ব্রিটিশ ভারতের শ্বেত সন্ত্রাস এবং প্রহসনের বিচার

মনে প্রাণে ডিকলোনিয়ালাইজেশনের তত্ত্বকে ধারণ করায় আমি ইউরোপকে ঘৃণা করি। আর সেখানে যদি সবথেকে ঘৃণার বিষ ঝরে থাকে খুনে ডাকাত জোচ্চর স্প্যানিশদের উপরে। তার থেকে কোনো অংশে কম ক্ষোভ নেই দোকানদারের জাত থেকে রাজা বনে যাওয়া ব্রিটিশদের উপরেও। গাদ্দারের জাত অনেকেই কালো কোট আর রঙিন টাই বেঁধে ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে গালভরা বক্তৃতা দেয়। আমি ওদের এই চিন্তাধারাটার উপরেও কোনো শ্রদ্ধা রাখি না, বরঞ্চ এই দাসবৃত্তিকে থুতু দেই।

ঘৃণার বিষ আর আন্তরিক ক্ষোভ আর যাই হোক ইতিহাস হয় না। এর জন্য উপযুক্ত তথ্য সূত্র লাগে। ভাগ্যক্রমে Elizabeth Kolsky এর লেখা অনন্য শৈলীর Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law বইটা হাতে এসে পড়ে আমার। মুগ্ধ হয়ে মাত্র দুই রাতের ব্যবধানে পড়ে শেষ করেছি বইটা। তাই প্রিয় পাঠক বইটা নিয়ে কিছু বলা জরুরি মনে করছি।

আগে দেখে নেই বইটাতে কি আছে…

সতর্ক পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে আলোচিত হওয়ার কথা। কিংবা ঠিক এক্কেবারে শুরুতে খেয়াল করুন ফুলটনের মন্তব্যটা কিভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজনে নিয়ে আসা হয়েছে। ঐখানে আসলে দেখানো হয়েছে ভারতীয়দের জন্য ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থা আরোপিত হওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়।

যাই হোক ভারতের নানা স্থানে গোষ্ঠীগত দাঙ্গা বেধে থাকাই মূলত ব্রিটিশদের শান্তিতে এই অঞ্চল শাসন করতে পারা সুযোগ করে দিয়েছিল। তারা তাদের আরোপিত বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে এই গোষ্ঠীগত সংঘাত ও দাঙ্গাকে উষ্কে দিতে চেষ্টা করেছে। এটা নিয়ে লেখক ঠিক প্রথম পৃষ্ঠাতেই বলে গেছেন।

খেয়াল করুন ঠিক প্রথম পৃষ্ঠাতেই কোনো ভনিতা না করে সরাসরি লেখক বলছেন ‘The appalling brutality uncovered at Hunter’s trial provides a sobering counterpoint to current trends in the historiography of eighteenth-century India.3 Rather than revealing an environment of assimilation and accommodation, Hunter’s extraordinary case bears witness to the racial violence that was a constant and constituent element of British dominance in India.’ এখানে লেখকের আর্গুমেন্ট এসব সংঘাত কিভাবে ব্রিটিশদের শাসনকে শক্তিশালী করেছে তা নিয়ে।

তাদের স্বাভাবিক করের চাইতে উপরি কামাই হয়েছিল নীল চাষের মাধ্যমে।  সেখানেও তারা আইনের নামে জঘন্য বর্বরতা তৈরি করেছিল। এগুলোকে আবার স্থানীয়ভাবে হালাল করে দিতে দালালদের পকেট ভারী করেছিল তারা। আর সেই কুকর্মকে মেনে নিতে বাধ্য করার জন্যই একটা চোখে ধাঁধা লাগানো আইনি কাঠামোও দাঁড় করানো হয়েছিল তাদের পক্ষ থেকে।

১০ নং পৃষ্ঠায় গিয়ে আমরা দেখি লেখক বলছেন ‘Of late, historians of certain British colonies have illuminated the intrinsic violence of imperialism, fracturing the benign and bloodless of Pax Britannica by showing its sometimes brutal core. At the same time, some revisionist historians have downplayed and dismissed the violence of the British colonial encounter.”

Aside from a few works that consider merciless British reprisals for acts of native violence, most historians of British India evade the topic altogether, fortifying  – perhaps unintentionally – the assumption that racial violence was marginal to the workings of empire in India. Even a recent account of the embodied experience of the Raj devotes a scant eight pages to the history of corporeal violence.

আমরা সহজেই বুঝতে পারি Elizabeth Kolsky, তার Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law, বইতে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। তিনি দেখিয়েছে প্রতিদিনের যত সংঘাত হয়েছে তার পেছনে ব্রিটিশদের মদদ ছিল কোন দিক থেকে। ব্রিটিশরা চেয়ে চেয়ে দেখেছে এদেশের মানুষ ধর্ম আর সাম্প্রদায়িকতার নামে কামড়া কামড়ি করছে। তারপর সেখান থেকে সুযোগ নিয়েছে।

বেশিরভাগ ধর্মীয় কিংবা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কিংবা সংঘাতের পর বিচারগুলো গিয়ে আছড়ে পড়েছে ব্রিটিশদের কোর্টেই। আর এই বিচার করার ক্ষমতার পাশাপাশি মানুষের মাঝে ভেদাভেদ তৈরি করে রাখার চালাকিটােই তারা করে গেছে যুগের পর যুগ। অন্যদিকে এই সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বাইরে আরও নানা বিষয় সম্পর্কিত ব্রিটিশ আইনেরও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কোথাকার কোন নিখিলেশ তার বউ অপর্ণাকে ধরে ঠ্যাঙ্গাচ্ছে কিংবা গাঁও গেরামের কোন আবুল হোসেন তার বউ জরিনাকে বাঁশ দিয়ে পেটাচ্ছে এগুলোর বিচারের ভারও গিয়ে পড়েছিল ব্রিটিশদের উপর। আর তারা এগুলোর প্রত্যেকটা থেকে সীমাহীন ফায়দা লুটেছে। তারা বুদ্ধি করে এমন সব আইনই তৈরি করেছিল যেগুলো এই অঞ্চলের বলদ জনগোষ্ঠীকে খেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ হয়।

আদালত কক্ষের মধ্যে ব্রিটিশ বিচারকরা এমন পরিবেশ তৈরি করেছিল যার মাধ্যমে এই অঞ্চলের শ্রেণি সংঘাত আরও বেড়ে যায়। মানুষ একপক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করতে করতে খতম হয়। আর ঐ ফাঁকে মনের সুখে তাদের উপর ছড়ি ঘোরাতে পারে ব্রিটিশরা। সহজ ভাষায় বললে ব্রিটিশদের বিভাজনের যে নীতি তাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল তাদের আইন।

পাঁচটি ধাপে তারা এটা করেছে বলে এই বইটিতে বর্ণনা করা হয়েছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে প্রথমে ব্রিটিশর চেষ্টা করেছে এই অঞ্চলে ঘটা যত কুকর্ম আর আকাম আছে সেগুলোকে জড়ো করা। তারপর  non-official Europeans দের কাজে লাগিয়ে অপরাধীদের সাইজ করা। আর এভাবেই তারা বেশ শান্তিতে late eighteenth and early nineteenth centuries পার করে ফেলে।

এখানে  Kolsky বস্তা বস্তা collection of official documents ব্যবহার করেছেন। তিনি “European Misconduct in India 1766–1824”  শিরোনামে বর্ণনা করেছেণ  আইনগত সংঘাত আর আইনের ফাঁক গলে হওয়া সংঘাতগুলোর অভিন্ন চরিত্র। এগুলো তখনকার ভারতে একটা unbridled aggression এর ভিত্তি রচনা করে।  আর এর বাইরে তারা ঐসব  European দেরও সাইজ করেছিল যারা তাদের social and political stability বিনষ্ট করার জন্য ময়দান এবং ময়দানের বাইরে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

আমরা এখানে জনৈক মদখোর লাতখোর সাগরসৈনিক Douglas Peers রে দেখতে পাই। সে নানা দিক থেকে ব্রিটিশদের পুঙ্গি বাজানোর চেষ্টা করছে। পরে ব্রিটিশরা ঠাণ্ডা মাথায় তারে আইন আদালত কাজে লাগাইয়া খাইয়া দিছে।  আমরা বিভিন্ন ইতিহাসবিদের কলমে ‘ The labor violence of indigo planters who enforced unfair contracts and the gender violence against wives and female domestic servants points’ নিয়ে অনেক আবেগী গল্প পড়ি। এগুলোকে প্রাণিত করার পেছনেও দায় ছিল ব্রিটিশদের। শ্লার্পুতেরা এমন এক কাজ করছে দেশীয় পাঁঠাগুলোরে দিয়ে বোলিং করাইছে, তারপর আদালতে মধ্যে বইসা প্রত্যেক বলে খেয়ালখুশি ছক্কা পিটাইছে যখন যে বলে প্রয়োজন ঠিক সেই বলেই।

তবে দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে বইটার সতর্ক অধ্যয়ন জরুরি। সেখানে বিভিন্ন law codes এবং বিশেষত the Code of Criminal Procedure নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এভাবে ঔপনিবেশিক ভারতের খাটাশগিরি বোঝার জন্য বইটি দুর্দান্ত একটিা অবলম্বন হতে পারে। তবে আমি ইতিহাসের লোক। তাই এসব আইন নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করার আগ্রহ পাইনাই। যেটুকু ইতিহাসের সূত্র ছিল পড়া শেষ। প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো মার্ক করে নিলাম। সেই সঙ্গে আগ্রহী পাঠকের দৃষ্টিগোচরে আসার জন্য এই পোস্ট রেখে দিলাম।

(Visited 143 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *