দেওয়ার চেষ্টা করে রেনলদের বাহিনী। তখনকার দিনে সালাহউদ্দিনের মতো লোকজন কম ছিল না। তাঁরা যাই হোক মাহমুদ আব্বাসের মতো জাতিসংঘের গাবগাছে বৈসা বিড়ি ফুঁকার বান্দা না। কিংবা ইয়াসির আরাফাতের মতো সুহার কোলে বইয়া কান্দার মানুষও না তারা।
রেনলদের আক্রমণের পরপর তারাও প্রস্তুতি নেয় কেমনে রেনলদের পেছন দিকে রেললাইনের স্লিপার ভইরা দেওয়া যায়। যুদ্ধবিরতি ভাইঙ্গা যাওনের পর রেনল্ড আরও গুবলেট করে। সে মক্কায় আক্রমণ চালানোর হুমকিও দেয়। তবে রেনলদের জন্য আছোলা বাঁশ নিয়া হাজির হয় ১১৮৪ সালের দিকে করা একটা সন্ধিচুক্তি। সালাহউদ্দিনের সঙ্গে করা এ সন্ধি ঐ সময় গাই, বালিয়ানসহ আরও অনেকের অবস্থা চিংড়ি মাছের মতো করে। ইয়ে মানে তাদের মলাশয় থেকে গু মাথায় ওঠে।
১১৮৩ সালে জেরুজালেমের রাজা লুসিগনানের গাইয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি ছিল খ্রিস্টানদের জন্য অন্ধের হাতের লাঠির মতো। সালাউদ্দিনের জন্য সৌভাগ্য এবং খ্রিস্টানদের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনে রেনলদ। এই বেটা নিজেরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর থেকেও ভাল খেলোয়াড় মনে করেছিল। সে ১১৮৭ সালে এ চুক্তি ভঙ্গ করে মুসলিম কাফেলার ওপর আক্রমণ চালায়। গাছে ওঠার পরেও বিলাইয়ের বাঁচার চান্স ছিল। কিন্ত সালাহউদ্দিন তার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে উল্টা হুমকি ধামকি দিতে থাকে।
এবার লাও ঠেলা। মারামারা যখন বাধাইছো নিজের পেছন দিকে ঢোকা আইক্কাসহ বাঁশ নিজেরই বাইর কৈত্তাইবে। ১১৮৭ সালের পহেলা মে শুক্রবার। সেন্ট ফিলিপ ও সেন্ট জেমসের স্মরণে পেটভর্তি খাওয়ার আর গলা অবধি মদ গেলা শ্যাষ। মাতলামোর মধ্যেই কি না বলা কঠিন খ্রিস্টানদের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করা হয় রেমন্ডকে। এরে রেনলদ ভাইব্যা ভুল কৈরেন্না। এটা অন্য মাল।
এই বেটা রেমন্ড জেরুজালেমের রাজা গাইয়ের পিঠে ষাঁড়ের মতো ফাল দিয়া ওঠার চেষ্টা করে। কি আক্কেল তার!! সে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করে। ১১৮৬ সালের শেষদিকে আইউবীয় সৈন্যবাহিনী রেনলদের জমিদারি তাইব্রিজ থেকে প্রতিশোধ নিতে চেষ্টা করে। রেনলদের সৈন্যরা তখন সিরিয়া থেকে মিসর অভিমুখী বণিক ও যাত্রীদের ওপর আবারও হামলা করে। ফলে তার জন্য মাইর খাওয়ার বাইরে অন্য কোনো রাস্তা খোলা ছিল না।
বার বার হুমকি দিলেও রেনলদ সেটাকে গণ্ডারের কাতুকুতু মনে করে চুপ থাকে। উল্টোপাল্টা কাজও বন্ধ করেনি সে। ১১৮৭ সালে মিসর অভিমুখে একটি ধনী মুসলিম কাফেলার ওপর সে আবারও আক্রমণ চালায়। ওদিকে ভয়ে গু মাথায় ওঠে রাজা গাইয়ের। সালাহউদ্দিনের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে রাজা গাই লুণ্ঠিত মালামাল প্রত্যর্পণে রেনলদ নির্দেশ দেয়।
বয়রা রেনলদ এ কথা শুনতে পায়নি। সে উল্টা হুমকি দেয় খ্যামতা থাকলে আয় সালউদ্দিন। তরে এত্ত গুল্লি করুম যে তোর আইয়ুবীয় গোষ্ঠী গুলির খোসা বেইচ্চা বড়লোক হয়া যাবি। মারাত্মক বিপদ আঁচ করতে পেরে ত্রিপোলির কাউন্ট তৃতীয় রেমন্ড এবার জামার হাতা আর প্যান্টের পায়া গুটাতে শুরু করে। সে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে গেঞ্জাম লাগাইয়া জেরুজালেমের রাজা গাইয়ের সঙ্গে মিলিত হয়। ঐ এলাকার খিস্টানরাও খুশি হয়া কয় ‘আহো ভাতিজা আহো!
মাইরের তো কেবল শুরু। সালাউদ্দিন ঘাড়ানি দেওয়ার শুরুটা করেন তাইব্রিজ অবরোধের মধ্য দিয়ে। মে মাসের শেষদিকে সালাহউদ্দিন একটি বিশাল সৈন্যবাহিনীর সমাবেশ ঘটান। তার বাহিনীতে ছিল ১২ হাজার নিয়মিত অশ্বারোহীসহ ৩০ হাজার সৈন্য। ৩০ জুন জর্দান নদী অতিক্রম করে। তেল-আশতারায় তার সৈন্যদের দেখে তিনি বুঝতে পারেন এটাই রেনলদের তেল বাইর করার জন্য যথেষ্ঠ।
ক্রুসেডারদের জন্য বড় ঘাড়ানি অপেক্ষা করছে এটা বোঝা যায় ১১৮৭ সালের ২৬ জুন শুক্রবার। ঐদিন গালিলি হ্রদ বা তাইব্রিজের ৬ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে কাফার সাবায় হাত্তিন পাহাড়ে সৈন্য নিয়ে এগিয়ে যান সালাউদ্দিন। তিনি যথারীতি তার সৈন্যবাহিনীকে ডান, বাম, অগ্র ও পশ্চাৎ এ চারটি ভাগে ভাগ করেন। তকি আল-দীন ও গোকবুরি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন দুই পাশের এবং সালাহউদ্দিন মধ্যভাগের।
১১৮৭ সালের পহেলা জুলাই বুধবার তিনি রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ফ্রাঙ্কদের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। খেলা শুরু হয় ২ জুলাই ভোরে। সালাহউদ্দিন ক্রুসেডারদের আগে বাড়ার খবর পেয়ে ব্যক্তিগতভাবে তাইব্রিজে গিয়ে রেনলদের দুর্গ অবরোধে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে মূল মুসলিম বাহিনী অবস্থান করছিল কাফার সাবাতে। তাইব্রিজ দুর্গ সালাহউদ্দিনকে কর দিতে চেষ্টা করে। তিনি বলেন তোদের কর তোরা খা। কারণ তিনি বুঝে গিয়েছিলেন এদের জন্য মাইরের উপ্রে কোনো ওষুধ নাই।
২ জুলাই রাতে ক্রুসেডারদের আব্বজান যারা আছে সবাই বইসা অনেক প্যাকপ্যাক করে। পরে সিন্ধান্ত হয় গাই তার গোয়াল ছাইড়া বাইর হবে। কাউন্ট রেমন্ড তাইব্রিজ হ্রদের কাছে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলে গাইকে। ৩ জুলাই শুক্রবার ক্রুসেডার বাহিনী সাফারিয়া থেকে এগিয়ে যেতে থাকে। ১১৮৭ সালের ৪ জলাই দু’টি বাহিনী হাতিনের কয়েক মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে লুবিয়া গ্রামের কাছে মুখোমুখি হয়।
গাই মধ্যভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে রেমন্ড ছিলেন অগ্রবর্তী বাহিনীর কমান্ডে এবং বালিয়ান, রেনল্ড ও নাইটরা ছিল পশ্চাৎভাগে। ক্রুসেডারদের ওপর তৎক্ষণাৎ মুসলিম অশ্বারোহী সৈন্যরা আক্রমণ শুরু করে। তাদের আক্রমণে বালিয়ানের বহু নাইট সরাসরি পটল তোলে। অনেকেই অস্ত্র ফেলে দিয়ে মুসলিম বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বরাবরের বলদা আর শয়তান রেমন্ডের ৫ জন নাইট সালাহউদ্দিনের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তারা বলে চাচা আপন জান বাঁচা।
দুইদিন পিটাপিটি চলার পর রাজা গাই বুঝতে পারে গোয়ালে আর বেশি খড় নাই। এখন না খাইয়া শুঁটকি হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নাই। সে ভাবছিল রেমন্ড তার ইজ্জত বাঁচাতে ফুটা লুঙ্গির কাজ দেবে। গাইয়ের নির্দেশে সে আক্রমণ চালালেও সালাহউদ্দিনের ভাতিজা তকিউদ্দিন তাকে এমন প্যাদানি দেয যে মাইরের চোটে মামু মোরে মাফ কইরা দাও বইলা দৌড় দেয় সে। চারদিক থেকে দড়ি এসে গাইয়ের গলায় আটকে যায়। সে বুঝতে পারে আমার খেলা শ্যাষ।
শিশু কিংবা বুড়ো কাউরে ছাড়ে নাই পোপ আর্বানের চ্যালারা। তারা খেলা শুরু করে ইউরোপ থেকে। হামলে পড়ে জেরুজালেমের পানে। জালেমের মতো হত্যা করে হাজার লাখো মানুষকে। পরে যখন নিজেরা মাইরা খাওয়া শুরু করে তখন বোঝে কত গম কত পুকা। কিলিজ আরসালান প্রথম দিকে যে ঘাড়ানি তাদের দিয়েছিল তার তাণ্ডব অতটা ভয়াবহ ছিল না। এবার তারা বোঝে বাপেরও বাপ আছে আর তাকে সবাই দাদা বলে ডাকে। আর ক্রুসেডারদের জন্য বাপের নাম যদি হয় কিলিজ আরসালান তবে দাদার নাম সালাউদ্দিন আইয়্যুব।
সালাউদ্দিনের বাহিনী গাইয়ের রাজকীয় গোয়াল দখল করে। লড়াইয়ে আক্রার বিশপ মইরা ভূত হইলে তার হাতের খুঁটি তথা ট্রু ক্রসও কবজা করে মুসলিম সৈন্যরা। গাই, তার ভাই আমলরিক, ত্রিপোলির রেমন্ড, মোন্টফিরাতের পঞ্চম উইলিয়াম, গেরোদ দ্য রাইডফোর্ট, টুরনের চতুর্থ হাম্ফ্রি, জাবালার হিউ, ব্রাইটনের প্লিভেইন, জিবেলেটের হিউসহ আরও কত মাছ জালে আটকা পরে তার ঠিক নাই। তবে জালের ছিদ্র দিয়ে ফাল দেওয়া কই মাছের মতো ভেগে যায় হাজার তিনেক খ্রিস্টান সৈন্য।
যাইহোক গাইগরুকে খড় খেতে দেয় সালাউদ্দিন। কিন্ত বলদ রেনলদকে কোরবানি দিয়ে দেওয়া হয়। কারণ সালাউদ্দিন মনে করে এই বলদরে বাঁচাইয়া রাখলে কোনো কথা শুনবে না দড়ি ছাড়া পেলেই গিয়ে ক্ষেত খাবে। অন্য গরুছাগল, হাঁস মুরগি যে যেখানে ছিল সবগুলার একটা গতি করা হয়।
বেলা শেষে মেলা কাজ। ত্রিপোলির রেমন্ড তাইব্রিজ দুর্গে তার আটকে পড়া বউয়ের কথাও ভাবে নাই। হাড়ে হারামজাদা ফায়ারের মুখে পড়ে পালিয়ে যায় টায়ারে। তারপর আগস্টে ত্রিপোলিতে ফিরলেও যক্ষ্ময় শেষ রক্ষা হয়নি। ১১৮৭ সালের দিকে পটল তুলতে হয়েছিল তাকেও। টেম্পলার নাইট হিসাবে দাবি করা লোকগুলোর মধ্যে কৃতকর্ম বিচারে পালের গোদাদের মাফ করা হয়। বাকিগুলাকে ধরে ধরে কোরবানি করা হয়। কারণ এরা বিভিন্ন জনপদ আক্রমণ করে হত্যা, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের মতো কুকর্ম করেছিল। এরা শিশু ক্রুসেড থেকে শুরু করে মানুষের মাংস খাওয়ার মতো জঘন্য হিংস্রতায় যুক্ত ছিল।
যুদ্ধশেষে জেরুজালেমের রাজা গাইয়ের গলায় দড়ি দিয়ে দামেস্কের গোয়ালে নেওয়া হয়। হাত্তিনে এইরকম মাইর খাওয়ার পর জেরুজালেমের অবস্থা হয় কোমর ভাঙ্গা সাপের মতো। তারপর সহজেই দখলে এসেছিল শহরটি। এ যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার খবর পৌঁছায় পোপ তৃতীয় আরবান দ্য মাদারটোস্টের কানে। টায়ারের আর্চবিশপ জোসিয়াস এবং আরো কয়েকজন তীর্থযাত্রী হাত্তিনের মাইর খাওয়ার সংবাদ নিয়ে যায় ইউরোপে। কষ্ট সইতে না পেরে বাংলা মুভির প্রবীর মিত্রের দশা হয় আরবানের। সে একবার বুকে হাত নিয়ে নাআআআ এ হতে পারে না বলে পটল তোলে।
হাত্তিনের পর সমুদ্র বন্দর আসকালনের উদ্দেশে যাত্রা করেন সালাউদ্দিন। মিসর ও সিরিয়ার মধ্যে অব্যাহত যোগাযোগে আসকালন বাধা সৃষ্টি করছিল। দক্ষিণে রামাল্লা, আইবেলিন ও দারুম দখল করেন তিনি। ১১৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তিনি আসকালনে পৌঁছান। সালাহউদ্দিনের অগ্রবর্তী বাহিনী গাজা, জাফা, টরন, বৈরুত, বায়েত, জিবরিন ও নাট্রুনও দখল করে নেয়। সালাহউদ্দিন জেরুজালেমের বন্দি রাজা গাই ও টেম্পলের মাস্টারকে দামেস্ক থেকে নিয়ে আসেন। ১১৮৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার আসকালন দখল করেন সালাউদ্দিন। হাত্তিনের পর এই ধারাবাহিক বিজয়গুলো মূলত রক্তপাতহীন ভাবে জেরুজালেম দখলের পথ প্রশস্ত করেছিল।
(Visited 66 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *