কাঠবিড়ালি কিংবা ধরাধরির গল্প

স্যার!!! দাঁড়ান দাঁড়ান আপনার পায়খানার রাস্তা দিয়ে কাঠবিড়ালি বের হইছে। আপনার তো ওযু ঠিক নাই।
যোহরের সুন্নতের নিয়ত করতে গিয়ে একটু ধাক্কা খেলেন মকবুল হুজুর। বাইরে থেকে চিৎকার দিয়ে স্যারের নামাজে ডিস্টার্ব করছে সাব্বির।
পাকশীর নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস হাইস্কুলে ইসলাম শিক্ষা পড়াতেন মকবুল হুজুর। চরম বিরক্ত হওয়ার পাশাপাশি রেগে গিয়ে জানতে চাইলেন কি বলিস তুই!!
একটু বোকা বোকা ভাব নিয়ে সাব্বির বলতে শুরু করে। স্যার গতকাল আপনি ক্লাসে কি পড়াচ্ছিলেন মনে আছে? হ্যাঁ অবশ্যই ওযুর গুরুত্ব।
না স্যার আপনিই তো বলেছিলেন ওযু না হলে নামায হয় না। তাহলে আপনার তো এখন ওযু নাই আপনি কিভাবে নামায পড়ছেন।
চরম বিরক্ত হয়ে হুজুর বললেন কি যা তা বলিস। সাব্বির বলে স্যার গতকাল আপনিই তো বললেন প্রস্রাব পায়খানার রাস্তা দিয়ে কিছু বের হলে ওযু থাকে না। বলেছি তো !!!
ঐ দেখেন তিনটা কাঠবিড়ালী দৌড় দিয়ে আমাদের স্কুলের পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হয়ে প্রস্রাবখানার দিকে গেছে। এখনও একটা কাঠবিড়ালি পায়খানার রাস্তার উপর ঘুর ঘুর করছে। সে যেকোনো মুহুর্তে বের হতে পারে!!
২.
শিব্রাম চক্রবর্তীর জ্যাঠার নতুন জামাই। বিলেত ফেরত হওয়াতে তার ধুতি পাঞ্জাবী পরার তেমন অভ্যাস নাই। তবুও শশুর বাড়িতে এসে পূজার সময় মন্দিরে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে একটা ধুতি আর পাঞ্জাবী পরেছে।
ধুতি পরার সময় তার শালাবাবু তাকে হেল্প করলেও যাই হোক সারাদিন তো আর ধুতির কোণা ধরে সে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। কিছুক্ষণ হাঁটাহাটির ফলে একটা সময় যথারীতি ধুতির গিঁট ঢিলা হয়ে গেল।
আস্তে করে একপাশ থেকে আলগা হওয়া ধুতির কাছাটা ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো জামাই বেচারা। তারপর সে কোমরের গিট্টুটা পরখ করে বুঝলো যাই হোক এটা খুলে পড়ার ভয় নাই। তাছাড়া খুললেও ইজ্জতের ব্যাকআপ হিসেবে পাঞ্জাবী তো আছে।
কৌপিন, পাৎলুন পরতে পরতে ঘেমে নেয়ে ভিজে থাকা উরুসন্ধিতে ফুরফুর করে বাতাস লাগছে। টেমস নদীর তীরে বেড়াতে গেলে বসন্তের মৃদুমন্দ হাওয়াও জামাই বেচারার কাছে এতোটা মধুর লাগেনি।
আরেকটু হলেই সে রবি ঠাকুরের মতো গান গেয়ে ওঠে এমন দশা….. ‘আহা আজি এই বা….আ তা … আ সে, উঠলে উঠুক এই ধুতি নীল আকাশে!!!!
যাই হোক হেলেদুলে মন্দিরের তোরণ পর্যন্ত পৌঁছে আস্তে করে ধুতির কাছাটা ছেড়ে দিল সে। একটু পর সবাই মাথা নিচু করে আছেন। জামাইও যথারীতি শশুর মশাইয়ের পেছনে দাঁড়িয়ে মাথা নোয়ালো।
দমকা বাতাসে জামাইয়ের ধুতি বেশ আলগা হয়ে তার অণ্ডকোষ প্রকাশিত। পেছন থেকে একটা ডেঁপো ছোকরা এটা দেখে ক্যাঁক করে ধরেছে। সবকিছুতে একেবারে ধারণা না থাকা জামাই লজ্জা পাচ্ছে।
ততক্ষণে পেছনের ডেঁপো ছোকরা কয়েকবার ইয়েটা ধরেছে আর ছেড়েছে। অনেক্ষণ ধরে চিন্তা করেও জামাই ভেবে পাচ্ছে না এটা কেমন রিচুয়াল। তারপর হঠাৎ লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে হাত বাড়িয়ে ধরে ফেলল শশুরের ইয়েটা।
হঠাৎ এই তাজ্জব আচরণে বিব্রত শশুর আঁ উঁ করে ইয়ে ছাড়াতে চেষ্টা করছেন । পেছন থেকে বেশ জোরে চিৎকার করে উঠল জামাই। ‘বাবা যতোই উঁ আঁ করেন কোনো লাভ নাই, পেছন থেকে ধরাধরি শুরু হয়ে গেছে’।
(Visited 6 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *