নামাজ নাই রোজাও নাই, ইফতারি না করে কাফের হবো নাকি?

বেশিরভাগ বাঙালি মনে করেন নামাজ নাই রোজাও নাই, ইফতারি না করে কাফের হবো নাকি। তাই ছোলা-পিঁয়াজু, বেগুনী কিংবা চপ আর জিলাপী-বুন্দিয়া এগুলো আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। ডায়েটিস্টদের শতশত ঘ্যানঘ্যান প্যানপ্যান আর গ্যাস্ট্রোলজির ডাক্তারদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমরা আর যাই করি ছোলা-পিঁয়াজু বেগুনীমুক্ত রজমান কল্পনাও করতে পারি না। বাঙালি জীবনে এমন কল্পনা অনেকটা হ্যান্ডেলবিহীন সাইকেলের মতো। তাই ছোলা পিঁয়াজু যখন খাবেন একটা বিষয়ে খেয়াল রাখুন ভাজার তেলটা যেন নতুন এবং বিশুদ্ধ হয়। কারণ বাংলাদেশের বেশিরভাগ রেস্তোঁরার বয়স আর তাদের ব্যবহৃত তেলের বয়স কাছাকাছি।

বেহুদা হুজুরদের হুজুরদের ফতোয়া কিংবা বেয়াক্কেল প্রগতীশীলতা ভেক ধরা জন্তুদের বাকোয়াস আচরণ কোনোটাতেই কান দেবেন না। আপনি মনে রাখবেন আপনার সালাত, আপনার সাওম কিংবা ঈমান এটা একান্তই আপনার। অসভ্যের মত কাউকে, বিশেষ করে মেয়েদের কারো কাছে জানতে চাইবেন না আপু… টুট …. টুট… আপনি রোজা আছেন? কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ মেয়ে অন্তত প্রকাশ্যে একথা বলে না যে তার পিরিয়ড চলছে। জলহস্তির মত শরীরের অনেক দানব ঈমানের ঘাটতি থাকায় যেমন গপাগপ গিলবে, তেমনি হাড় জিরজিরে অনেক মানুষ রোজা রাখবে। এটাও ভিন্ন বিষয়।

অনেকে পূজার সময় চিক্কুর দিয়া বলেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তারা এখন চাইলে খুব সহজেই হিন্দু বন্ধুদের ইফতারিতে দাওয়াত করতে পারেন। খাদ্যে ভেজাল দেয়া, খাবারের দাম বাড়ানো, পুরো মাস গপাগপ গিলে রোজদারদের উৎসব ঈদ সামনে রেখে নির্লজ্জের মত শপিং করতে গিয়ে রাস্তায় যানজট বাধানো, যাকাত দেয়ার নামে বাহাদুরি করতে গিয়ে মানুষ হত্যা, ইফতার পার্টির নামে রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা ব্যবসার প্রসার ঘটানো, সেহরী পার্টির নামে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে মদ গিলতে যাওয়া এগুলো হবেই। কারণ নষ্টামিও বাঙালির আর সব সাংস্কৃতিক প্রপঞ্চের মতো হাজার বছরের ঐতিহ্য।

মীরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ আর হাল আমলের কুজাত রাজাকারদের বংশধর এদেশে এখনও আছে। তাই রোজার পক্ষে বিপক্ষে যে যাই বলুক সহমদ ভাই লেখার অভাব নাই। একইভাবে অনেক খচ্চরে মুহাদ্দেস বেয়াক্কেলে ত্যাঁদোড়ের উত্থান ঘটবে। এরা বলে নামায পড়লে ব্যায়াম হয়, রোজা থাকলে পেটের পীড়া দূর হয়। আসলে রোজা আপার আপনার উপর ফরজ এটা ভুলিয়ে দেয়ার জন্য এসব ইতরেরাও অনেকাংশে দায়ী। মনে রাখুন আপনার বিশ্বাস আপনার। যে কবরে আপনাকে দাফন করা হবে সেখানে অন্যকেউ যাবে না। তাই নিজ বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ইবাদত করেন। কেউ এই বিশ্বাসে চিড় ধরানোর চেষ্টা কিংবা বাড়াবাড়ি করলে তাকে এড়িয়ে চলুক। সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা।

(Visited 28 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *